নীরব যন্ত্রণায় শব্দের জন্ম
রাতের নীরবতায় কবিতার জন্ম, প্রকাশের অপেক্ষায় আলেয়া মান্নানের শতাধিক কবিতা

কবি আলেয়া মান্নান—সংসার, চাকরি ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলে রাতের নীরবতায় কবিতার জগতে বিচরণ করছেন। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
সংসার, সন্তান ও চাকরির ব্যস্ততার ফাঁকে কলমই যার নীরব সঙ্গী; জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে ১৬টি কবিতা
সারাদিনের ব্যস্ততা। চাকরির দায়িত্ব, সংসারের নানা কাজ, সন্তানদের নিয়ে ভাবনা—সবকিছু সামলে যখন চারপাশ ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসে, তখনই যেন অন্য এক জগৎ খুলে যায় কবি আলেয়া মান্নানের সামনে। দিনের ব্যস্ততায় যে কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না, যে ভাবনাগুলো মনের ভেতর জমে থাকে, রাতের নির্জনতায় সেগুলোই কখনো শব্দ হয়ে আসে, কখনো ছন্দ হয়ে কাগজে জায়গা করে নেয়।
এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কবিতা লিখে চলেছেন কবি আলেয়া মান্নান। জীবনের ব্যস্ততা তাকে কলম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। বরং দায়িত্বের ফাঁকে পাওয়া নির্জন সময়টুকুই হয়ে উঠেছে তার সৃষ্টিশীলতার অন্যতম আশ্রয়।
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সন্তান কবি আলেয়া মান্নান। জন্ম ১৯৮৮ সালে। তার পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করছেন।

জীবনের ব্যস্ততা ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও কবিতাই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আমার অপ্রকাশিত লেখাগুলো একদিন পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছাবে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
ছোটবেলা থেকেই নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা আলেয়া মান্নানের জীবনে পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছে সংসার, সন্তান, চাকরি ও নানা দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের ভেতরের সৃষ্টিশীল মানুষটিকেও তিনি ধরে রেখেছেন। তার কাছে লেখালেখি শুধু অবসর কাটানোর বিষয় নয়; বরং ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের একটি নিজস্ব মাধ্যম।
খুব অল্প বয়সেই সংসারজীবন
২০০০ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন আলেয়া মান্নান। এরপর জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দায়িত্ব ও নতুন অধ্যায়। সংসারে আসে এক মেয়ে ও দুই ছেলে।
তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে বর্তমানে মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছেন। সন্তানদের পড়াশোনা, তাদের ভবিষ্যৎ এবং সংসারের নানা দায়িত্বকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
একজন মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যৎ যেমন সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গাগুলোর একটি, তেমনি নিজের স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রাখাও সহজ নয়। কিন্তু আলেয়া মান্নান সেই দুটো জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
চাকরির দায়িত্ব শেষ করে সংসারের কাজে সময় দিতে হয়। সন্তানদের নিয়েও থাকতে হয় ব্যস্ত। তারপর যখন দিনের সব কাজ অনেকটা শেষ হয়ে আসে, তখনই শুরু হয় তার ভাবনার সময়।
আর সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় কবিতা।
১৮ মে ২০২২—জীবনের কঠিন এক অধ্যায়
আলেয়া মান্নানের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হলো স্বামী আবদুল মান্নানের মৃত্যু।
কবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে ২০২২ ইংরেজি তারিখে তার স্বামী আবদুল মান্নান পরলোকগমন করেন।
স্বামীকে হারানোর পর সন্তান, সংসার ও নিজের কর্মজীবনের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাকে। জীবনের এই পরিবর্তন সহজ ছিল না। তবে দায়িত্বের কাছে থেমে যাওয়ার সুযোগও ছিল না।
তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ, সংসারের প্রয়োজন এবং নিজের পেশাগত জীবন—সবকিছুকে সামনে রেখে তাকে পথ চলতে হয়েছে।
তারপরও তার ভেতরের কবিসত্তা হারিয়ে যায়নি। বরং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি ভাবতে শিখিয়েছে, আরও বেশি অনুভব করতে শিখিয়েছে।
“সারাবেলা কাটে চাকরি ডিউটি…”
কবি আলেয়া মান্নান নিজের লেখালেখির অভ্যাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন,
“সারাবেলা কাটে চাকরি ডিউটি, ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। আর রাত কাটে চিন্তাভাবনা, আর তা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস।”
তার এই কথার মধ্যেই যেন তার সাহিত্যচর্চার পুরো গল্পটি লুকিয়ে আছে।
দিনের বড় একটা সময় চলে যায় দায়িত্ব পালনে। চাকরি, সংসার ও সন্তান—সবকিছুর পর রাতের নীরবতা তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেয়। তখন দিনের নানা ঘটনা, মানুষের কথা, পারিপার্শ্বিকতা ও নিজের অনুভূতিগুলো নতুন করে ভাবেন তিনি।
কখনো সেই ভাবনা কয়েকটি শব্দ হয়ে আসে। আবার কখনো শব্দগুলো ধীরে ধীরে পঙ্ক্তিতে রূপ নেয়। একসময় সেই পঙ্ক্তিগুলোই হয়ে ওঠে একটি কবিতা।
শতাধিক কবিতা, প্রকাশিত হয়েছে ১৬টি
কবি আলেয়া মান্নান জানান, এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক কবিতা লিখেছেন। তবে তার লেখা সব কবিতা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অপ্রকাশিত কবিতাগুলো নিয়ে তার রয়েছে স্বপ্ন। তিনি চান, তার দীর্ঘদিনের সৃষ্টিগুলো একে একে পাঠকের সামনে আসুক। নিজের ভাবনা ও অনুভূতিগুলো পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান তিনি।
ইতোমধ্যে তার লেখা ১৬টি কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান কবি।
তার প্রকাশিত কবিতার তালিকায় রয়েছে—সূর্যাক্ষর ম্যাগাজিন, দৈনিক ভোরের খবর, দৈনিক দেশকাল, দৈনিক যায়যায় কাল, দৈনিক সকালের কাগজ, দৈনিক স্বাধীন ভোর, দৈনিক মুক্ত প্রভাত, দৈনিক রাঙা প্রভাত, দৈনিক জনতার কণ্ঠ, দৈনিক বাংলার মুকুল, দৈনিক স্বদেশ চিত্র, দৈনিক সকালের সংবাদ, দৈনিক সকালের আলো, দৈনিক জনতার খবর, ৭১ সংবাদ পত্রিকা এবং দৈনিক পূণ্যভূমি পত্রিকা।
এসব প্রকাশনা তার সাহিত্যচর্চার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে ১৬টি প্রকাশিত কবিতার বাইরেও তার কাছে রয়েছে আরও অনেক লেখা।
শতাধিক কবিতা লেখা হলেও সবগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরতে না পারার বিষয়টি তার কাছে এক ধরনের অপূর্ণতা। তাই এখন তার অন্যতম প্রত্যাশা—অপ্রকাশিত কবিতাগুলোও যেন ধীরে ধীরে পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
‘তুমি চেয়ো’—কবিতায় আকাঙ্ক্ষা ও কাছে থাকার আকুতি
সম্প্রতি কবি আলেয়া মান্নান তার একটি অপ্রকাশিত কবিতা ‘তুমি চেয়ো’ প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছেন।
কবিতাটিতে চাওয়া-পাওয়া, প্রকৃতি, অনুভূতি এবং সম্পর্কের কাছে থাকার আকাঙ্ক্ষাকে ভিন্ন এক আবেগে তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতার শুরুতেই তিনি লিখেছেন—
“তুমি কিছু চাইতে পারো, না বলবো না।
তবে ভুল করেও যেন, দূরত্ব চেয়ো না।”
দুটি পঙ্ক্তির মধ্যেই কবিতার মূল আবেগটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রিয় মানুষ অনেক কিছু চাইতে পারে—ফুল, আকাশ, নদী, পাহাড়, বৃষ্টি কিংবা পূর্ণিমার রাত। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে বড় ভয় হলো দূরত্ব।
কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে ব্যবহার করে কবি এক ধরনের আবেগঘন কথোপকথন তৈরি করেছেন।
ফুলের সৌরভ, আকাশের বিশালতা, নদীর স্রোত, পাহাড় ও ঝরনা, বৃষ্টির শব্দ, শীতের সকাল, শিশির, পূর্ণিমার জোছনা—সবকিছুই এসেছে কবিতায়।
তবে প্রতিটি চাওয়ার সঙ্গে রয়েছে একটি সতর্কতা।
ফুল চাওয়া যাবে, কিন্তু ভুল বোঝা যাবে না। আকাশ চাওয়া যাবে, কিন্তু উড়ে যাওয়া যাবে না। নদী চাওয়া যাবে, কিন্তু স্রোতে ভেসে যাওয়া যাবে না। বৃষ্টি চাওয়া যাবে, কিন্তু নিরুদ্দেশ হওয়া যাবে না।
অর্থাৎ সৌন্দর্যকে গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া যাবে না—এমন একটি অনুভূতি কবিতাটির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত আবারও ফিরে আসে সেই আকুতি—
“তুমি কিছু চাইতে পারো, না বলবো না।
তবে ভুল করেও যেন, দূরত্ব চেয়ো না।”
শুরু ও শেষের একই পঙ্ক্তি কবিতাটিকে একটি পূর্ণ বৃত্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।
জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই সাহিত্যচর্চা
আলেয়া মান্নানের সাহিত্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি লেখালেখিকে জীবনের দায়িত্বের বাইরে কোনো আলাদা জগত হিসেবে দেখেন না।
বরং চাকরি, সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যেই তিনি লেখার উপাদান খুঁজে নেন।
দিনের ব্যস্ততা তাকে সময়ের সংকটে রাখে। কিন্তু চিন্তার জগৎকে ব্যস্ত রাখা যায় না। দিনের শেষে যখন মানুষের কোলাহল কিছুটা কমে যায়, তখনই মনের ভেতরের কথাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই কথাগুলোই তার কবিতার ভাষা পায়।
এ কারণেই হয়তো তার কাছে রাত গুরুত্বপূর্ণ। রাতের নীরবতা তাকে ভাবার সুযোগ দেয়। আর ভাবনা থেকেই আসে লেখা।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিজের স্বপ্ন
আলেয়া মান্নানের জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে তার সন্তানরা।
বড় মেয়ে মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছেন। সন্তানদের নিয়ে তার স্বপ্ন যেমন রয়েছে, তেমনি নিজের লেখালেখি নিয়েও রয়েছে প্রত্যাশা।
সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চান তার সন্তানরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। একই সঙ্গে তার নিজের লেখাগুলোও যেন পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
এই দুই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
একদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে নিজের সৃষ্টিশীলতার ভবিষ্যৎ—দুটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অপ্রকাশিত কবিতাগুলো নিয়ে বড় স্বপ্ন
একজন লেখকের কাছে অপ্রকাশিত লেখা কখনো কখনো অনেকটা জমিয়ে রাখা স্মৃতির মতো। প্রতিটি কবিতার পেছনে থাকতে পারে একটি ভাবনা, একটি সময় কিংবা একটি অনুভূতি।
আলেয়া মান্নানের ক্ষেত্রেও শতাধিক কবিতা শুধু একটি সংখ্যা নয়। এগুলো তার দীর্ঘদিনের লেখালেখির সাক্ষ্য।
এর মধ্যে কিছু কবিতা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে, আবার অনেক কবিতা এখনো তার নিজের কাছে রয়ে গেছে।
তিনি চান সেই অপ্রকাশিত লেখাগুলোও একদিন পাঠকের হাতে পৌঁছাক।
তার এই প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একজন সৃষ্টিশীল মানুষের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা—নিজের লেখা মানুষ পড়ুক, অনুভব করুক এবং প্রতিক্রিয়া জানাক।
নীরবে এগিয়ে চলা একজন কবি
সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিতি তৈরি করতে সময় লাগে। নিয়মিত লেখা, প্রকাশনা, পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের চর্চার মধ্য দিয়ে একজন কবির নিজস্ব অবস্থান তৈরি হয়।
আলেয়া মান্নানের সাহিত্যযাত্রাও সেই চলমান পথের একটি অংশ।
ইতোমধ্যে ১৬টি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে। তার হাতে রয়েছে আরও শতাধিক কবিতা। সামনে রয়েছে সেগুলো প্রকাশের প্রত্যাশা।
এ পথচলায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তার নিজের আগ্রহ ও লেখার প্রতি ভালোবাসা।
দিনের ব্যস্ততার পরও তিনি লিখছেন। সংসারের দায়িত্বের মধ্যেও লিখছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন।
আর তাই তার সাহিত্যচর্চা এখনো থেমে নেই।
কবির স্বপ্ন—লেখাগুলো পাঠকের কাছে পৌঁছাক
আলেয়া মান্নানের এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি হলো—তার অপ্রকাশিত কবিতাগুলো যেন পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
একজন কবির কাছে পাঠকই শেষ পর্যন্ত তার সৃষ্টির সবচেয়ে বড় ঠিকানা। কাগজে লেখা একটি কবিতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেটি কোনো পাঠকের চোখে পড়ে, মনে দাগ কাটে কিংবা তাকে কিছুক্ষণ ভাবায়।
আলেয়া মান্নানের কবিতার ক্ষেত্রেও সেই প্রত্যাশাই রয়েছে।
তিনি লিখে যেতে চান। নিজের অনুভূতি ও ভাবনাগুলোকে শব্দে ধরে রাখতে চান। আর সুযোগ পেলে সেই লেখাগুলো প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী—জীবনের পথচলায় অনেক অধ্যায় পেরিয়ে আজও তিনি কলম হাতে রয়েছেন।
দিনের শেষে যখন চারপাশ নীরব হয়ে আসে, তখন তার ভেতরের শব্দগুলো যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই শব্দ থেকে জন্ম নেয় কবিতা।
হয়তো এভাবেই আরও অনেক রাত, আরও অনেক ভাবনা এবং আরও অনেক কবিতা অপেক্ষা করছে তার কলমের জন্য।
তার অপ্রকাশিত শতাধিক কবিতার ভাণ্ডার একদিন পাঠকের সামনে আসবে—এটাই এখন তার প্রত্যাশা।
আর সেই প্রত্যাশার মধ্যেই এগিয়ে চলেছেন কবি আলেয়া মান্নান—সংসার, সন্তান ও কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও যিনি রাতের নীরবতায় নিজের কবিতার জগৎ নির্মাণ করে চলেছেন।
কবি পরিচিতি
নাম: আলেয়া মান্নান
জন্ম: ১৯৮৮ সাল
জন্মস্থান: নেত্রকোনা জেলা
উপজেলা: কলমাকান্দা
পিতা: মরহুম ইমাম হোসাইন
মাতা: মোসা. জুবাইদা খাতুন
বর্তমান বসবাস: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
বিবাহ: ২০০০ সাল
স্বামী: মরহুম আবদুল মান্নান
স্বামীর মৃত্যুর তারিখ: ১৮ মে ২০২২ ইং
সন্তান: এক মেয়ে ও দুই ছেলে
সাহিত্যচর্চা: কবিতা
প্রকাশিত কবিতা: ১৬টি
মোট লেখা কবিতা: শতাধিক (কবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী)
বিশেষ পরিচয়: কবি, কর্মজীবী নারী ও মা।
— সাহিত্য ডেস্ক, দৈনিক আজকের কথা
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।
স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।
এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।
মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

Oplus_16908288
বাগেরহাটের মোংলায় র্যাব-৬-এর বিশেষ অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গোপাল সরকার (৫২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মোংলা থানার দিগরাজ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। র্যাব-৬ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে গোপাল সরকারকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার কাছ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার গোপাল সরকার মোংলা থানার কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহের উৎস, পাচারের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোংলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে মাদক বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার নয়, মাদকের পেছনে থাকা মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
র্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোংলা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা গাঁজাসহ তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



































