1. nagorikit@gmail.com : Mohammad Shariful Alam Chowdhury :
  2. sharifulchowdhury81@gmail.com : administrator :
  3. : Temp User : Temp User
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে “দ্বিতীয় বিপ্লব” শব্দটি এখন অনেকটা  
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
  •                      
ব্রেকিং নিউজ:
নিষিদ্ধের দিনেই উল্টো স্রোত,ফেসবুকে বিক্ষোভের ঝড়, আ’লীগে যোগ দিয়ে শক্ত বার্তা হারুন আল রশিদের! কুমিল্লা মেডিকেলে শিশুদের ‘গাদাগাদি’—দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল! নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনা: মুরাদনগরের বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু ভুয়া ওয়ারেন্টে সাংবাদিক আটক—১৮ ঘণ্টা পর আদালতে মুক্তি, দেবীদ্বারে তোলপাড়! ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, ৫৯ কোটির সাম্রাজ্য—পাসপোর্ট কর্মকর্তার সম্পদে চাঞ্চল্য! ৩ মাসে ২৫০ আগুন: কুমিল্লায় ফায়ার স্টেশন সংকটে বাড়ছে কোটি টাকার ক্ষতি ইউনূস ও আসিফ নজরুল ইস্যুতে তোলপাড়—নাঈম নিজামের পোস্টে উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া ১০ বছরেও বিচারহীন তনু হত্যা—অবশেষে ৩ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের সুদখোর ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলো ইতালির উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি, ১০৫ আরোহীর মধ্যে নিখোঁজ অন্তত ৭১

“বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া?” — দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে ক্ষমতার খেলা ফাঁস করলেন গোলাম মাওলা রনি

রোমানা আক্তার
  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫
রনির সতর্কবার্তা
গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা আজ মব সন্ত্রাসকে বৈধতা দিচ্ছে। যেখানে সেনাপ্রধান, আইজি বা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল এই উগ্র শক্তিকে দমন করা, সেখানে তারা কার্যত নিরব দর্শক। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মবকারীরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই অপরাধ করছে। সরকারের ব্যর্থতা এখানেই—তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অপরাধীদের অঘোষিত মিত্র হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, আর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।

দ্বিতীয় বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া, ডাক দিলেই হবে? সাবেক এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ঠিক তখন, যখন দেশের রাজনীতিতে কথিত ‘নতুন বিপ্লব’-এর নামে বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক মার্কেটিংয়ের পণ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে আগুন জ্বালিয়ে পেছন থেকে বসে আছে কুশীলবরা—যাদের ইতিহাসে কোনো ত্যাগ নেই, শুধু ষড়যন্ত্রের দক্ষতা আছে।


গোলাম মাওলা রনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দিকে—যারা নিজেদের “বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড” সাজিয়ে কথিত গণ-আন্দোলনকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের অতিবুদ্ধির জ্বালায় আজ ছাত্ররা বিভ্রান্ত, আন্দোলন পথহারা, আর সমাজে বিরোধের আগুন ছড়াচ্ছে।

রনি বলেন, “গত আগস্টের ৫ তারিখের পর হঠাৎ করে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বিপ্লবের পুরোধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যেন ২০০৯ সাল থেকে বিরোধী রাজনীতির ধ্বজাধারী তারাই। অথচ বাস্তবতা হলো, এদের অধিকাংশই বিগত এক যুগে নানা সময় ক্ষমতার ছায়ায় থেকেছেন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সাথেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সমঝোতায় ছিলেন।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন—“একজন মানুষ, যিনি নিজে জীবনে আন্দোলন করেননি, যিনি কোনো কষ্ট করেননি, তিনিই আজ নতুন প্রজন্মের কাঁধে বিপ্লব চাপিয়ে দিচ্ছেন? কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে, ভুল তথ্য দিয়ে মাঠে নামিয়ে তাদের জীবনের সর্বনাশ করছেন?”

তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক রিটেল মার্কেট—যেখানে মুখে আদর্শ, পেছনে চুক্তি; সামনে ব্যানার, পেছনে ডিল। এই ডিল-মেইকিং রাজনীতির শিকার আজ ছাত্র সমাজ, শিকার আদর্শিক বিপ্লবের আত্মা।

রনি বলেন, “আন্দোলনের নামে এখন বিভেদ, দ্বন্দ্ব আর স্বার্থপরতা ছড়িয়ে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছিল—সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার বলা হচ্ছে দ্বিতীয় বিপ্লব দরকার। যারা প্রথমটাকে নষ্ট করল, তারাই এখন নতুন বিপ্লবের ঠিকাদার! এটা জাতির সাথে প্রতারণা নয় তো কী?”

তিনি ১৯৮৯ সালের গণ-আন্দোলনের কথা টেনে বলেন, “গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয় না। ৩৫ বছরেও হয়নি। আর আজ হুট করে বলা হচ্ছে, ‘বিপ্লব দরকার।’ এটা কি মুরগির ডিম, না যাদুর কাঠি?”


গোলাম মাওলা রনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিপ্লব নিয়ে যারা আজ মুখ খুলছেন, তারা নিজেরাই সমাজে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং আদর্শহীন রাজনীতির বীজ বপন করেছেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে নতুন করে ছেলেখেলা করলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় পড়বে। “এই বিপ্লব একান্ত হৃদয়ের বিষয়। এটি কন্টেন্ট লেখা বা ফেসবুক লাইভের খেলা না। যদি আত্মসমালোচনা না হয়, তবে এই বিপ্লবের আগুনে কারও পিঠের চামড়াও থাকবে না,”—জোরালো সাবধানবাণী রনির।


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক থেকে


বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে “দ্বিতীয় বিপ্লব” শব্দটি এখন অনেকটাই রাজনৈতিক পুঁজি। রনি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো মূলত সেই অংশকে বিদ্ধ করে যারা কেবল বক্তব্যে বীর বাহাদুর কিন্তু বাস্তবে সুবিধাবাদী। দ্বিতীয় এ ডাক এখন আদর্শের নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার অপকৌশল। জনগণ যদি বুঝে না ওঠে, তাহলে এ বিপ্লব হবে এক গোষ্ঠীর হাতে নতুন প্রজন্মের আত্মাহুতি।


শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন
 

কপিরাইট © [২০২৫] দৈনিক আজকের কথা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতাভুক্ত। প্রকাশকের ছাড়া কোনো অংশ পুনঃপ্রকাশ, বিতরণ বা সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয়।

যোগাযোগ   আমাদের সম্পর্কে   শর্তাবলি ও নীতিমালা