সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিদের ভাগ্যে কী আছে? আবেদন নিয়ে বড় প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশে নতুন আশা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি

যুক্তরাষ্ট্রে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি। ছবি : এআই জেনারেট

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
  • যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
  • ফেডারেল আদালতের নির্দেশে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশিরা এতে আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফেডারেল আদালতের নির্দেশে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশিরা এতে আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন দেশের নাগরিকদের প্রতিবছর লটারির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সব দেশের নাগরিক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ফেডারেল আদালত দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আবেদন শুরুর সময়, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ কেন ডিভি লটারির অযোগ্য

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে ডিভি কর্মসূচির জন্য দেশের যোগ্যতা নির্ধারণে আগের পাঁচ বছরে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ থেকে ওই সময়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হলে দেশটি ডিভি কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হতে পারে।

এ হিসাব শুধু ডিভি লটারির মাধ্যমে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে করা হয় না। পরিবারভিত্তিক স্পনসরশিপ, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা এবং অন্যান্য স্থায়ী অভিবাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ব্যক্তিরাও এই পরিসংখ্যানের আওতায় পড়েন।

মার্কিন দূতাবাসের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডিভি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ায় দেশটি এই যোগ্যতা হারায়।

এখানে উল্লেখ্য, ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন—এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সবাই ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হয়ে সেখানে গেছেন। বরং বিভিন্ন অভিবাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যাওয়া মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বাংলাদেশিদের জন্য কি কোনো ব্যতিক্রম আছে?

বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সাধারণত নিজেদের জন্মদেশের ভিত্তিতে ডিভি লটারির যোগ্যতা নির্ধারণের আওতায় পড়েন। শুধু অন্য দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট গ্রহণ করলেই আবেদন করার যোগ্যতা তৈরি হয় না।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী ডিভি কর্মসূচির জন্য যোগ্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সেই দেশের ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। একইভাবে, আবেদনকারীর জন্মের সময় তাঁর মা-বাবা নিজ জন্মদেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করে থাকলে এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হলে তাঁদের জন্মদেশের ভিত্তিতেও যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে।

অভিবাসন আইনে এই বিষয়টি ‘চার্জেবিলিটি’ (Chargeability) নামে পরিচিত। তবে এ ধরনের ব্যতিক্রম সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

২০২৬ সালের ডিভি লটারিতে কোন দেশগুলো অযোগ্য

ডিভি-২০২৬-এর সরকারি নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ মোট ১৯টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তালিকায় ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া ও মেক্সিকিয়ার মতো দেশও ছিল।

তবে ডিভি-২০২৬-এর যোগ্যতার তালিকা পরবর্তী বছরের কর্মসূচির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না। নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

ডিভি লটারি চালুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না হওয়ায় রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় আবেদনকারীদের পাশাপাশি ডিভি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে আদালত মনে করেন, শুধু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের নির্দেশের খবর প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট বছরের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা ও আবেদন নির্দেশনা দেখতে হবে। আবেদন করার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য যাচাই করা উচিত।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG