“বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া?” — দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে ক্ষমতার খেলা ফাঁস করলেন গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা আজ মব সন্ত্রাসকে বৈধতা দিচ্ছে। যেখানে সেনাপ্রধান, আইজি বা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল এই উগ্র শক্তিকে দমন করা, সেখানে তারা কার্যত নিরব দর্শক। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মবকারীরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই অপরাধ করছে। সরকারের ব্যর্থতা এখানেই—তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অপরাধীদের অঘোষিত মিত্র হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, আর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া, ডাক দিলেই হবে? সাবেক এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ঠিক তখন, যখন দেশের রাজনীতিতে কথিত ‘নতুন বিপ্লব’-এর নামে বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক মার্কেটিংয়ের পণ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে আগুন জ্বালিয়ে পেছন থেকে বসে আছে কুশীলবরা—যাদের ইতিহাসে কোনো ত্যাগ নেই, শুধু ষড়যন্ত্রের দক্ষতা আছে।
গোলাম মাওলা রনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দিকে—যারা নিজেদের “বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড” সাজিয়ে কথিত গণ-আন্দোলনকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের অতিবুদ্ধির জ্বালায় আজ ছাত্ররা বিভ্রান্ত, আন্দোলন পথহারা, আর সমাজে বিরোধের আগুন ছড়াচ্ছে।
রনি বলেন, “গত আগস্টের ৫ তারিখের পর হঠাৎ করে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বিপ্লবের পুরোধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যেন ২০০৯ সাল থেকে বিরোধী রাজনীতির ধ্বজাধারী তারাই। অথচ বাস্তবতা হলো, এদের অধিকাংশই বিগত এক যুগে নানা সময় ক্ষমতার ছায়ায় থেকেছেন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সাথেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সমঝোতায় ছিলেন।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন—“একজন মানুষ, যিনি নিজে জীবনে আন্দোলন করেননি, যিনি কোনো কষ্ট করেননি, তিনিই আজ নতুন প্রজন্মের কাঁধে বিপ্লব চাপিয়ে দিচ্ছেন? কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে, ভুল তথ্য দিয়ে মাঠে নামিয়ে তাদের জীবনের সর্বনাশ করছেন?”
তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক রিটেল মার্কেট—যেখানে মুখে আদর্শ, পেছনে চুক্তি; সামনে ব্যানার, পেছনে ডিল। এই ডিল-মেইকিং রাজনীতির শিকার আজ ছাত্র সমাজ, শিকার আদর্শিক বিপ্লবের আত্মা।
রনি বলেন, “আন্দোলনের নামে এখন বিভেদ, দ্বন্দ্ব আর স্বার্থপরতা ছড়িয়ে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছিল—সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার বলা হচ্ছে দ্বিতীয় বিপ্লব দরকার। যারা প্রথমটাকে নষ্ট করল, তারাই এখন নতুন বিপ্লবের ঠিকাদার! এটা জাতির সাথে প্রতারণা নয় তো কী?”
তিনি ১৯৮৯ সালের গণ-আন্দোলনের কথা টেনে বলেন, “গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয় না। ৩৫ বছরেও হয়নি। আর আজ হুট করে বলা হচ্ছে, ‘বিপ্লব দরকার।’ এটা কি মুরগির ডিম, না যাদুর কাঠি?”
গোলাম মাওলা রনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিপ্লব নিয়ে যারা আজ মুখ খুলছেন, তারা নিজেরাই সমাজে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং আদর্শহীন রাজনীতির বীজ বপন করেছেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে নতুন করে ছেলেখেলা করলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় পড়বে। “এই বিপ্লব একান্ত হৃদয়ের বিষয়। এটি কন্টেন্ট লেখা বা ফেসবুক লাইভের খেলা না। যদি আত্মসমালোচনা না হয়, তবে এই বিপ্লবের আগুনে কারও পিঠের চামড়াও থাকবে না,”—জোরালো সাবধানবাণী রনির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক থেকে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে “দ্বিতীয় বিপ্লব” শব্দটি এখন অনেকটাই রাজনৈতিক পুঁজি। রনি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো মূলত সেই অংশকে বিদ্ধ করে যারা কেবল বক্তব্যে বীর বাহাদুর কিন্তু বাস্তবে সুবিধাবাদী। দ্বিতীয় এ ডাক এখন আদর্শের নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার অপকৌশল। জনগণ যদি বুঝে না ওঠে, তাহলে এ বিপ্লব হবে এক গোষ্ঠীর হাতে নতুন প্রজন্মের আত্মাহুতি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কড়া বার্তা
দেবীদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহকে বিএনপির সতর্কবার্তা, ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি

এইচএসসি ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ
হাসনাত আব্দুল্লাহকে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের এই সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠককে উদ্দেশ করে দেওয়া ওই বার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যে সংযম ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করার মতো কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন ও সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
“রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি বলেছে, পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি মহল চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কেউ ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এতে অভিযোগ করা হয়, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সংযত ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যৌক্তিক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। অন্যথায় বিএনপি পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হবে না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে অতিকথন ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য পরিহারেরও আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষামন্ত্রী তার অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপরও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। আমরা তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল ও সৌজন্যমূলক আচরণ প্রত্যাশা করি। এর ব্যত্যয় ঘটলে রাজনৈতিকভাবে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফেসবুক-ইমোতে ফাঁদ পাতা
পত্নীতলায় হানিট্র্যাপ চক্রের দুই তরুণীসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, মুক্তিপণ আদায়ের ভয়ংকর কৌশল উন্মোচন

নওগাঁর পত্নীতলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে তরুণদের হানিট্র্যাপে ফেলে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই তরুণীসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা ফেসবুক ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের নির্জন বাসায় ডেকে এনে মারধর, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় গত ১৪ জুলাই রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে নজিপুর পৌরসভার সর্দারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হানিট্র্যাপ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), মমিনুর ইসলাম (২২), রুমা খাতুন (২০) এবং সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯)।
পুলিশের দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলত। পরে কৌশলে তাদের নির্দিষ্ট বাসায় ডেকে এনে মারধর করাসহ আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এরপর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করত তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হানিট্র্যাপসহ এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শিক্ষার উন্নয়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত
দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত কায়েস আহমেদ মীর, শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারোরা দীনেশ চন্দ্র (ডি.সি.) উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর। তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।
দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি নির্বাচিত কায়েস আহমেদ মীর
নবনির্বাচিত সভাপতিকে বরণ করে নিতে সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা, পরিচিতি অনুষ্ঠান ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কায়েস আহমেদ মীরের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
“দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়কে জেলার অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা চাই।”
— সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর
নবনির্বাচিত সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটি
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহিদের সভাপতিত্বে এবং ফারুক মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দারোরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর বলেন, শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সেই এলাকার শিক্ষার মানের ওপর। দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। এজন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বাবু সভজিৎ দাসগুপ্ত। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে অতীতেও সম্মিলিতভাবে কাজ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। নতুন সভাপতির প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার বলেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শিক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার মানুষের গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দারোরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছানু মিয়া মেম্বার, মোতাহের হোসেন, আবুল কাশেম, আব্দুল করিম এবং খোরশেদ আলম। বক্তারা নবনির্বাচিত সভাপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণাগার, গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর তার বক্তব্যে বলেন, দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয়। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার গৌরব ও ঐতিহ্য। আমি চাই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা, ফলাফল এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে জেলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হবে। বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষের আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার বিষয়েও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, আদর্শ ও মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।



















