জনআস্থার মহাবিজয়, মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন কায়কোবাদ
দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষা শেষে অবশেষে পূর্ণমন্ত্রী পেল কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের মানুষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। তার এই অভিষেককে স্থানীয়রা দেখছেন অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা ও জনআস্থার মহাবিজয় হিসেবে।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের জন্য ডাক পেয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে টেলিফোনে তাকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হয়। বিষয়টি তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ ঘিরে মুরাদনগরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন কায়কোবাদ—ধর্ম, সমাজকল্যাণ নাকি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। উপজেলা জুড়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত একটাই প্রশ্ন, কোন মন্ত্রণালয়ে দেখা যাবে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে?
মুরাদনগর সর্বশেষ মন্ত্রী পেয়েছিল ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে, যখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রথমে শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত স্বল্পস্থায়ী সরকারে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর এ আসনে আর কোনো পূর্ণমন্ত্রী আসেনি।
কায়কোবাদের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ ও ২০০৮ সালে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো বিজয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন।
তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ। ১৯৮৯ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ (প্রতিমন্ত্রী সমতুল্য) এবং ১৯৯০ সালে ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৯টি ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কায়কোবাদ পেয়েছেন ১,৫৮,০৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেল (দাড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১,০৪,৫৮০ ভোট। ফলে ৫৩,৫১৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।
মুরাদনগর আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৯টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২৬ জন। বিপুল ব্যবধানের এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জনআস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং ২০২৪ সালে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। এমনকি কোনো মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদও এ আসনে আসেনি গত এক দশকে।
অবশেষে তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিক কায়কোবাদ মন্ত্রিসভায় শপথ নিতে যাচ্ছেন—যা মুরাদনগরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী