প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আজহারুলের স্বীকারোক্তি: ‘জুলাই না হলে ফাঁসির সেল থেকেই সংসদে আসা সম্ভব ছিল না’

FB IMG 1773404173264
মো. নেসার উদ্দিন

ফাঁসির সেলের আসামি আজ সংসদে! আজহারুলের মুখেই ফাঁস—‘জুলাই না হলে আমি সংসদে আসতে পারতাম না’

“যদি জুলাই ২৪ না হত, আমার মতো লোক ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারত না”— এমন বক্তব্য দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও জামায়াত নেতা ATM Azharul Islam। তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে তথাকথিত “জুলাই রাজনীতির” অন্তরালের বাস্তবতা।
সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত থাকা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত এই ব্যক্তির অতীত ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে রংপুর অঞ্চলে একাধিক হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও অপহরণের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিচারিক রায়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল রংপুরের মোকসেদপুর গ্রামে পাকিস্তানি সেনা ও সহযোগীদের সঙ্গে হামলা চালিয়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল। পরদিন ১৭ এপ্রিল ঝাড়ুয়ার বিল সংলগ্ন হিন্দু অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে পরিকল্পিত হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং আরও দুই শতাধিক মানুষ অপহরণের ঘটনায়ও তাকে দায়ী করা হয়।
এছাড়া ৩০ এপ্রিল রংপুর কারমাইকেল কলেজের চারজন হিন্দু অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপকের স্ত্রীকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনাতেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা আদালতে প্রমাণিত হয়।
সমালোচকদের মতে, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তির সংসদ অধিবেশনে উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটাই কি সেই “নতুন বাংলাদেশ”, যেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিও সংসদের আসনে বসতে পারেন?

প্রিন্ট করুন