কৃষকের স্বস্তি, দখলদারদের আতঙ্ক
মুরাদনগরে ড্রেজার সিন্ডিকেটে এসিল্যান্ডের হানা—৮ লাখ টাকা জরিমানা, ৪ ড্রেজার ও ২৮০০ ফুট পাইপ অপসারণ

"জনগণের সেবায় অবিচল: কৃষি জমি ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ।"
কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন, সরকারি রাস্তা দখলমুক্তের উদ্যোগ; ‘ড্রেজার-দখলদারদের কাছে এসিল্যান্ড এখন আতঙ্কের নাম’
কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষিজমির বুক চিরে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন। সংঘবদ্ধ ড্রেজারচক্রের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযানে একটি ড্রেজারের মালিককে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে তিনটি ড্রেজার ও প্রায় ২ হাজার ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আরও একটি ড্রেজার ও প্রায় ৮০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তন, রাস্তা দখল এবং অন্যের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগেও প্রশাসনিক পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখল, অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন ও কৃষিজমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে এবার মুরাদনগরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সরকারের সকল সম্পত্তি, কৃষিজমির উর্বরতা ও টপ সয়েল রক্ষায় প্রশাসন শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
ড্রেজার সিন্ডিকেটে বড় আঘাত
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মুরাদনগর উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ও দারোরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন।
অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মালিপাড়া ও নবীয়াবাদ এলাকায় কৃষিজমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ড্রেজার এবং প্রায় ২ হাজার ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়।
প্রশাসনের এ অভিযানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

দারোরা ইউনিয়নেও ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান
অন্যদিকে মুরাদনগর থানাধীন দারোরা ইউনিয়নের বরই বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার ও প্রায় ৮০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির স্বাভাবিক উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমি পরিণত হচ্ছে গভীর গর্তে। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে কৃষিকাজ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, একটি জমি থেকে একবার টপ সয়েল তুলে নেওয়া হলে তার স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগেও নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন
ড্রেজারবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সরকারি রাস্তা দখল ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগেও প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হয়েছে।
দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নায়েব আলী মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি সরকারি রাস্তার গতিপথ পরিবর্তন করে জায়গাটি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রাচীরও নির্মাণ করা হয়েছে।
একই এলাকার একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ক্রয়কৃত জমিও দখলে নিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সরকারি রাস্তা উদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধভাবে দখলে থাকা জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‘রাস্তা দখল করে পুকুর, মাছের প্রকল্প—এবার নজরদারি চাই’
এদিকে মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে পুকুর খনন, মৎস্য প্রকল্প বা ব্যক্তিগত স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে সরকারি রাস্তার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকুচিত করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও রাস্তার পাশ ঘেঁষে পুকুর খনন করা হচ্ছে, কোথাও রাস্তার জায়গা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি রাস্তার স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানুষের চলাচল ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায়ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কৃষিজমি রক্ষায় যেভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে, একইভাবে সরকারি রাস্তা, খাসজমি ও সরকারি স্থাপনা রক্ষায়ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।
তাদের প্রত্যাশা, রাস্তার জায়গা দখল, রাস্তার গতিপথ পরিবর্তন কিংবা রাস্তার পাশে অবৈধভাবে পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প গড়ে তুলে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করা হলে সেসব ক্ষেত্রেও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসিল্যান্ড অফিস নিয়ে বদলাচ্ছে মানুষের ধারণা
১৯৮৩ সালে মুরাদনগর উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উপজেলা ভূমি অফিস তথা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ভূমি রাজস্ব, সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, ভূমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তবে স্থানীয় অনেকের মতে, ভূমি অফিসের এসব দায়িত্ব ও এখতিয়ার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন তেমন সচেতনতা ছিল না। ফলে সরকারি জমি, রাস্তা, কৃষিজমি কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক ক্ষেত্রে সীমিত ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মুরাদনগরে ড্রেজারবিরোধী অভিযান, কৃষিজমি রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ‘এসিল্যান্ড অফিস শুধু ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্রের দপ্তর নয়—সরকারি সম্পত্তি ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।’
‘দখলদারদের কাছে যমদূত মুরাদনগরের এসিল্যান্ড সাকিব হাছান খাঁন’—স্থানীয়দের প্রশংসা
ড্রেজারবিরোধী অভিযান ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কৃষিজমি থেকে মাটি-বালু উত্তোলন, রাস্তা দখল কিংবা সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয়দের একাংশ বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে সরাসরি অভিযান এবং আইন প্রয়োগের কারণে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে।
কেউ কেউ তাঁকে রীতিমতো ‘ড্রেজার, ভূমিদখল ও সরকারি সম্পত্তি দখলদারদের জন্য যমদূত’ হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। তবে এটি স্থানীয়দের মন্তব্য; প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের বিশেষণে অভিহিত করা হয়নি।
কৃষিজমি বাঁচাতে এখনই কঠোর নজরদারি জরুরি
কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি বা বালু উত্তোলনের কারণে শুধু একটি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কৃষকের ভবিষ্যৎ আয়, জমির উৎপাদনক্ষমতা এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি বা টপ সয়েলই মূলত জৈব উপাদান ও উর্বরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করে। এ স্তর নির্বিচারে সরিয়ে ফেললে জমির উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে।
মুরাদনগরের মতো কৃষিনির্ভর এলাকায় তাই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, অভিযোগ যাচাই, দ্রুত আইন প্রয়োগ এবং অভিযানের পর পুনরায় একই স্থানে ড্রেজার বসানো হচ্ছে কি না—তা পর্যবেক্ষণ করা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রশাসনের অভিযান যেন বিচ্ছিন্ন কোনো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে। কৃষিজমি, সরকারি রাস্তা, খাসজমি, সরকারি স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বৈধ মালিকানাধীন জমি রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালিত হোক।
প্রশাসনের অভিযানকে স্বাগত, দাবি নিয়মিত অভিযানের
মুরাদনগরে সাম্প্রতিক অভিযানে একটি ড্রেজার ব্যবসায়ীকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড, একাধিক ড্রেজার ও বিপুল পরিমাণ পাইপ অপসারণ এবং সরকারি রাস্তা উদ্ধারের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ, সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত এবং সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, মুরাদনগরে অবৈধ ড্রেজিং ও ভূমিদখলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই কঠোর অভিযান যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়।
কারণ কৃষিজমি একবার ধ্বংস হলে শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি হয় না—ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতি। আর সরকারি রাস্তা ও সম্পত্তি দখল হলে ক্ষতি হয় জনগণের সম্পদের। তাই এসব রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কঠোর, নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিক ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
































