প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লাঙ্গলবন্দ সেতু সংস্কারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট, গজারিয়া অংশে চরম দুর্ভোগ

image 183962 1746072524
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সংস্কার কাজে গজারিয়া অংশে ১৩ কিলোমিটারজুড়ে স্থবিরতা, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও চালকরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে ঢাকামুখী লেনে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিবার (১ মার্চ) মধ্যরাত থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অবস্থিত লাঙ্গলবন্দ সেতু-এর সংস্কার কাজ শুরু হয়। সেতুর ওপর আংশিকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় ঢাকামুখী লেনে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ধীরগতি রূপ নেয় দীর্ঘ যানজটে। পরবর্তীতে সোনারগাঁও অংশের যানজট ছড়িয়ে পড়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া পর্যন্ত, ফলে পুরো মহাসড়কে স্থবিরতা নেমে আসে।

ঢাকাগামী ট্রাকচালক ফরিদ মিয়া জানান, “রাত তিনটার দিকে দাউদকান্দি ব্রিজ পার হওয়ার পর থেকেই যানজটে আটকে আছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও সামনে এগোতে পারছি না। মালামাল সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে আমাদেরই দায় নিতে হয়।”

বহুদিন পর গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে দুর্ভোগে পড়েন নারী সাংবাদিক ফাহিমা বেগম প্রিয়ার স্বামী। তিনি বলেন, “সকাল থেকেই আমার স্বামী কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে ঢাকার শনির আখড়ার বাসায় আসার কথা ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেলেও তিনি পৌঁছাতে পারেননি। এই ভোগান্তির জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছি।”

প্রাইভেটকার চালক খোকন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “গজারিয়া অংশের ঢাকামুখী লেনের প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। কুমিল্লামুখী লেনে কিছুটা চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকামুখী লেনে আড়াই ঘণ্টা বসে থেকেও মেঘনা ব্রিজ পার হতে পারিনি। স্বাভাবিক সময়ে এই পথটুকু অতিক্রম করতে মাত্র ৮-১০ মিনিট লাগে।”

গজারিয়ার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শওকত হোসেন জানান, “নারায়ণগঞ্জ অংশে ক্ষতিগ্রস্ত লাঙ্গলবন্দ সেতুর সংস্কার কাজ চলমান থাকায় রবিবার মধ্যরাত থেকে ঢাকামুখী লেনে যানজট সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে গজারিয়া অংশে ছড়িয়ে পড়ে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।”

এদিকে, হঠাৎ করে এমন বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরুর আগে পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রিন্ট করুন