শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সমবায়ের উন্নয়নে অঙ্গীকার

ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন বাজেট অনুমোদন

মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর থেকে : প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০৭ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার দৃশ্য।

ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় অতিথিবৃন্দ ও সদস্যদের একাংশ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর বার্ষিক সাধারণ সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদনের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটও সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা হয়।
  • শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার ধানহাটি এলাকায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আলহাজ মো. মোখলেছুর রহমান খান।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর বার্ষিক সাধারণ সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদনের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটও সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার ধানহাটি এলাকায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আলহাজ মো. মোখলেছুর রহমান খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বার্ষিক সাধারণ সভায় সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নতুন বাজেট অনুমোদন করা হয়। প্রধান অতিথি এমপি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সমবায় আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

সমিতির কোষাধ্যক্ষ জাহিদুল হক মনিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। প্রধান আলোচক ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. শাহজাহান আকন্দ এবং সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আদর্শ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমেদ, শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান মাসুম এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ।

  • সমবায় আন্দোলনই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শক্তি: ঝিনাইগাতীতে এমপি মাহমুদুল হক রুবেল

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সমবায়ের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সমবায় আন্দোলনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতি সদস্যদের কল্যাণে যেভাবে কাজ করছে তা প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও সমিতির উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটও অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে উপস্থিত ৬০ জন সদস্যের মাঝে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

রেলসেবা সংকটে দুর্ভোগে স্বল্প আয়ের মানুষ---

কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ বছরে বন্ধ ১২ ট্রেন, সড়কে বাড়ছে যাত্রীচাপ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ বছরে বন্ধ ১২ ট্রেন, সড়কে বাড়ছে যাত্রীচাপ

কখনো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সারি, কখনো লোকাল ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই—কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথে একসময় এমন দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে লোকাল ও কমিউটার ট্রেন ছিল কম খরচে যাতায়াতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে একের পর এক ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লা অঞ্চলের রেল যোগাযোগে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট। গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে। আর গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা আগে অল্প খরচে ট্রেনে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন, তাদের এখন বাধ্য হয়ে বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে যেমন বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়, তেমনি সড়কপথে বাড়ছে যাত্রীচাপ।

রেলওয়ের প্রকাশিত নথিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-নোয়াখালী রুটে কমিউটার ট্রেনের সেবা ও সময়সূচির তথ্য থাকলেও বাস্তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা না থাকায় যাত্রীদের ভরসা করতে হচ্ছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল সড়ক পরিবহনের ওপর।

স্থানীয় যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, চাঁদপুর-ভৈরব লোকাল ১৬১/১৬২, নোয়াখালী-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, নোয়াখালী-ঢাকা রুটের নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১১/১২, সমতট এক্সপ্রেস ৪৫/৪৬, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ৩৭/৩৮, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের জালালাবাদ এক্সপ্রেস ১৩/১৪ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা রুটের দুই জোড়া ডেমু ট্রেন।

২০২৪ সালে কুমিল্লা অঞ্চলের রেল সংকট নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ট্রেন ও জনবল সংকটের কথা বলা হয়েছিল। নতুন ইঞ্জিন আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথাও তখন উল্লেখ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা ফেরেনি।

প্রশ্ন উঠছে—ইঞ্জিন ও কোচের সংকট যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে স্বল্প দূরত্বের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ট্রেনসেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?

একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বা কোচ নষ্ট হলে তা মেরামত করা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দিনের পর দিন কোনো রুটের ট্রেন বন্ধ থাকলে বিষয়টি কেবল যান্ত্রিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন রেল ব্যবস্থাপনার তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

লোকাল ট্রেন বন্ধের সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। একজন শ্রমিক বা দিনমজুরের প্রতিদিনের কয়েক টাকা অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। ট্রেনে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে এখন তাদের সড়কপথে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানজট, অতিরিক্ত ভিড় ও যাত্রার অনিশ্চয়তা। কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন এক জেলা থেকে অন্য জেলা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরমুখী হন। তাদের বড় একটি অংশের জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রয়োজন।

দৈনিক আজকের কথা
আগে ট্রেনে কম খরচে যাতায়াত করতে পারলেও এখন সড়কপথে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যানজট ও অতিরিক্ত ভোগান্তিও রয়েছে।
— হোসনেয়ারা বেগম
এনজিওকর্মী, শালমানপুর- কুমিল্লা।

লোকাল একটি ট্রেন বন্ধ হলে একসঙ্গে কয়েকশ বা কয়েক হাজার যাত্রীকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রেল থেকে সড়কে যাত্রী স্থানান্তরের কারণে বাসসহ অন্যান্য সড়ক পরিবহনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

দৈনিক আজকের কথা
রেলের একটি ট্রেন বন্ধের প্রভাব শুধু রেলযাত্রীর ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর চাপ গিয়ে পড়ে পুরো সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে কুমিল্লা ও লাকসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে রেল ও সড়ক দুই মাধ্যমের সমন্বিত ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক, দৈনিক আজকের কথা।

তিনি আরও বলেন, রেলের সক্ষমতা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে যানজট, যাত্রার সময় ও মানুষের পরিবহন ব্যয় তিনটিই বাড়তে পারে।

কুমিল্লা জেলার লাকসাম জংশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ইঞ্জিন ও কোচ প্রস্তুত না থাকার কথা উল্লেখ করেন।

লাকসাম জংশন কুমিল্লার সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, “অতীতের তুলনায় রেলযাত্রী বাড়লেও রেলের সক্ষমতা বাড়েনি। অতীতে যখন ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ছিল, তখনও ট্রেন চলেছে। এখন ঝুঁকিমুক্ত রেলপথ তৈরি হয়েছে, অথচ ট্রেন নেই। রেলপথের ব্যবহার না করেই এর সক্ষমতা হারাচ্ছে।”

রেল যোগাযোগের সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে সড়কপথে। এতে একদিকে যাত্রীদের ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সড়ক পরিবহনের ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রেল সংকট নিরসনে বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালু, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন-কোচের ব্যবস্থা এবং জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা

কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ পিএম
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮

কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দরিয়াপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
— আশরাফ উদ্দিন
উপপরিদর্শক, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা, কুমিল্লা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা আটজন যাত্রী আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সুমন মিয়া বলেন, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে পানিতে একটি বাস পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তবে আহতদের কেউ গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না বলে তিনি জানান।

বাসের যাত্রী কক্সবাজারের নাদিম আহমেদ বলেন, চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং সেটি খাদে পড়ে যায়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছে।

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ

অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে বনদস্যুরা

সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

দৈনিক আজকের কথা
বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
— লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন
মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড জানায়, ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আগের মতো দস্যুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ সক্রিয় ডাকাত সদস্য এর আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। এছাড়া আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারী এসব সদস্য দীর্ঘদিন ধরে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

“জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

তিনি সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

“আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে দীর্ঘদিনের দস্যুতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
ENG