প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১০ বছরেও বিচারহীন তনু হত্যা—অবশেষে ৩ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের

1775474386818
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

দীর্ঘ তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় নতুন মোড়; অবসরপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তির ডিএনএ মিলিয়ে দেখার নির্দেশ, বিচার চান বাবা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর অবশেষে মামলায় নতুন অগ্রগতির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তিনি আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল, তবে সেগুলোর সঙ্গে কারও মিলিয়ে দেখা হয়নি। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন সন্দেহভাজন ওই তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। উল্লেখিত তিনজন ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে।
মামলার ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর দীর্ঘ ১০ বছর ধরে থানা-পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও সর্বশেষ পিবিআই মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো সুস্পষ্ট রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। গত কয়েক বছরে একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল না।
সোমবার আদালতে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “দেশের সব হত্যার বিচার হলে আমার মেয়ের বিচার হবে না কেন? ১০ বছর ধরে আমরা শুধু বিচার চেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় তনু হত্যার বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমি এখন তার সঙ্গে দেখা করে আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাইবো।”
দীর্ঘ এক দশক পেরিয়েও বিচার না হওয়ায় তনু হত্যাকাণ্ড আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতের এই নির্দেশে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

প্রিন্ট করুন