মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবনে ফিরতে জেলেদের ভয়, সামনে দস্যু-চাঁদাবাজির শঙ্কা

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
সুন্দরবনে ফিরতে জেলেদের ভয়, সামনে দস্যু-চাঁদাবাজির শঙ্কা

সুন্দরবনে ফিরতে জেলেদের ভয়, সামনে দস্যু-চাঁদাবাজির শঙ্কা। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা।
  • জীবিকার তাগিদে বনে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও জলদস্যু, চাঁদাবাজ ও অবৈধ শিকারি চক্রের আতঙ্কে স্বস্তিতে নেই তারা।
  • বিশেষ করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে যাওয়া জেলেদের বড় দুশ্চিন্তা—আহরণ করা মাছ-কাঁকড়া বিক্রির অর্থের কতটা শেষ পর্যন্ত পরিবারের হাতে থাকবে।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা। জীবিকার তাগিদে বনে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও জলদস্যু, চাঁদাবাজ ও অবৈধ শিকারি চক্রের আতঙ্কে স্বস্তিতে নেই তারা। বিশেষ করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে যাওয়া জেলেদের বড় দুশ্চিন্তা—আহরণ করা মাছ-কাঁকড়া বিক্রির অর্থের কতটা শেষ পর্যন্ত পরিবারের হাতে থাকবে।

দীর্ঘ তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি মিলছে। বনের প্রাণবৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন রক্ষায় প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জেলেপল্লিগুলোতে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, কেউ জাল বুনছেন, আবার কেউ বন বিভাগের পাশ-পারমিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে ছুটছেন।

তবে বনে ফেরার এই প্রস্তুতির মধ্যেও জেলেদের মধ্যে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি। কারণ, দীর্ঘদিন মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে সংসার চালাতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বনে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে হবে। এর মধ্যে যদি জলদস্যু বা চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ দিতে হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত আয় নিয়ে বাড়ি ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

দৈনিক আজকের কথা
সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দস্যু বা চাঁদাবাজদের সহযোগীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।
— মো. শামসুল আরেফীন
অপারেশন কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকে এনজিও, স্থানীয় মহাজন কিংবা পরিচিতজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। ফলে বনে যাওয়ার আগেই তাদের মাথায় ঋণের চাপ। বনে মাছ আহরণ করতে গিয়ে অতীতে দস্যুদের চাঁদা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বনজীবী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, অতীতে ১৫ দিনের জন্য একটি নৌকা বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে দস্যুদের নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হতো। অনেক সময় আগেই ‘স্লিপ’ বা টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই অর্থ দেওয়ার পরও নানা ধরনের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায় না।

শুধু জলদস্যু বা চাঁদাবাজ নয়, সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ও বন্যপ্রাণী শিকার করা চক্র নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বনজীবীদের মধ্যে। বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কারণে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ জেলেদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

জেলেদের ভাষ্য, তারা বৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। কিন্তু বনের ভেতরে অপরাধী চক্রের তৎপরতা থাকলে তাদের অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও নানা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। ফলে মাছ আহরণে যাওয়ার আগে তাদের প্রথম চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় নিরাপদে ফিরে আসা।

একজন বনজীবী বলেন, “তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন বনে গিয়ে যদি আবার চাঁদা দিতে হয়, তাহলে মাছ ধরে কী লাভ হবে—সেটাই আমাদের বড় চিন্তা।”

তার মতো আরও অনেক জেলের দাবি, সুন্দরবনে প্রবেশের পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জলদস্যু বা চাঁদাবাজদের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শামসুল আরেফীন জানিয়েছেন, সুন্দরবনে জেলেদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দস্যু বা চাঁদাবাজদের সহযোগীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, লোকালয়ে অবস্থান করে যারা সুন্দরবনের বনজীবীদের কাছ থেকে টোকেন বা অন্য কোনো নামে চাঁদা আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি করা হচ্ছে। দস্যুদের পাশাপাশি তাদের সহযোগী ও অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে পারলে সুন্দরবনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

তবে বনজীবীদের দাবি, শুধু লোকালয়ে নজরদারি করলেই হবে না। সুন্দরবনের গভীরেও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশাল এই বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি যত বেশি থাকবে, অপরাধী চক্রের তৎপরতা ততটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।

সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম বড় ভাণ্ডার নয়, এর ওপর নির্ভরশীল উপকূলীয় হাজার হাজার পরিবার। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণির বনজীবী বছরের একটি বড় সময় এই বনকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও সরাসরি জড়িত।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বনের ওপর মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজননসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর বনে প্রবেশের সুযোগ পেলেও সেই পরিবেশ যাতে অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ শিকার কিংবা অপরাধী চক্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

বনজীবীদের অনেকে মনে করছেন, বৈধভাবে মাছ আহরণকারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা গেলে তাদের আতঙ্ক অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ শিকারকারী ও বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, সুন্দরবনকে ঘিরে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে বনজীবীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ একজন জেলে যদি জীবিকার সন্ধানে বনে গিয়ে চাঁদাবাজির শিকার হন কিংবা দস্যুদের ভয়ে কাজ করতে না পারেন, তাহলে তার ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে সুন্দরবনসংলগ্ন বাজার ও ঘাটগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। নৌকা ও ট্রলার প্রস্তুত করা হচ্ছে, পুরোনো জাল মেরামত চলছে। কেউ কেউ নতুন জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনছেন। তবে প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলেদের মুখে ঘুরেফিরে আসছে নিরাপত্তার প্রশ্ন।

তাদের প্রত্যাশা, এবার বন খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যেখানে বৈধ বনজীবীরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির শিকার না হয়ে স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপদ প্রবেশ ও নির্বিঘ্নে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত নজরদারি এখন সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধীদের সহযোগী ও চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার পর আগামী কয়েক মাসই বলে দেবে নিষেধাজ্ঞা শেষে বনজীবীদের জন্য কতটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তবে জেলেদের প্রত্যাশা একটাই—জীবিকার সন্ধানে তারা যেন সুন্দরবনে গিয়ে নতুন কোনো আতঙ্কের মুখোমুখি না হন; বরং বৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে নিরাপদে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে পারেন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG