“নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি; একজন আসামি গ্রেপ্তার, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে পুলিশ”
রোববার সকালে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ–নবীনগর সড়কের বাঙ্গরা ডাকবাংলোর সামনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে থানার সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একজন নিরীহ কৃষককে রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখনো মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। নিহত মাওলা সরকারের পাঁচটি শিশু সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ১ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। বক্তারা বলেন, “শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পুরো পরিবারকে নিঃশেষ করা হয়েছে।”
তারা আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মহেশপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়া বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকি। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নিহতের স্বজনরা বলেন, আমরা আমাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছি, এখন একটাই দাবি—হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন মহেশপুর গ্রামে কৃষক মাওলা সরকারকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেচ প্রকল্প নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল কাদের জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফাহিমা বেগম প্রিয়া