
মুরাদনগরের স্বপ্নপূরণ: ৩০ বছর পর ধর্মমন্ত্রীর শপথ নিলেন কায়কোবাদ
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ আসন থেকে কোনো পূর্ণমন্ত্রী দায়িত্ব পেলেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। নতুন সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জয় পেয়ে কায়কোবাদ ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। স্বাধীনতার পর এ জেলায় কোনো নেতা ছয়বার এমপি হতে পারেননি।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ১৫৯টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলে কায়কোবাদ পেয়েছেন ১,৫৮,০৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,০৪,৫৮০ ভোট। ৫৩,৫১৩ ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭২৬ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে একাধিক নেতা চার বা পাঁচবার নির্বাচিত হওয়ার নজির থাকলেও ছয়বারের রেকর্ড এবারই প্রথম। কুমিল্লা-১১ ও সাবেক কুমিল্লা-১২ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে পাঁচবার জয় পান অধ্যাপক আলী আশরাফ। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসন থেকে চারবার নির্বাচিত হন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে চারবার জয় পান এম কে আনোয়ার। কুমিল্লা-৬ (সদর) আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হন আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসন থেকে চারবার জয় পান আব্দুল মতিন খসরু।
কায়কোবাদের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ ও ২০০৮ সালে জয়লাভ করেন। সর্বশেষ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো বিজয় নিশ্চিত করেন।
তিনি ১৯৮৯ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং ১৯৯০ সালে ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।
মুরাদনগর সর্বশেষ মন্ত্রী পেয়েছিল ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে। সে সময় বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী, পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং স্বল্পস্থায়ী ১৯৯৬ সালের সরকারে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর এ আসন থেকে আর কোনো পূর্ণমন্ত্রী দায়িত্ব পাননি।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ আসন থেকে নির্বাচিত ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং ২০২৪ সালে নির্বাচিত জাহাঙ্গীর আলম সরকার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। এমনকি কোনো সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও গত তিন দশকে এ আসনে আসেনি।
ধর্মমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে কায়কোবাদ মুরাদনগরের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।

