শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫; মহাসড়ক অবরোধ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
দেবীদ্বারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫; মহাসড়ক অবরোধ

দেবীদ্বারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫; মহাসড়ক অবরোধ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফুটবল খেলায় গোল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
  • এ ঘটনার জেরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা।
  • পরে পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফুটবল খেলায় গোল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জেরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলার কালিকাপুর সমাজকল্যাণ যুব সংঘ আয়োজিত ‘ফ্রিজ-টিভি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলার শেষ পর্যায়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফাইনালে উপজেলার ভিরাল্লা ও আলিয়াবাদ দল অংশ নেয়।

দৈনিক আজকের কথা
ডিআইজি স্যার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন। আমরা ফুলগাছতলা এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করছিলাম। পরে জানতে পারি, ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
— তাপস দাস
ট্রাফিক সহকারী সার্জেন্ট, দেবীদ্বার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেলার প্রথমার্ধে ভিরাল্লা গোল করে এগিয়ে যায়। পরে আলিয়াবাদ গোল করে খেলায় সমতা ফেরায়। এ সময় গোল নিয়ে ভিরাল্লার সমর্থক তুহিন ও আলিয়াবাদের সমর্থক জসিমের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা উভয় পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে, ভিরাল্লার সমর্থকদের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর তাদের দুটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন আটকে রাখা হয়। এছাড়া একটি পিকআপ ভ্যানের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে আলিয়াবাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর ভিরাল্লার কয়েকজন সমর্থক কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভিরাল্লা অংশে গাছ ফেলে অবরোধ করেন।

দৈনিক আজকের কথা
এ ঘটনায় এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আরেক পক্ষও অভিযোগ নিয়ে আসছে বলে শুনেছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক অবরোধের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া অবরোধ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাস এবং স্থানীয় মুরব্বিদের সহযোগিতায় অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মো. শান্ত (২৮), মো. তুহিন (৩৭), মো. লিটন (২৫), মো. রাব্বি (২৭) ও মো. সাব্বির হোসেন (২৪) দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দেবীদ্বারে দায়িত্বরত ট্রাফিক সহকারী সার্জেন্ট তাপস দাস বলেন, “ডিআইজি স্যার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন। আমরা ফুলগাছতলা এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করছিলাম। পরে জানতে পারি, ভিরাল্লা এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।”

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আরেক পক্ষও অভিযোগ নিয়ে আসছে বলে শুনেছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক অবরোধের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ যুবক আটক, পুলিশের কাছে সোপর্দ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ যুবক আটক, পুলিশের কাছে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে মো. শিপন মিয়া (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে।

শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেরপুকুরপাড় গ্রামের আবুল হাসেমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আটক শিপন মিয়া ওই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে।

দৈনিক আজকের কথা
স্থানীয়রা মো. শিপন মিয়াকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে শিপন মিয়া ইয়াবা বিক্রি করছেন—এমন খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় তাকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাত্রিকালীন টহলে থাকা দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাঁধন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ জানায়, পরে শিপন মিয়ার দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভালো থেকো, তোমার মতো করে

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ভালো থেকো, তোমার মতো করে

ভালো থেকো

আলেয়া মান্নান

আমি চাই আমাকে যেনো কখনো মনে না পড়ে।
পৃথিবীর সকল সুখ যেনো তোমায় রাখে ঘিরে।
নিস্তব্ধতায় তুমি ছিলে, নিঃসঙ্গতায় পাশে রবে।
আমি যখন শূন্যতায় থাকবো ভবে।

উদাস মনে চলা তোমার, মন রয় না ঘরে।
আমি অতিষ্ঠ এই বিড়ম্বনার শিকারে,
চলে এলাম আমি কাখৈই পাড়ার চরে।
ভালো থেকো তুমি, পিছু নাহি ফিরে।
সুখ যেন বসত করে তোমার জীবন নীড়ে।

চাই আমি প্রতিটা মুহূর্তগুলো।
বিধাতা যেনো তোমায় রাখে ভালো।
পৃথিবীর সকল সুখে তুমি সুখী হও।
বলবো না আমার অন্ধকারে তুমি আলো জ্বালাও।
ভালো থেকো তোমার মতো করে।
ফিরব না আমি এই জীবনের তরে।

মনের আকাশে মেঘেদের ভিড় হলো।
মাঝেমাঝে বিজলির চমকায় আলো।
ঝরেপড়া বৃষ্টির ধারাগুলো।
মনের আকাশ ভীষণ কালো।

আমি চাই কখনো যেনো আমাকে মনে না পড়ে।
পৃথিবীর সকল সুখ যেনো তোমায় রাখে ঘিরে।

কবি পরিচিতি

আলেয়া মান্নান
পিতা: মরহুম ইমাম হোসাইন
মাতা: মোসা. জুবাইদা খাতুন
জন্মস্থান: নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা।

কবি আলেয়া মান্নান ভ্রমণপ্রিয়। শৈশব কেটেছে দুরন্তপনায়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী ও জীবনসংগ্রামী হিসেবে নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন।

তাঁর লেখা ৩০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। ‘ভালো থেকো’ কবিতাটি তাঁর একটি অপ্রকাশিত রচনা।

দেবীদ্বারে জন্মসনদ কাণ্ড

মুরাদনগরের দারোরা ইউনিয়নের সচিব নজরুল সাময়িক বরখাস্ত

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
মুরাদনগরের দারোরা ইউনিয়নের সচিব নজরুল সাময়িক বরখাস্ত

দেবীদ্বারে তিন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ: জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত সচিব মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থাকাকালে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের নামে আইনবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ সৃজনসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশটির স্মারক নম্বর ০৫.২০.১৯০০.০০০.০০৯.৪০.০০০৮.২৬-৮৫১। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, ঢাকার ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখের পত্রের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক বিষয়টি তদন্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা—বর্তমানে মুরাদনগর উপজেলার দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত—মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করে উপযুক্ত প্রমাণক ব্যতীত ফতেহাবাদ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণকারী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নন এমন তিন ব্যক্তির অনুকূলে আইনবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ সৃজনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্তে যে তিনজনের জন্মসনদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—মুবিনা খাতুন, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ও হাফিছা। অফিস আদেশে তাঁদের জন্মসনদ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর, সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে কী বলা হয়েছে

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪(ক), (খ), (চ) উপবিধিতে বর্ণিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বিধিমালার ৪০(১) অনুযায়ী মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আদেশের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন বিধিমোতাবেক খোরপোষভাতা প্রাপ্য হবেন তিনি। তৃতীয় দফায় এ আদেশ তাঁর চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে আদেশ

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো সাধারণ অভিযোগপত্র নয়; কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। চিঠিতে জেলা প্রশাসকের নাম, পদবি, কুমিল্লা এবং সরকারি যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে।

অফিস আদেশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ; কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ; রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন); পরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম বিভাগ; উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুরাদনগর/দেবীদ্বার; সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং মো. নজরুল ইসলামের কাছেও। অর্থাৎ বর্তমানে তিনি যে দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা জন্মসনদ কাণ্ডে তদন্তের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা

এর আগে অভিযোগ ওঠে, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে মো. সালাউদ্দিন রুহুলের সময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের নামে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়। অভিযোগটি নিয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

প্রথমে বিষয়টি তিনজনের জন্মনিবন্ধনকে কেন্দ্র করে সামনে এলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে ওই ইউনিয়নে আরও বেশ কিছু সন্দেহজনক জন্মনিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যাওয়ার দাবি ওঠে। তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক অফিস আদেশে তদন্তে প্রমাণিত হিসেবে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ওই তিন ব্যক্তির জন্মসনদ এবং সচিবের ইউজার আইডি-পাসওয়ার্ড অন্যের কাছে হস্তান্তরসহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ।

‘পাসওয়ার্ড অন্যকে দিয়েছিলেন’—সচিবের আগের বক্তব্য

এর আগে মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, তিনি ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটিতে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই সময়ে তাঁর পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব কাজ করেছিলেন এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারের অনুরোধে তাঁকে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছিল।

তবে জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও তদন্তে প্রমাণিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইউপি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো জন্মনিবন্ধনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেননি। ফলে জন্মনিবন্ধনগুলো কার মাধ্যমে, কীভাবে এবং কার নির্দেশনায় তৈরি হয়েছিল—এ প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিতর্কিত জন্মনিবন্ধন ইস্যুতে তদন্ত শেষে যে সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনি বর্তমানে মুরাদনগরের ১৯ নম্বর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই আদেশের পর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

×
ENG