একদিকে সংসদে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে প্রতিবাদে সোচ্চার জনতা—রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাসের ঘটনায়। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে—বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সাবেক কূটনীতিক ও প্রোফাইল রাইটার হারুন আল রশিদ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে মরক্কোর রাবাতে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক রাষ্ট্রদূত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন—
“আজ ৮ এপ্রিল ২০২৬ আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান ঘোষণা করলাম।”
তার এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, সংসদে পাস হওয়া এই বিলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অনেকেই নিজেদের “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী” হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পোস্ট করছেন এবং এটিকে স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে “জাতীয় সংসদের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়” হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির দাবি, তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং এটি দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন পদক্ষেপ দেশকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতারা বিশ্বাস করেন, জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো শক্তিই একটি রাজনৈতিক দলকে থামাতে পারে না। দমন-পীড়ন বা আইনের অপপ্রয়োগ কখনোই স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না—বরং সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা বাড়ায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সবশেষে তাদের বক্তব্য—
“জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় অবশ্যম্ভাবী, ইতিহাসের চেতনায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী