সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

স্বামীহারা নাজমার চোখে অশ্রুভরা আকুতি: দুই সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও একটি কাজ চান

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
স্বামীহারা বাস্তুভিটাহীন নাজমা আক্তার নাসু তার ডানে মেয়ে সুলতানা আক্তার মীম ও বায়ে ছেলে হাফেজ শাহিন আলম। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

স্বামীহারা বাস্তুভিটাহীন নাজমা আক্তার নাসু তার ডানে মেয়ে সুলতানা আক্তার মীম ও বায়ে ছেলে হাফেজ শাহিন আলম। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুরাদনগরে বিধবা নাজমার আকুতি, ‘মরার আগে মেয়েটার মাথা গোঁজার ঠাঁই দেখে যেতে চাই’—অসহায় মেয়েকে নিয়ে কাঁদছেন অসুস্থ মা বাবা নেই, স্বামী নেই, নিজের নামে নেই এক টুকরো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর।
  • অথচ বেঁচে থাকার দায় আছে, আছে ১৭ বছর বয়সী দুই যমজ সন্তানকে মানুষ করার কঠিন দায়িত্ব।
  • অভাবের সংসারে এক মুঠো খাবার জোগাড় করতে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন নাজমা আক্তার, যিনি এলাকায় নাসু নামেই পরিচিত।

মুরাদনগরে বিধবা নাজমার আকুতি, ‘মরার আগে মেয়েটার মাথা গোঁজার ঠাঁই দেখে যেতে চাই’—অসহায় মেয়েকে নিয়ে কাঁদছেন অসুস্থ মা

বাবা নেই, স্বামী নেই, নিজের নামে নেই এক টুকরো জমি, নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর। অথচ বেঁচে থাকার দায় আছে, আছে ১৭ বছর বয়সী দুই যমজ সন্তানকে মানুষ করার কঠিন দায়িত্ব। অভাবের সংসারে এক মুঠো খাবার জোগাড় করতে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন নাজমা আক্তার, যিনি এলাকায় নাসু নামেই পরিচিত। দিন শেষে যা পান, তা দিয়েই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু সেই সংসারে নেই নিজের কোনো ঘর, নেই নিশ্চিন্তে মাথা রেখে ঘুমানোর স্থায়ী জায়গা। বাবার বাড়িতে ভাইদের রান্নাঘরের এক কোণে কোনোমতে রাত কাটে তাঁর। এভাবেই বছরের পর বছর বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিয়াতল গ্রামের চাঁনগাজী মুন্সী বাড়ির এই অসহায় নারী।

নাজমার জীবনের গল্প কেবল একজন বিধবা নারীর দুঃখের গল্প নয়; এটি দুই সন্তানকে বুকে আগলে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা, দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই এবং একটু আশ্রয় ও কাজের বিনিময়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার আকুতির গল্প। তাঁর প্রত্যাশা, সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষেরা পাশে দাঁড়ালে হয়তো তাঁর সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের অবসান ঘটবে।

নাজমা আক্তারের বাবা মৃত জয়নাল আবেদীন, মা মনোয়ারা বেগম এবং স্বামী মৃত আনোয়ার হোসেন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে নাজমা সবার বড়। জন্ম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাবার বাড়িতেই তাঁর বসবাস। বিয়ের পর কখনো স্বামীর বাড়িতে যাওয়া হয়নি তাঁর। স্বামীর বাড়ি কোথায়, সেই ঠিকানাও তাঁর জানা নেই। শুধু স্বামী জীবিত থাকাকালে তাঁর মুখে শুনেছিলেন, তাঁদের বাড়ি দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁওয়ে। ২০১৪ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে তাঁর জীবনে নেমে আসে আরও কঠিন বাস্তবতা।

নাজমার যমজ দুই সন্তানের একজন ছেলে শাহিন আলম, অন্যজন মেয়ে সুলতানা আক্তার মীম। দুজনেরই বয়স ১৭ বছর। অভাবের সংসারেও ছেলেকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। শাহিন কোরআন হিফজ শেষ করে বর্তমানে শুনানি পড়ছে। কিন্তু মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারায় সুলতানা আক্তার মীমের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। মায়ের অসহায়ত্ব আর সংসারের টানাপোড়েনে একটি মেয়ের শিক্ষাজীবন থমকে আছে—যে বয়সে তার বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে থাকার কথা, সে বয়সে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।

নাজমার ডান চোখেও কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তবে তিনি শারীরিকভাবে কর্মক্ষম। গৃহকর্মসহ বিভিন্ন ধরনের পরিশ্রমের কাজ করতে পারেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে উপার্জিত সামান্য অর্থ দিয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই উপার্জনে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোই কঠিন; নিজের জন্য একটি ঘর তৈরি করা কিংবা মেয়ের পড়াশোনা আবার শুরু করার সামর্থ্য তাঁর নেই।

বাবার বাড়িতে থাকলেও নাজমার নিজের কোনো ঘরবাড়ি বা জমিজমা নেই। ভাইয়েরাও অভাবের সংসারে দিন এনে দিন খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজেদের পরিবারের ব্যয় মেটাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। ফলে নাজমার জন্য আলাদা একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া তাঁদের পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামবাসী ও বাড়ির লোকজনের সহায়তায় ভাইদের রান্নাঘরের এক কোণে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটছে তাঁর। বাস্তুভিটাহীন, ভূমিহীন এই নারীর কাছে একটি ছোট ঘর শুধু ইট-টিনের স্থাপনা নয়; সেটি তাঁর সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

নাজমা আক্তার বলেন, “আমার বাবা নেই, স্বামীও নেই। এই দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? সন্তানদের ফেলে নতুন করে সংসার পাতাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি বাবার বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে থাকি। আমার ভাইয়েরাও দিন আনে দিন খায়। তাদের নিজেদের সংসার চালাতেই অনেক কষ্ট হয়। তারা আমাকে আলাদা করে ঘর করে দেবে, সেই সামর্থ্য তাদের নেই। আমারও বাড়িঘর করার মতো কোনো সামর্থ্য নেই।”

কথাগুলো বলতে গিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে নাজমা আরও বলেন, “আমি কারও কাছে বিলাসী জীবন চাই না। শুধু চাই, আমার সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার মতো একটু জায়গা। সরকার বা কেউ যদি আমাকে এক টুকরো জমি দিতেন, সেখানে ছোট্ট একটি ঘর করে দিলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারতাম। আমি শারীরিকভাবে কাজ করতে পারি। আমাকে যদি একটি কাজের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে নিজের পরিশ্রমে সংসার চালাতে পারব। সবার কাছে আমার আবেদন, আমার দিকে একটু সহানুভূতির চোখে তাকান। আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আমাকে বাঁচার একটি সুযোগ দিন।”

নাজমার এই অসহায় জীবনের মধ্যেই সামনে এসেছে কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান (RRMEP)’ শীর্ষক প্রকল্পে দারোরা ইউনিয়ন থেকে নারী কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। প্রতি ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নারী কর্মী এবং অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আরও পাঁচজন নারী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও পরিবারপ্রধান হতদরিদ্র নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাঁরা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রার্থীদের শারীরিকভাবে মাটির কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। নির্বাচিত কর্মীর বাড়ি সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত সড়কের দুই কিলোমিটারের মধ্যে হতে হবে। এলজিইডির মেরামতের তালিকাভুক্ত সড়কের কাছাকাছি বসবাসকারী নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এ ছাড়া আগের তিন পর্যায়ের পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ (RERMP) প্রকল্পে কর্মরত নারীরা নতুন প্রকল্পে নিয়োগের যোগ্য হবেন না।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে প্রার্থীদের নাগরিকত্ব সনদ, মূল জাতীয় পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

নাজমার দাবি, তাঁর বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, আর্থিক অসচ্ছলতা, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া এবং কায়িক শ্রমে কাজ করার সক্ষমতা বিবেচনায় তিনি এ পদে নিয়োগের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। তিনি দারোরা ইউনিয়নের নারী কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেতে চান। এই কাজের সুযোগ পেলে নিজের শ্রমে উপার্জনের মাধ্যমে সন্তানদের ভরণপোষণ চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনা আবার শুরু করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল।

এ অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, তাঁর মামা সৈয়দ এ.কে.এম. কায়েস আহমেদ মীর এবং বিশেষ করে মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণের সহযোগিতা কামনা করেছেন নাজমা। তাঁর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে সহযোগিতা করা হবে, যাতে তিনি অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর না করে নিজের পরিশ্রমে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।

নাজমার অসহায়ত্বের আরেকটি হৃদয়বিদারক দিক তাঁর অসুস্থ মা মনোয়ারা বেগমের আকুতি। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এই মা জানেন না, তাঁর জীবনের অবশিষ্ট সময় কতটুকু। মৃত্যুর আগে মেয়েকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে দেখে যেতে চান তিনি।

মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি অসুস্থ। কখন মারা যাই, তা ঠিক নেই। আমার মৃত্যুর আগে যদি দেখে যেতে পারতাম, আমার বিধবা মেয়েটি তার সন্তানদের নিয়ে থাকার মতো একটা জায়গা পেয়েছে, তাহলে মরেও শান্তি পেতাম।”

একজন মায়ের এই আকুতির মধ্যে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অসহায় পরিবারের বাস্তবতা। মেয়ের জন্য বড় কোনো সম্পদ নয়, কেবল একটু নিরাপদ আশ্রয়—এটুকুই তাঁর চাওয়া। যে মেয়েকে তিনি জন্ম দিয়েছেন, সেই মেয়েকে নিজের চোখের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা তাঁর জন্য অসহনীয়।

নাজমার এই মানবিক পরিস্থিতিতে দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নাজমার মতো বাস্তুভিটাহীন ও অসহায় নারীর বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “নাজমা যাতে এলজিইডির নারী কর্মী নিয়োগে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ন্যায্যভাবে বিবেচিত হন এবং কোনোভাবেই অযৌক্তিকভাবে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি তিনি প্রকৃত ভূমিহীন ও সরকারি খাসজমি বরাদ্দের নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য হলে তাঁর জন্য খাসজমি বরাদ্দের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেখানে একটি ছোট ঘর নির্মাণের সুযোগ পেলে তিনি সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের যেসব কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোর আওতায় নাজমার যোগ্যতা যাচাই করে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা ভূমি কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা তাঁর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

নাজমার জন্য কর্মসংস্থান ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে তা শুধু একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানো হবে না; বরং তাঁর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার পথও খুলে যেতে পারে। একটি কাজ তাঁর হাতে তুলে দিতে পারে আত্মনির্ভরতার শক্তি, আর একটি ঘর ফিরিয়ে দিতে পারে নিরাপত্তা ও মর্যাদার অনুভূতি। মেয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনা আবার শুরু করার স্বপ্নও তখন নতুন করে ডানা মেলতে পারে।

এখন নাজমার আকুতি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি। তিনি করুণা নয়, চান কাজ করার সুযোগ; চান না কারও বোঝা হয়ে থাকতে, চান নিজের পরিশ্রমে সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে। তাঁর এই চাওয়াটুকু পূরণ হলে হয়তো একদিন রান্নাঘরের এক কোণে রাত কাটানো নাজমার জীবনেও ফিরবে স্বস্তির আলো, আর অসুস্থ মা মনোয়ারা বেগমের বুকেও জমবে একটু প্রশান্তি।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG