সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

“১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি, ১৯ জুলাই বিশ্বজয়—ইয়ামালের ভাগ্যের অবিশ্বাস্য মিল!”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম
স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল।

স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: এএফপি

১৯-এর মহাকাব্য! ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়, ১৯ নম্বর জার্সিতে ইতিহাস—ফুটবলের নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল

বিশ্বকাপ জিতে নতুন যুগের সূচনা, মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের বিস্ময়বালক; মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানবিকতারও অনন্য দৃষ্টান্ত

ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, একদিকে বিদায়ের বেদনায় অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল যা কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—বরং একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঠিক তেমনই একটি রাত।

অদ্ভুত এক কাকতালীয় মিল যেন ইতিহাসকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। ইয়ামালের বয়স ১৯ বছর, জার্সি নম্বর ১৯, আর বিশ্বকাপ জয়ের রাতও ১৯ জুলাই দিবাগত রাত। যেন সংখ্যাটিই তার ভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আরেকটি দৃশ্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মেতে থাকা ইয়ামাল হঠাৎ সতীর্থদের ছেড়ে এগিয়ে যান লিওনেল মেসির দিকে। দু’জনের সেই আলিঙ্গন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এটিকে আখ্যা দিয়েছেন—“এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের রাজদণ্ড হস্তান্তরের মুহূর্ত”।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগঘন দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে স্পেন ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। আর অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অনেকের ধারণা, এটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে তার শেষ ম্যাচ।

কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্তেই ইয়ামাল ছুটে যান নিজের শৈশবের আদর্শ মেসির কাছে। আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন দুজন। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

এই গল্পের শুরু ২০০৭ সালে

মেসি ও ইয়ামালের সম্পর্কের সূচনা অবশ্য বিশ্বকাপ ফাইনালে নয়। এর শুরু প্রায় দুই দশক আগে।

২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই সময় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ইয়ামালের পরিবার।

মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাথটাবে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন ২০ বছর বয়সী মেসি। পাশে ছিলেন ইয়ামালের মা শিলা এবানা।

সেই ছবিটি তখন হয়তো ছিল একটি সাধারণ ফটোশুট। কিন্তু প্রায় ১৯ বছর পর সেটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন স্মৃতিচারণ

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ম্যানহাটনে এক অনুষ্ঠানে মেসি সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন,

“আমি তার সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, যখন সে একেবারে শিশু ছিল। আর আজ আমরা দুজন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছি। সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

মেসি ইয়ামালের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রশংসা করলেও মাঠে তাকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের কাছে হার মানতে হয় কিংবদন্তিকে।

‘সিনেমার গল্প’ বলেও বিশ্বাস করা কঠিন

ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পুরো ঘটনাকে বলেছেন,

“এটি ভাগ্যের এক অলৌকিক ঘটনা। যদি কেউ এটি সিনেমার গল্প হিসেবে লিখত, মানুষ বিশ্বাস করত না।”

তিনি আরও বলেন, এতদিন ভাগ্যে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু এই ঘটনার পর তার নিজের বিশ্বাসও বদলে গেছে।

এআই ছবি মনে হয়েছিল সতীর্থেরও

স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো স্বীকার করেন, প্রথমবার সেই ছবি দেখে তার মনে হয়েছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি।

তার ভাষায়,

“ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের এমন একটি ছবি বাস্তব হতে পারে—প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি।”

বিশ্বজয়ের নায়ক, মানবতারও কণ্ঠস্বর

শুধু ফুটবল নয়, মানবিক অবস্থানের কারণেও আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল।

বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের পর ছাদখোলা বাসে শিরোপা উদযাপনের সময় তিনি ফিলিস্তিনের একটি বিশাল পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।

সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

গাজার ছাত্র মুহাম্মদ আকরাম লেখেন,

“কারও কাছে এটি একটি সাধারণ পতাকা হতে পারে। কিন্তু গাজায় আমাদের কাছে এটি আশার প্রতীক।”

কোচ ফ্লিকের সমর্থন

ইয়ামালের ফিলিস্তিনপ্রীতি নিয়ে বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেন,

“আমি তাকে বলেছি—এটি যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে সেটি তোমার অধিকার।”

ইনস্টাগ্রামে ৪ কোটিরও বেশি অনুসারী থাকা ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকাসহ পোস্টটি কয়েক মিলিয়ন লাইক পায়।

গাজা থেকেও ভালোবাসা

ফিলিস্তিনি লেখক মোসাব আবু তোহা মন্তব্য করেন,

“আমরা তোমাকে ভালোবাসি, গাজা থেকে।”

আরেক শিক্ষার্থী হাইথাম আল-মাসরি লেখেন,

“মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাদের চোখে জল এনে দিয়েছে।”

বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার

মরক্কো থেকে আসা এক মুসলিম বাবার সন্তান ইয়ামাল।

তিনি স্পেনে ইসলামবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

মিসরের বিপক্ষে এক ম্যাচে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান উঠলে ইয়ামাল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,

“আমি একজন মুসলিম। এটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে বলা না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি আমার কাছে অসম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।”

মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি?

বার্সেলোনায় এখন মেসির কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সিই পরেন ইয়ামাল।

একই পজিশনে খেলার কারণে তাদের তুলনা দীর্ঘদিনের।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম বলেন,

“মেসির সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। তবে আমি যত খেলোয়াড় দেখেছি, ইয়ামালই মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি।”

ফাইনালে গোল না করেও ম্যাচের অন্যতম সেরা

ফাইনালে গোলের খাতায় নাম তুলতে না পারলেও ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।

ডানপ্রান্তে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। বল পেলেই মনে হচ্ছিল যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেবেন।

ইউরো থেকে বিশ্বকাপ—রেকর্ডের পর রেকর্ড

ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর এবার বিশ্বকাপও জিতলেন ইয়ামাল।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপ ও বিশ্ব—দুই মঞ্চেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন তিনি।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শুরু থেকেই তাকে নিজের মতো খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছেন ইয়ামাল।

মেসির অপূর্ণ বিদায়

এই বিশ্বকাপ জিতলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিদায় নিতে পারতেন লিওনেল মেসি।

এর আগে ২০০৭ কোপা আমেরিকা, ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের বেদনা তাকে বহন করতে হয়েছে।

২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসর নিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে লিওনেল স্কালোনির অধীনে জেতেন দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।

কিন্তু এবার আর স্বপ্নপূরণ হলো না।

নতুন যুগের সূচনা

ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন পরাজিত মেসি নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়ামালকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, তখন ২০০৭ সালের সেই বাথটাবের ছবিটি যেন নতুন অর্থ পেল।

যে শিশুকে একদিন কোলে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বের নতুন নক্ষত্র।

সময়ের স্রোতে হয়তো ইয়ামাল একদিন মেসির সব রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন কি না, সেটি ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম, সবচেয়ে আলোচিত তরুণ এবং মেসির উত্তরাধিকার বহনের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে লামিন ইয়ামাল

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

শূন্যরেখায় বিজিবির কড়া পাহারা

কুমিল্লা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ ৪ ভারতীয়

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
কুমিল্লা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ ৪ ভারতীয়

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদানদী সীমান্ত দিয়ে নারী ও তিন শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।

বিজিবি সূত্র জানায়, সালদানদী সীমান্ত ফাঁড়ির টহলরত সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে এক নারী ও তিন শিশুকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখেন। যাচাই-বাছাইয়ে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বলে নিশ্চিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।

৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং চোরাচালান রোধে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

শত আঘাতের পরও অপরাজিত: আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত বাংলাদেশের নির্ভীক কলমযোদ্ধা

আজকের কথা ডেস্ক, বিশেষ প্রতিবেদন : প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
শত আঘাতের পরও অপরাজিত: আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত বাংলাদেশের নির্ভীক কলমযোদ্ধা

‘সীমানা পেরিয়ে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতলেন লড়াকু সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী’

মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী অপরাজিত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় স্বীকৃতি—গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থেকে উঠে আসা এই সাহসী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে যেমন কুড়িয়েছেন প্রশংসা, তেমনই হয়েছেন বারবার নৃশংস হামলার শিকার।
দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন:

দীর্ঘ ২৭ বছরের সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
  • বর্তমান ব্যস্ততা: বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘লন্ডন বাংলা’ পত্রিকার কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
  • মিডিয়া এন্টারপ্রেনার ও সম্পাদক: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সফল মিডিয়া উদ্যোক্তা। তিনি দেশের পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কথা এবং ইংরেজি নিউজ পোর্টাল Joy Banglar Joy (joybanglarjoy.com)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।
  • অথময় অভিজ্ঞতা: এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গণমাধ্যম—গ্লোবাল টেলিভিশন, সমকাল, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, মানবকণ্ঠ এবং সংবাদ সংস্থা এফএনএস (FNS)-এ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি: ‘BGC Star Award 2026’

সাংবাদিকতায় অনবদ্য ও বস্তুনিষ্ঠ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন শরিফুল আলম চৌধুরী। ভারতের হায়দরাবাদে জমকালো এক অনুষ্ঠানে তাকে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ‘BGC Star Award 2026’ পদকে ভূষিত করা হয়। পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের অনারারি কনসালসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসা ও সমাজবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সত্য প্রকাশের মূল্য: বারবার নৃশংস হামলার শিকার

তৃণমূলের সাহসী এই সাংবাদিককে সত্য প্রকাশের জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে। স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় তিনি একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন:
  • ২০২০ সালের হামলা: মুরাদনগরের স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে ২০২০ সালের ৪ জুলাই তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে প্রায় মৃতাবস্থায় ফেলে রাখা হয়। সে সময় তার ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (IFJ) তীব্র নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আওয়াজ তোলে।
  • ২০২৫ সালের আদালত প্রাঙ্গণে হামলা: এই লড়াকু সাংবাদিকের ওপর আবারো নৃশংসতা নেমে আসে ২০২৫ সালের ১২ মে। কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে একটি আইনি প্রতিবেদন কাভার করার সময় একদল অজ্ঞাত হামলাকারী তার ওপর আবারো চড়াও হয়। এই হামলায় তার ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

অদম্য এক কলমযোদ্ধা

একাধিক অস্ত্রোপচার, শারীরিক পঙ্গুত্ব এবং নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। আজ পর্যন্ত তিনি তার মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীন এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি এক অবিচল ও অদম্য কলমযোদ্ধার প্রতীক।

ভাতা বন্ধ, কার্ডের রহস্য

১০ বছর ভাতা, এরপর কার্ড হটাৎ উধাও! বিপাকে ৮০ বছরের অসহায় বৃদ্ধা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১ এএম
১০ বছর ভাতা, এরপর কার্ড হটাৎ উধাও! বিপাকে ৮০ বছরের অসহায় বৃদ্ধা

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক অসহায় বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কারণে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী সাহেরা বেগম।

ভুক্তভোগী সাহেরা বেগম উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। স্বামী ও কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের স্বামীও মারা যাওয়ায় পরিবার থেকেও তেমন সহযোগিতা পান না।

সাহেরা বেগম জানান, ২০১০ সালে তৎকালীন ইউপি সদস্য রঞ্জু মেম্বার তার নামে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন। প্রায় ১০ বছর নিয়মিত ভাতা পেলেও ২০২০ সালে নতুন ইউপি সদস্য দায়িত্ব নেওয়ার পর হঠাৎ করেই তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

তার ভাষ্য, “জাহাঙ্গীর মেম্বার আমার কার্ড নিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো ভাতা পাইনি। অনেকবার বলেছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃদ্ধার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে তার ভাতার কার্ডটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, “জাহাঙ্গীর মেম্বার সাহেরা বেগমের ভাতার কার্ড নিয়েছেন—এ তথ্য সঠিক। তবে তিনি কার্ডটি কী করেছেন, তা আমার জানা নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় এক দশক সরকারি বয়স্ক ভাতা পাওয়ার পর হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় ৮০ বছর বয়সী সাহেরা বেগমের ভাতা। অভিযোগ, তার বয়স্ক ভাতার কার্ডটি সাবেক এক ইউপি সদস্যের কাছে চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এদিকে মুরাদনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে সাহেরা বেগমের নামে বর্তমানে কোনো সক্রিয় বয়স্ক ভাতার কার্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার ধারণা, ২০২০ সালে কার্ডটি অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সাহেরা বেগমকে পুনরায় বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

×
CLOSE X