সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

“১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি, ১৯ জুলাই বিশ্বজয়—ইয়ামালের ভাগ্যের অবিশ্বাস্য মিল!”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম
স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল।

স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: এএফপি

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়, ১৯ নম্বর জার্সিতে ইতিহাস—ফুটবলের নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপ জিতে নতুন যুগের সূচনা, মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের বিস্ময়বালক; মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানবিকতারও অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, একদিকে বিদায়ের বেদনায় অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল।
  • যা কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—বরং একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে।
  • ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঠিক তেমনই একটি রাত।

১৯-এর মহাকাব্য! ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়, ১৯ নম্বর জার্সিতে ইতিহাস—ফুটবলের নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল

বিশ্বকাপ জিতে নতুন যুগের সূচনা, মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের বিস্ময়বালক; মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানবিকতারও অনন্য দৃষ্টান্ত

ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, একদিকে বিদায়ের বেদনায় অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। যা কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—বরং একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঠিক তেমনই একটি রাত।

অদ্ভুত এক কাকতালীয় মিল যেন ইতিহাসকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। ইয়ামালের বয়স ১৯ বছর, জার্সি নম্বর ১৯, আর বিশ্বকাপ জয়ের রাতও ১৯ জুলাই দিবাগত রাত। যেন সংখ্যাটিই তার ভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আরেকটি দৃশ্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মেতে থাকা ইয়ামাল হঠাৎ সতীর্থদের ছেড়ে এগিয়ে যান লিওনেল মেসির দিকে। দু’জনের সেই আলিঙ্গন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এটিকে আখ্যা দিয়েছেন—“এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের রাজদণ্ড হস্তান্তরের মুহূর্ত”।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগঘন দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে স্পেন ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। আর অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অনেকের ধারণা, এটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে তার শেষ ম্যাচ।

কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্তেই ইয়ামাল ছুটে যান নিজের শৈশবের আদর্শ মেসির কাছে। আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন দুজন। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

এই গল্পের শুরু ২০০৭ সালে

মেসি ও ইয়ামালের সম্পর্কের সূচনা অবশ্য বিশ্বকাপ ফাইনালে নয়। এর শুরু প্রায় দুই দশক আগে।

২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই সময় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ইয়ামালের পরিবার।

মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাথটাবে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন ২০ বছর বয়সী মেসি। পাশে ছিলেন ইয়ামালের মা শিলা এবানা।

সেই ছবিটি তখন হয়তো ছিল একটি সাধারণ ফটোশুট। কিন্তু প্রায় ১৯ বছর পর সেটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন স্মৃতিচারণ

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ম্যানহাটনে এক অনুষ্ঠানে মেসি সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন,

“আমি তার সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, যখন সে একেবারে শিশু ছিল। আর আজ আমরা দুজন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছি। সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

মেসি ইয়ামালের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রশংসা করলেও মাঠে তাকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের কাছে হার মানতে হয় কিংবদন্তিকে।

‘সিনেমার গল্প’ বলেও বিশ্বাস করা কঠিন

ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পুরো ঘটনাকে বলেছেন,

“এটি ভাগ্যের এক অলৌকিক ঘটনা। যদি কেউ এটি সিনেমার গল্প হিসেবে লিখত, মানুষ বিশ্বাস করত না।”

তিনি আরও বলেন, এতদিন ভাগ্যে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু এই ঘটনার পর তার নিজের বিশ্বাসও বদলে গেছে।

এআই ছবি মনে হয়েছিল সতীর্থেরও

স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো স্বীকার করেন, প্রথমবার সেই ছবি দেখে তার মনে হয়েছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি।

তার ভাষায়,

“ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের এমন একটি ছবি বাস্তব হতে পারে—প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি।”

বিশ্বজয়ের নায়ক, মানবতারও কণ্ঠস্বর

শুধু ফুটবল নয়, মানবিক অবস্থানের কারণেও আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল।

বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের পর ছাদখোলা বাসে শিরোপা উদযাপনের সময় তিনি ফিলিস্তিনের একটি বিশাল পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।

সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

গাজার ছাত্র মুহাম্মদ আকরাম লেখেন,

“কারও কাছে এটি একটি সাধারণ পতাকা হতে পারে। কিন্তু গাজায় আমাদের কাছে এটি আশার প্রতীক।”

কোচ ফ্লিকের সমর্থন

ইয়ামালের ফিলিস্তিনপ্রীতি নিয়ে বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেন,

“আমি তাকে বলেছি—এটি যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে সেটি তোমার অধিকার।”

ইনস্টাগ্রামে ৪ কোটিরও বেশি অনুসারী থাকা ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকাসহ পোস্টটি কয়েক মিলিয়ন লাইক পায়।

গাজা থেকেও ভালোবাসা

ফিলিস্তিনি লেখক মোসাব আবু তোহা মন্তব্য করেন,

“আমরা তোমাকে ভালোবাসি, গাজা থেকে।”

আরেক শিক্ষার্থী হাইথাম আল-মাসরি লেখেন,

“মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাদের চোখে জল এনে দিয়েছে।”

বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার

মরক্কো থেকে আসা এক মুসলিম বাবার সন্তান ইয়ামাল।

তিনি স্পেনে ইসলামবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

মিসরের বিপক্ষে এক ম্যাচে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান উঠলে ইয়ামাল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,

“আমি একজন মুসলিম। এটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে বলা না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি আমার কাছে অসম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।”

মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি?

বার্সেলোনায় এখন মেসির কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সিই পরেন ইয়ামাল।

একই পজিশনে খেলার কারণে তাদের তুলনা দীর্ঘদিনের।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম বলেন,

“মেসির সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। তবে আমি যত খেলোয়াড় দেখেছি, ইয়ামালই মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি।”

ফাইনালে গোল না করেও ম্যাচের অন্যতম সেরা

ফাইনালে গোলের খাতায় নাম তুলতে না পারলেও ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।

ডানপ্রান্তে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। বল পেলেই মনে হচ্ছিল যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেবেন।

ইউরো থেকে বিশ্বকাপ—রেকর্ডের পর রেকর্ড

ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর এবার বিশ্বকাপও জিতলেন ইয়ামাল।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপ ও বিশ্ব—দুই মঞ্চেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন তিনি।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শুরু থেকেই তাকে নিজের মতো খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছেন ইয়ামাল।

মেসির অপূর্ণ বিদায়

এই বিশ্বকাপ জিতলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিদায় নিতে পারতেন লিওনেল মেসি।

এর আগে ২০০৭ কোপা আমেরিকা, ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের বেদনা তাকে বহন করতে হয়েছে।

২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসর নিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে লিওনেল স্কালোনির অধীনে জেতেন দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।

কিন্তু এবার আর স্বপ্নপূরণ হলো না।

নতুন যুগের সূচনা

ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন পরাজিত মেসি নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়ামালকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, তখন ২০০৭ সালের সেই বাথটাবের ছবিটি যেন নতুন অর্থ পেল।

যে শিশুকে একদিন কোলে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বের নতুন নক্ষত্র।

সময়ের স্রোতে হয়তো ইয়ামাল একদিন মেসির সব রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন কি না, সেটি ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম, সবচেয়ে আলোচিত তরুণ এবং মেসির উত্তরাধিকার বহনের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে লামিন ইয়ামাল।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG