প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

শূন্য কুমিল্লা-৪-এ নতুন আশার নাম সুফিয়া—সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের জোর দাবি

20260228 110951 0000
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

দেবীদ্বারসহ উত্তর কুমিল্লার প্রত্যাশা—সংরক্ষিত আসনে সুফিয়াকে মনোনয়নেই কাটবে কুমিল্লা-৪ শূন্যতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে (বিএনপি)। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসেই এসব আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফলে মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেত্রীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।

কুমিল্লার সংরক্ষিত নারী আসনেও একাধিক নেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি । দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, দেবীদ্বার তথা উত্তর কুমিল্লায় বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সুফিয়ার বিকল্প নেই।

১৯৭৭ সালের ১০ অক্টোবর কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার পৈরাংকুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুফিয়া বেগম। তাঁর পিতা মরহুম আবদুল মালেক ও মাতা মরহুম মমিনা খাতুন। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী ডা. সফিউল আলম চৌধুরী।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৯৩ সালে বড়শাল ঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৫ সালে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯৮ সালে একই কলেজ থেকে বিএসএস এবং ২০০৫ সালে ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজ থেকে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বড়শালঘর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক জীবনে সুফিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়। ২০১৭ সাল থেকে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২২ সালের কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সদস্য। দলের দুর্দিনে দেবীদ্বার, মুরাদনগর, চান্দিনা, হোমনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা এলাকায় সংগঠন সচল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। হামলা-মামলা মোকাবিলা করে মাঠে অবস্থান করেন এবং ২০২৩ সালে জেলা বিএনপির পদযাত্রায় আহত হন। একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হিসেবেও তিনি পরিচিত। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তিনি অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য না থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা রয়েছে। তাদের মতে, অতীতে নানা কৌশলে এ আসনে বিএনপির রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত নারী আসনে সুফিয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া হলে উত্তর কুমিল্লার নেতাকর্মীরা নতুনভাবে উজ্জীবিত হবেন।

এ বিষয়ে সুফিয়া বেগম বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কল্যাণে কাজ করতে চান। ইতোমধ্যে দলের চেয়ারম্যানের কাছে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর আশা, দল তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদান মূল্যায়ন করবে।

উত্তর কুমিল্লার তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দুর্দিনে পরীক্ষিত ও সংগঠক হিসেবে প্রমাণিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সুফিয়া বেগমই হবেন সংরক্ষিত নারী আসনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো এলাকা।

প্রিন্ট করুন