
স্লোগান ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, কাজে শুধু জেলা সংস্কার—আসিফ মাহমুদের প্রকল্প ফিরিয়ে দিল কমিশন
অভ্যুত্থানের মঞ্চে বজ্রকণ্ঠে শাসনব্যবস্থা বদলের ডাক দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া উপদেষ্টার চেয়ারে বসেই যেন প্রথমে মনে করলেন—“আগে জেলা, পরে দেশ”। কুমিল্লার মুরাদনগরকে কেন্দ্র করে নেওয়া একের পর এক প্রকল্প এখন সেই ‘নতুন রাজনীতির’ বাস্তব নমুনা হয়ে পরিকল্পনা কমিশনের টেবিল ঘুরে ফেরত আসছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে নিজ উপজেলা মুরাদনগরের আর্চি নদ ও বুড়ি নদী পুনঃখননে ৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। গত অক্টোবরে এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও সম্প্রতি কমিশন জানিয়ে দেয়—প্রকল্প নেওয়ার সময় নিয়ম-কানুন মানার বালাই নেই।
এখানেই শেষ নয়। কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘুংঘর নদী ও খাল পুনঃখননে ৪৫ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প একই পরিণতির শিকার হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভাষ্য, জনবল লাগবে কত—তা ঠিক করতেই নাকি কেউ ভাবেননি। লাল ক্যাটাগরির প্রকল্প হয়েও সমীক্ষা ছাড়াই কোটি টাকার স্বপ্ন আঁকা হয়েছে।
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দুটি প্রকল্প আলাদা করে নয়—একীভূত করে সমীক্ষার পর বাস্তবায়ন করা উচিত। অর্থাৎ, উপদেষ্টার তাড়াহুড়োতে রাষ্ট্রীয় নিয়ম চাপা পড়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে কুমিল্লা জেলার সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রস্তাবিত ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পে। এটিও একনেকে অনুমোদন না পেয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মোস্তাফিজুর রহমান জানালেন, প্রকল্পটি এখনো ‘প্রক্রিয়াধীন’—অর্থাৎ রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও কাগজপত্রের হালচাল নেই।
এদিকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর মন্ত্রণালয়ে চলছে বড় ধরনের রদবদল। আগের উপদেষ্টার পিএসসহ ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, আসিফ মাহমুদের সময়ে নেওয়া বেশ কিছু প্রকল্পই এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের খাতায়।
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তিন মাস পর স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার দায়িত্ব পান অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অন্যতম আসিফ মাহমুদ। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতেই স্পষ্ট হয়ে যায়—ক্ষমতা থাকলে নিয়ম উপেক্ষা করা যায়, ক্ষমতা গেলে নিয়মই শেষ কথা।
পরদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আদিলুর রহমান খান। আর আসিফ মাহমুদের রেখে যাওয়া ‘নিজ জেলা উন্নয়ন স্বপ্ন’ এখন পরিকল্পনা কমিশনের ফাইলে আটকে থাকা একটি ব্যঙ্গাত্মক অধ্যায়।

