
ত্যাগ না তদবির—বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মুরাদনগরের নারী সাংবাদিককে ঘিরে জল্পনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজানের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ, জোরদার হয়েছে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া। বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সেই অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে দলটি পেতে যাচ্ছে ৩৫টি আসন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে কুমিল্লা উত্তর জেলার মুরাদনগরে আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক নাম। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছেন মুরাদনগরের কৃতী নারী সাংবাদিক ফাহিমা বেগম প্রিয়া।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফাহিমা বেগম প্রিয়া (জাতীয় পরিচয়পত্র এনআইডি নং: (৯১৬ ৩৬৭ ৬৮১১( ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পায়ব গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ রমিজ উদ্দিন ও মাতা আলহাজ পারভীন বেগম। তার স্বামী কাজিয়াতল গ্রামের মুন্সী বাড়ির হাফেজ শুয়াইবুল হুসাইন (শাহজান মুন্সী)। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী।
দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নারী সাংবাদিক আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির (২০২২-২০২৪) নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠন যেমন ফ্রী প্রেস আনলিমিটেড (Free Press Unlimited), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট (International Federation of Journalists (আইএফজে) এবং রোরিপেক ট্রাস্ট (Rory Peck Trust)–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করেছেন। তার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অনিয়ম-অত্যাচারের সংবাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা যাবে। সেই বিবেচনায় ফাহিমা বেগম প্রিয়ার নাম আলোচনায় থাকা স্বাভাবিক বলেও মত দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
এ বিষয়ে ফাহিমা বেগম প্রিয়া বলেন, “ছাত্রজীবন থেকে দলের কার্যক্রমের সঙ্গে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। দল মূল্যায়ন করুক বা না করুক, আমি আমার আদর্শে অটল।” তিনি আরও বলেন, কোনো পদ বা মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘোরা তার রাজনীতির ধরণ নয়। “আমি ফুল নিয়ে যদি কারও দরজায় যাই, তবে তা হবে অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের কাছে,”—বলেন তিনি।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ব্যক্তিগত পদ-পদবির জন্য কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। তবে এলাকার জনগণের স্বার্থ ও দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রয়োজনে কথা বলতে প্রস্তুত আছেন। তিনি অভিমানের সুরে বলেন, “দলের দুর্দিনে কে কী করেছে, তা দলের নীতিনির্ধারকরা জানেন। আমি বিশ্বাস করি, যথাসময়ে মূল্যায়ন হবেই।”
সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুরাদনগরে এখন দেখার বিষয়—দলীয় মনোনয়নে শেষ পর্যন্ত কার নাম চূড়ান্ত হয়।

