প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কায়কোবাদ ও মঞ্জুর মুন্সীর কপালে ভাঁজ, মুরাদনগর–দেবীদ্বারে বিএনপির শক্ত ঘাটি বেহাত হওয়ার শঙ্কা

শাহ মোফাজ্জ্ল হোসেন কায়কোবাত 20251128 122710 0000
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মুরাদনগর-দেবীদ্বার- “আসন সমঝোতায় কপাল পুড়তে পারে, কায়কোবাদ ও মঞ্জুর মুন্সীর সরাসরি অংশগ্রহণেই নির্বাচনের উত্তাপ নির্ধারিত হবে”

মুরাদনগর দেবীদ্বার নির্বাচন সামনে থাকায় কুমিল্লার মুরাদনগর ও দেবীদ্বার আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলেছে। মুরাদনগরের সাবেক পাঁচবারের এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দেশে এসে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। একইভাবে দেবীদ্বারের তিনবারের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও এলাকায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন। উভয় নেতা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং ভোটারদের সমস্যা শুনছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, নতুন ও অপরিচিত দল বা অজনপ্রিয় প্রার্থীদের কারণে দুই প্রভাবশালী নেতা মাঠে না নামলে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম হতে পারে। বিএনপির জনপ্রিয় এই দুই নেতার মনোনয়ন বঞ্চিত হলে তাদের অনুসারীরা ভোটের মাঠে না যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে মুরাদনগর–দেবীদ্বার এলাকায় বিএনপির ভবিষ্যত প্রভাবও প্রশ্নবিদ্ধ।

বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মো. মাহফুজ আলম নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা তফসিল ঘোষণার আগে পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগের পর উপদেষ্টা পরিষদে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) জোটে নেওয়ার প্রস্তাব কম সমর্থন পাওয়ায় আলোচনা স্থগিত হয়েছে। এনসিপি নেতাদের মধ্যে অনেকে বিএনপির সঙ্গে জোট করতে চাইছেন, আবার কেউ স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। ফলে শেষ মুহূর্তে এনসিপি ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মুরাদনগরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশেষ। ৩৪০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের উপজেলার ২টি থানা, ২২টি ইউনিয়ন ও ৩১৫টি গ্রাম নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের ভোটার সংখ্যা আড়াই লক্ষের বেশি। কায়কোবাদ দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা অটুট। তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগদান করে ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হন।

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “কায়কোবাদকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশের বাইরে রাখা হলেও তার জনপ্রিয়তা কমানো যায়নি। তিনি মুরাদনগরের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। আশা করছি তার মনোনয়ন পরিবর্তন হবে না।”

দেবীদ্বার আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে। এনসিপি মনোনয়ন দিয়েছে হাসানাত আবদুল্লাহকে। তবে আসন ভাগাভাগি হলে মুরাদনগর লড়বেন স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আর দেবীদ্বারে লড়বেন এনসিপির দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসানাত আবদুল্লাহ। উভয়েরই স্থানীয় জনপ্রিয়তা সীমিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মুরাদনগর দেবীদ্বার নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন ভাগাভাগি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ দুই আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অপ্রত্যাশিত মোড় দিতে পারে। জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশকে উজ্জীবিত করেছে। সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এখন কেবল অপেক্ষা করছেন, কে মাঠে থাকবে, কারা স্বতন্ত্রভাবে লড়বেন, এবং আসন ভাগাভাগি কেমন প্রভাব ফেলবে—এটি ভোটের দিনই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।

প্রিন্ট করুন