লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে ৩২ জন জীবিত উদ্ধার, মৃত ২; বাংলাদেশিসহ বহু দেশের নাগরিকদের করুণ পরিণতি
ইতালির উপকূলের কাছে আবারও একটি মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি দেয়া একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে গিয়ে বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। ছোট আকারের ওই নৌকাটিতে মোট ১০৫ জন আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৭১ জন সমুদ্রে হারিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য থেকে জানা গেছে—এটি চলতি বছরের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুইজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিকরা ছিলেন। ইতালির কোস্টগার্ডের একটি টহল জাহাজ উদ্ধারকৃতদের নিরাপদে নিয়ে যায় এবং পরে তাদের ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। তারা সমুদ্র থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং জীবিতদের উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্ধারকারী সংস্থা মেডিটারেনিয়া সেভিং হিউম্যানস এবং সি-ওয়াচ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
প্রবাস জীবন নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যদাতা বাংলাদেশি সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আবারও ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ার উপকূলে শতাধিক যাত্রীসহ একটি নৌকা তলিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে, দু’জনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং অন্তত ৭০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।”
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনায় জানা যায়, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় অনেক যাত্রী পানিতে পড়ে যান এবং সাহায্যের জন্য আকুতি জানাতে থাকেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উল্টে যাওয়া একটি কমলা রঙের নৌকার সঙ্গে কয়েকজন মানুষ ঝুলে আছেন—যা পুরো ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এদিকে, ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রোববার দেশটিতে ইস্টার সানডে উদযাপিত হওয়ায় প্রশাসনিক তৎপরতা কিছুটা সীমিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছর ভূমধ্যসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রপথে অভিবাসন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৬৮৩ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৪ সালের পর অন্যতম সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের মধ্যে একটি।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী