প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সামনে ইউসুফ সোহেল, পেছনে আসিফ মাহমুদ–কিবরিয়া : কায়কোবাদের বিরুদ্ধে রিটের প্রস্তুতি

20260120 220153
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সামনে ইউসুফ সোহেল, পেছনে আসিফ মাহমুদ–কিবরিয়া——-
কুমিল্লা–৩ এ কায়কোবাদের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে রিটের প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেলকে সামনে রেখে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সাবেক বহিস্কৃত বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া সরকার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফ সোহেল ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং রিট দায়েরের আইনি প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে আসিফ মাহমুদের নির্দেশনা ও কিবরিয়া সরকারের সমন্বয়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, “মুখ ইউসুফ সোহেল, নেপথ্যের কুশীলব আসিফ–কিবরিয়া।”
এই রিটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মুরাদনগরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগে যে এলাকায় তুলনামূলক শান্ত নির্বাচনী পরিবেশ ছিল, সেখানে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ভোটার প্রকাশ্যেই এটিকে “নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এখনো সুদৃঢ় করতে না পারায় আসিফ মাহমুদ ও কিবরিয়া সরকার পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার কৌশল নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কায়কোবাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ নানা ইস্যু তুলে ধরে আইনি লড়াইয়ের নামে মাঠের রাজনীতিকে অচল করার চেষ্টা চলছে, যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপি এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাবে কি না—সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই অনিশ্চয়তাকেই হাতিয়ার করে কুমিল্লা–৩ আসনে পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে।
মুরাদনগরের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ধারাবাহিকভাবে বিএনপিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। এর অংশ হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি পাঁচবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০০৮ সালের মতো প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নিজের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করেছেন। তবে বিদেশে থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সাংগঠনিক কাঠামো সচল রেখেছেন।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভিত্তির কারণেই কায়কোবাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে শঙ্কিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রিট ও গুজবের আশ্রয় নিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। তাদের ভাষায়, “ভোটের মাঠে হার নিশ্চিত জেনেই এখন আদালতের পথ নেওয়া হচ্ছে।”
আপনি চাইলে আমি এটাকে
আরও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভার্সনে,
আইনি ভাষা একটু কমিয়ে মাঠের ভাষায়,
অথবা অনলাইন/ফেসবুকের জন্য সংক্ষিপ্ত হার্ড ভার্সন হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।

প্রিন্ট করুন