কুমিল্লা-৩ সাংসদের ছোট ভাইয়ের চোখে সৌদি জেলের কান্না: বাংলাদেশি শ্রমিক পাঁচ মাস থানার ধাক্কা খেয়ে ভুগছে
মুরাদনগরের ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বোড়ারচর গ্রামের এক যুবক সৌদি আরবে গুরুতর সমস্যার মধ্যে আটকা পড়েছেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাংসদ ও বর্তমান সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেনের ছোট ভাই কাজী শাহ আরেফিন, যিনি যুবকটির হতাশা ও কান্নার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন।
আরেফিন লিখেছেন, “আজ আমি মসজিদ কুবা-তে ইফতারের জন্য গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে এক যুবক আমাদের কাছে এসে ভেঙে পড়ল। সে পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি গিয়েছিল। বিমানবন্দরে তার সঙ্গে থাকা কিছু ওষুধের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলে ১৬ দিন থাকার পরও তাকে প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজির হতে হচ্ছে। এখন সে কাজ করতে পারছে না এবং দেশে ফিরতেও পারছে না।”
যুবকটির সঙ্গে ছিলেন আরেফিনের বন্ধু আব্দুল কাদের, যিনি বিশ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন এবং বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য আদালতে দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন। কাদের যুবকটির সমস্যার কথা শুনে তাকে সাহায্য করার উপায় বের করতে সহযোগিতা করেছেন।
যুবক জানিয়েছেন, তার সঙ্গে থাকা ওষুধ মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য, কারণ সে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাংজাইটি ও চাপের সমস্যায় ভুগছিল। কিন্তু বিদেশে এই ওষুধ নিষিদ্ধ হওয়ায় তাকে জেল এবং থানার নিয়মিত হাজিরার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার কান্না এবং হতাশা আরফিন এবং কাদেরের চোখে পড়েছে, যা মানবিক সহানুভূতির গল্প তৈরি করেছে।
আরেফিন ও কাদের যুবককে সাহায্য করার জন্য মেডিক্যাল ডকুমেন্ট সংগ্রহ, অনুবাদ এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চেষ্টা করছেন যেন যুবকটি নিরাপদে সাহায্য পায় এবং ভবিষ্যতে আদালতের জটিলতা এড়াতে পারে।
ঘটনাটি প্রমাণ করে, বিদেশে নাগরিকরা কতটা সহজেই আইনগত জটিলতা, সামাজিক চাপ এবং মানসিক কষ্টে ভুগতে পারেন। শুধু যুবকই নয়, তার পরিবারও এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
আরেফিনের মানবিক প্রচেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়: বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়ানো মানে শুধু নিয়ম-কানুন নয়, মানবিক দায়িত্ব পালন করা। বিদেশে যাওয়ার আগে আইন ও নিষিদ্ধ জিনিস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। অজান্তে কোনো ভুল পদক্ষেপ পুরো জীবনকে বিপদে ফেলতে পারে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী