শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

“১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি, ১৯ জুলাই বিশ্বজয়—ইয়ামালের ভাগ্যের অবিশ্বাস্য মিল!”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম
স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল।

স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: এএফপি

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়, ১৯ নম্বর জার্সিতে ইতিহাস—ফুটবলের নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপ জিতে নতুন যুগের সূচনা, মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের বিস্ময়বালক; মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানবিকতারও অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, একদিকে বিদায়ের বেদনায় অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল।
  • যা কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—বরং একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে।
  • ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঠিক তেমনই একটি রাত।

১৯-এর মহাকাব্য! ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়, ১৯ নম্বর জার্সিতে ইতিহাস—ফুটবলের নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল

বিশ্বকাপ জিতে নতুন যুগের সূচনা, মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের বিস্ময়বালক; মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানবিকতারও অনন্য দৃষ্টান্ত

ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, একদিকে বিদায়ের বেদনায় অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল যা কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—বরং একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঠিক তেমনই একটি রাত।

অদ্ভুত এক কাকতালীয় মিল যেন ইতিহাসকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। ইয়ামালের বয়স ১৯ বছর, জার্সি নম্বর ১৯, আর বিশ্বকাপ জয়ের রাতও ১৯ জুলাই দিবাগত রাত। যেন সংখ্যাটিই তার ভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আরেকটি দৃশ্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মেতে থাকা ইয়ামাল হঠাৎ সতীর্থদের ছেড়ে এগিয়ে যান লিওনেল মেসির দিকে। দু’জনের সেই আলিঙ্গন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এটিকে আখ্যা দিয়েছেন—“এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের রাজদণ্ড হস্তান্তরের মুহূর্ত”।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগঘন দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে স্পেন ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। আর অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অনেকের ধারণা, এটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে তার শেষ ম্যাচ।

কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্তেই ইয়ামাল ছুটে যান নিজের শৈশবের আদর্শ মেসির কাছে। আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন দুজন। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

এই গল্পের শুরু ২০০৭ সালে

মেসি ও ইয়ামালের সম্পর্কের সূচনা অবশ্য বিশ্বকাপ ফাইনালে নয়। এর শুরু প্রায় দুই দশক আগে।

২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই সময় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ইয়ামালের পরিবার।

মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাথটাবে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন ২০ বছর বয়সী মেসি। পাশে ছিলেন ইয়ামালের মা শিলা এবানা।

সেই ছবিটি তখন হয়তো ছিল একটি সাধারণ ফটোশুট। কিন্তু প্রায় ১৯ বছর পর সেটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন স্মৃতিচারণ

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ম্যানহাটনে এক অনুষ্ঠানে মেসি সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন,

“আমি তার সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, যখন সে একেবারে শিশু ছিল। আর আজ আমরা দুজন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছি। সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

মেসি ইয়ামালের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রশংসা করলেও মাঠে তাকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের কাছে হার মানতে হয় কিংবদন্তিকে।

‘সিনেমার গল্প’ বলেও বিশ্বাস করা কঠিন

ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পুরো ঘটনাকে বলেছেন,

“এটি ভাগ্যের এক অলৌকিক ঘটনা। যদি কেউ এটি সিনেমার গল্প হিসেবে লিখত, মানুষ বিশ্বাস করত না।”

তিনি আরও বলেন, এতদিন ভাগ্যে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু এই ঘটনার পর তার নিজের বিশ্বাসও বদলে গেছে।

এআই ছবি মনে হয়েছিল সতীর্থেরও

স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো স্বীকার করেন, প্রথমবার সেই ছবি দেখে তার মনে হয়েছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি।

তার ভাষায়,

“ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের এমন একটি ছবি বাস্তব হতে পারে—প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি।”

বিশ্বজয়ের নায়ক, মানবতারও কণ্ঠস্বর

শুধু ফুটবল নয়, মানবিক অবস্থানের কারণেও আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল।

বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের পর ছাদখোলা বাসে শিরোপা উদযাপনের সময় তিনি ফিলিস্তিনের একটি বিশাল পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।

সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

গাজার ছাত্র মুহাম্মদ আকরাম লেখেন,

“কারও কাছে এটি একটি সাধারণ পতাকা হতে পারে। কিন্তু গাজায় আমাদের কাছে এটি আশার প্রতীক।”

কোচ ফ্লিকের সমর্থন

ইয়ামালের ফিলিস্তিনপ্রীতি নিয়ে বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেন,

“আমি তাকে বলেছি—এটি যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে সেটি তোমার অধিকার।”

ইনস্টাগ্রামে ৪ কোটিরও বেশি অনুসারী থাকা ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকাসহ পোস্টটি কয়েক মিলিয়ন লাইক পায়।

গাজা থেকেও ভালোবাসা

ফিলিস্তিনি লেখক মোসাব আবু তোহা মন্তব্য করেন,

“আমরা তোমাকে ভালোবাসি, গাজা থেকে।”

আরেক শিক্ষার্থী হাইথাম আল-মাসরি লেখেন,

“মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাদের চোখে জল এনে দিয়েছে।”

বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার

মরক্কো থেকে আসা এক মুসলিম বাবার সন্তান ইয়ামাল।

তিনি স্পেনে ইসলামবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

মিসরের বিপক্ষে এক ম্যাচে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান উঠলে ইয়ামাল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,

“আমি একজন মুসলিম। এটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে বলা না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি আমার কাছে অসম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।”

মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি?

বার্সেলোনায় এখন মেসির কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সিই পরেন ইয়ামাল।

একই পজিশনে খেলার কারণে তাদের তুলনা দীর্ঘদিনের।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম বলেন,

“মেসির সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। তবে আমি যত খেলোয়াড় দেখেছি, ইয়ামালই মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি।”

ফাইনালে গোল না করেও ম্যাচের অন্যতম সেরা

ফাইনালে গোলের খাতায় নাম তুলতে না পারলেও ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।

ডানপ্রান্তে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। বল পেলেই মনে হচ্ছিল যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেবেন।

ইউরো থেকে বিশ্বকাপ—রেকর্ডের পর রেকর্ড

ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর এবার বিশ্বকাপও জিতলেন ইয়ামাল।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপ ও বিশ্ব—দুই মঞ্চেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন তিনি।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শুরু থেকেই তাকে নিজের মতো খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছেন ইয়ামাল।

মেসির অপূর্ণ বিদায়

এই বিশ্বকাপ জিতলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিদায় নিতে পারতেন লিওনেল মেসি।

এর আগে ২০০৭ কোপা আমেরিকা, ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের বেদনা তাকে বহন করতে হয়েছে।

২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসর নিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে লিওনেল স্কালোনির অধীনে জেতেন দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।

কিন্তু এবার আর স্বপ্নপূরণ হলো না।

নতুন যুগের সূচনা

ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন পরাজিত মেসি নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়ামালকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, তখন ২০০৭ সালের সেই বাথটাবের ছবিটি যেন নতুন অর্থ পেল।

যে শিশুকে একদিন কোলে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বের নতুন নক্ষত্র।

সময়ের স্রোতে হয়তো ইয়ামাল একদিন মেসির সব রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন কি না, সেটি ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম, সবচেয়ে আলোচিত তরুণ এবং মেসির উত্তরাধিকার বহনের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে লামিন ইয়ামাল

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

রেলসেবা সংকটে দুর্ভোগে স্বল্প আয়ের মানুষ---

কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ বছরে বন্ধ ১২ ট্রেন, সড়কে বাড়ছে যাত্রীচাপ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ বছরে বন্ধ ১২ ট্রেন, সড়কে বাড়ছে যাত্রীচাপ

কখনো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সারি, কখনো লোকাল ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই—কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথে একসময় এমন দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে লোকাল ও কমিউটার ট্রেন ছিল কম খরচে যাতায়াতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে একের পর এক ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লা অঞ্চলের রেল যোগাযোগে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট। গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে। আর গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা আগে অল্প খরচে ট্রেনে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন, তাদের এখন বাধ্য হয়ে বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে যেমন বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়, তেমনি সড়কপথে বাড়ছে যাত্রীচাপ।

রেলওয়ের প্রকাশিত নথিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-নোয়াখালী রুটে কমিউটার ট্রেনের সেবা ও সময়সূচির তথ্য থাকলেও বাস্তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা না থাকায় যাত্রীদের ভরসা করতে হচ্ছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল সড়ক পরিবহনের ওপর।

স্থানীয় যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, চাঁদপুর-ভৈরব লোকাল ১৬১/১৬২, নোয়াখালী-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, নোয়াখালী-ঢাকা রুটের নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১১/১২, সমতট এক্সপ্রেস ৪৫/৪৬, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ৩৭/৩৮, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের জালালাবাদ এক্সপ্রেস ১৩/১৪ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা রুটের দুই জোড়া ডেমু ট্রেন।

২০২৪ সালে কুমিল্লা অঞ্চলের রেল সংকট নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ট্রেন ও জনবল সংকটের কথা বলা হয়েছিল। নতুন ইঞ্জিন আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথাও তখন উল্লেখ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা ফেরেনি।

প্রশ্ন উঠছে—ইঞ্জিন ও কোচের সংকট যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে স্বল্প দূরত্বের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ট্রেনসেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?

একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বা কোচ নষ্ট হলে তা মেরামত করা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দিনের পর দিন কোনো রুটের ট্রেন বন্ধ থাকলে বিষয়টি কেবল যান্ত্রিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন রেল ব্যবস্থাপনার তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

লোকাল ট্রেন বন্ধের সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। একজন শ্রমিক বা দিনমজুরের প্রতিদিনের কয়েক টাকা অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। ট্রেনে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে এখন তাদের সড়কপথে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানজট, অতিরিক্ত ভিড় ও যাত্রার অনিশ্চয়তা। কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন এক জেলা থেকে অন্য জেলা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরমুখী হন। তাদের বড় একটি অংশের জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রয়োজন।

দৈনিক আজকের কথা
আগে ট্রেনে কম খরচে যাতায়াত করতে পারলেও এখন সড়কপথে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যানজট ও অতিরিক্ত ভোগান্তিও রয়েছে।
— হোসনেয়ারা বেগম
এনজিওকর্মী, শালমানপুর- কুমিল্লা।

লোকাল একটি ট্রেন বন্ধ হলে একসঙ্গে কয়েকশ বা কয়েক হাজার যাত্রীকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রেল থেকে সড়কে যাত্রী স্থানান্তরের কারণে বাসসহ অন্যান্য সড়ক পরিবহনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

দৈনিক আজকের কথা
রেলের একটি ট্রেন বন্ধের প্রভাব শুধু রেলযাত্রীর ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর চাপ গিয়ে পড়ে পুরো সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে কুমিল্লা ও লাকসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে রেল ও সড়ক দুই মাধ্যমের সমন্বিত ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক, দৈনিক আজকের কথা।

তিনি আরও বলেন, রেলের সক্ষমতা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে যানজট, যাত্রার সময় ও মানুষের পরিবহন ব্যয় তিনটিই বাড়তে পারে।

কুমিল্লা জেলার লাকসাম জংশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ইঞ্জিন ও কোচ প্রস্তুত না থাকার কথা উল্লেখ করেন।

লাকসাম জংশন কুমিল্লার সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, “অতীতের তুলনায় রেলযাত্রী বাড়লেও রেলের সক্ষমতা বাড়েনি। অতীতে যখন ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ছিল, তখনও ট্রেন চলেছে। এখন ঝুঁকিমুক্ত রেলপথ তৈরি হয়েছে, অথচ ট্রেন নেই। রেলপথের ব্যবহার না করেই এর সক্ষমতা হারাচ্ছে।”

রেল যোগাযোগের সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে সড়কপথে। এতে একদিকে যাত্রীদের ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সড়ক পরিবহনের ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রেল সংকট নিরসনে বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালু, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন-কোচের ব্যবস্থা এবং জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা

কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ পিএম
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮

কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দরিয়াপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
— আশরাফ উদ্দিন
উপপরিদর্শক, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা, কুমিল্লা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা আটজন যাত্রী আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সুমন মিয়া বলেন, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে পানিতে একটি বাস পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তবে আহতদের কেউ গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না বলে তিনি জানান।

বাসের যাত্রী কক্সবাজারের নাদিম আহমেদ বলেন, চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং সেটি খাদে পড়ে যায়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছে।

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ

অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে বনদস্যুরা

সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

দৈনিক আজকের কথা
বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
— লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন
মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড জানায়, ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আগের মতো দস্যুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ সক্রিয় ডাকাত সদস্য এর আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। এছাড়া আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারী এসব সদস্য দীর্ঘদিন ধরে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

“জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

তিনি সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

“আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে দীর্ঘদিনের দস্যুতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
ENG