“বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া?” — দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে ক্ষমতার খেলা ফাঁস করলেন গোলাম মাওলা রনি
গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা আজ মব সন্ত্রাসকে বৈধতা দিচ্ছে। যেখানে সেনাপ্রধান, আইজি বা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল এই উগ্র শক্তিকে দমন করা, সেখানে তারা কার্যত নিরব দর্শক। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মবকারীরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই অপরাধ করছে। সরকারের ব্যর্থতা এখানেই—তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অপরাধীদের অঘোষিত মিত্র হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, আর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া, ডাক দিলেই হবে? সাবেক এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ঠিক তখন, যখন দেশের রাজনীতিতে কথিত ‘নতুন বিপ্লব’-এর নামে বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক মার্কেটিংয়ের পণ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে আগুন জ্বালিয়ে পেছন থেকে বসে আছে কুশীলবরা—যাদের ইতিহাসে কোনো ত্যাগ নেই, শুধু ষড়যন্ত্রের দক্ষতা আছে।
গোলাম মাওলা রনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দিকে—যারা নিজেদের “বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড” সাজিয়ে কথিত গণ-আন্দোলনকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের অতিবুদ্ধির জ্বালায় আজ ছাত্ররা বিভ্রান্ত, আন্দোলন পথহারা, আর সমাজে বিরোধের আগুন ছড়াচ্ছে।
রনি বলেন, “গত আগস্টের ৫ তারিখের পর হঠাৎ করে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বিপ্লবের পুরোধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যেন ২০০৯ সাল থেকে বিরোধী রাজনীতির ধ্বজাধারী তারাই। অথচ বাস্তবতা হলো, এদের অধিকাংশই বিগত এক যুগে নানা সময় ক্ষমতার ছায়ায় থেকেছেন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সাথেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সমঝোতায় ছিলেন।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন—“একজন মানুষ, যিনি নিজে জীবনে আন্দোলন করেননি, যিনি কোনো কষ্ট করেননি, তিনিই আজ নতুন প্রজন্মের কাঁধে বিপ্লব চাপিয়ে দিচ্ছেন? কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে, ভুল তথ্য দিয়ে মাঠে নামিয়ে তাদের জীবনের সর্বনাশ করছেন?”
তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক রিটেল মার্কেট—যেখানে মুখে আদর্শ, পেছনে চুক্তি; সামনে ব্যানার, পেছনে ডিল। এই ডিল-মেইকিং রাজনীতির শিকার আজ ছাত্র সমাজ, শিকার আদর্শিক বিপ্লবের আত্মা।
রনি বলেন, “আন্দোলনের নামে এখন বিভেদ, দ্বন্দ্ব আর স্বার্থপরতা ছড়িয়ে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছিল—সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার বলা হচ্ছে দ্বিতীয় বিপ্লব দরকার। যারা প্রথমটাকে নষ্ট করল, তারাই এখন নতুন বিপ্লবের ঠিকাদার! এটা জাতির সাথে প্রতারণা নয় তো কী?”
তিনি ১৯৮৯ সালের গণ-আন্দোলনের কথা টেনে বলেন, “গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয় না। ৩৫ বছরেও হয়নি। আর আজ হুট করে বলা হচ্ছে, ‘বিপ্লব দরকার।’ এটা কি মুরগির ডিম, না যাদুর কাঠি?”
গোলাম মাওলা রনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিপ্লব নিয়ে যারা আজ মুখ খুলছেন, তারা নিজেরাই সমাজে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং আদর্শহীন রাজনীতির বীজ বপন করেছেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে নতুন করে ছেলেখেলা করলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় পড়বে। “এই বিপ্লব একান্ত হৃদয়ের বিষয়। এটি কন্টেন্ট লেখা বা ফেসবুক লাইভের খেলা না। যদি আত্মসমালোচনা না হয়, তবে এই বিপ্লবের আগুনে কারও পিঠের চামড়াও থাকবে না,”—জোরালো সাবধানবাণী রনির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক থেকে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে “দ্বিতীয় বিপ্লব” শব্দটি এখন অনেকটাই রাজনৈতিক পুঁজি। রনি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো মূলত সেই অংশকে বিদ্ধ করে যারা কেবল বক্তব্যে বীর বাহাদুর কিন্তু বাস্তবে সুবিধাবাদী। দ্বিতীয় এ ডাক এখন আদর্শের নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার অপকৌশল। জনগণ যদি বুঝে না ওঠে, তাহলে এ বিপ্লব হবে এক গোষ্ঠীর হাতে নতুন প্রজন্মের আত্মাহুতি।
শোকে স্তব্ধ পরিবার-এলাকা
ডাব পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল সাংবাদিকপুত্রের, পলাশবাড়ীতে কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু
পলাশবাড়ীতে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু, সাংবাদিক মহলে শোক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ডাব পাড়তে গিয়ে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মাসুদ সরকার (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিকের ছেলে হওয়ায় সাংবাদিক মহলেও গভীর শোক বিরাজ করছে।
রোববার (৩১ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের রাইগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ সরকার পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক শাহ আলম সরকারের কনিষ্ঠ ছেলে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে একটি নারিকেল গাছে ডাব পাড়ার জন্য ওঠেন মাসুদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার হাত ফসকে যায় এবং তিনি গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পলাশবাড়ী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নিহতের নিকটাত্মীয় রবিউল হোসেন পাতা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
এদিকে তরুণ শিক্ষার্থী মাসুদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। একই সঙ্গে পলাশবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে।
পলাশবাড়ীর সাংবাদিক নেতারা শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
তেহরানে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে
ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা
ইরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমে! পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান—দাবি প্রতিবেদনের
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার কিংবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে জানায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পদত্যাগপত্রে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরকার ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কট্টরপন্থি অংশ রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক প্রভাব বিস্তার করছে।
সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের অনুমোদন চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ও বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছিল, এই খবর তারই একটি প্রতিফলন হতে পারে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এর আগেও দাবি করেছিল, আইআরজিসি ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত করেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে পেজেশকিয়ান প্রশাসন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম এবং কূটনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়। এরপর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে আইআরজিসির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
তবে প্রেসিডেন্টের কথিত পদত্যাগ নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন বা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা বাড়লেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
বীরত্বের স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে
ড্রোন হামলায় শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা
মরণোত্তর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ এ সম্মাননা আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তুলে দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।
তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র ড্রোন হামলায় নিহত হন। দায়িত্ব পালনের সময় তাদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এবারের অনুষ্ঠানে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ছয় বীর শান্তিরক্ষী।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। ১১৮টি দেশ জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন (UNTSO)’ প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)।




















