এভারকেয়ারে বিজিবি মোতায়েন—বিজয় দিবস নস্যাৎ পরিকল্পনা কি চলছে?
এভারকেয়ারে বিজিবি মোতায়েনকে ঘিরে তীব্র জল্পনা—বিজয় দিবস নস্যাৎ করার কোনো পরিকল্পনা কি চলছে? খালেদা জিয়ার সংকটময় অবস্থা ও কঠোর নিরাপত্তা ঘিরে ওঠা প্রশ্ন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিজিবি মোতায়েন হঠাৎ করে তীব্র জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় সিসিইউতে চিকিৎসাধীন, ঠিক তখনই কঠোর নিরাপত্তা ও দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ব্যাখ্যা–বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে হাসপাতালের সামনে বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। একজন বিজিবি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সার্বিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই এভারকেয়ারের সামনে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে—এক প্লাটুন গেট এলাকায়, আরেক প্লাটুন টহলে রয়েছে।
এর আগেই হাসপাতালের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয়। তারপরও বিএনপির বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ঘিরে অবস্থান নেন, উদ্বিগ্ন মন নিয়ে অপেক্ষা করছেন নেত্রীকে ঘিরে যেকোনো আপডেটের।
এদিকে একাধিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এত কঠোর নিরাপত্তা কি শুধুই নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা, নাকি কোনো “Meticulous Plan”?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ সন্দেহ প্রকাশ করছেন—খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাপা রাখার কোনো গোপন পরিকল্পনা কি চলছে, যাতে বিজয় দিবসকে নস্যাৎ করে স্বাধীনতা–বিরোধী চক্র ‘শোকের দিন’ হিসেবে প্রচারণা চালাতে পারে?
ইতিহাসের জটিলতার কারণে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে “জন্মদিন” বানিয়ে নেওয়ার ঘটনাটিও আবার আলোচনায় এসেছে।
উল্লেখ্য, ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ বহু গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। দুদিন আগে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে তাকে “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি” ঘোষণা করে ইতোমধ্যে এসএসএফ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। কঠোর নিরাপত্তা, ক্রমাগত বাড়তি নজরদারি এবং এখন বিজিবি মোতায়েন—সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্নের ঝড় থামছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন—এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক—তা সময়ই বলে দেবে। তবে কঠোর নিরাপত্তার তীব্রতা নতুন রাজনৈতিক জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই অনেকের অভিমত।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী