নীরব যন্ত্রণায় শব্দের জন্ম
রাতের নীরবতায় কবিতার জন্ম, প্রকাশের অপেক্ষায় মোসাঃ আলেয়া খাতুনের শতাধিক কবিতা

কবি আলেয়া মান্নান—সংসার, চাকরি ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলে রাতের নীরবতায় কবিতার জগতে বিচরণ করছেন। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
সংসার, সন্তান ও চাকরির ব্যস্ততার ফাঁকে কলমই যার নীরব সঙ্গী; জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে ১৬টি কবিতা
সারাদিনের ব্যস্ততা। চাকরির দায়িত্ব, সংসারের নানা কাজ, সন্তানদের নিয়ে ভাবনা—সবকিছু সামলে যখন চারপাশ ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসে, তখনই যেন অন্য এক জগৎ খুলে যায় কবি আলেয়া মান্নানের সামনে। দিনের ব্যস্ততায় যে কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না, যে ভাবনাগুলো মনের ভেতর জমে থাকে, রাতের নির্জনতায় সেগুলোই কখনো শব্দ হয়ে আসে, কখনো ছন্দ হয়ে কাগজে জায়গা করে নেয়।
এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কবিতা লিখে চলেছেন কবি আলেয়া মান্নান। জীবনের ব্যস্ততা তাকে কলম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। বরং দায়িত্বের ফাঁকে পাওয়া নির্জন সময়টুকুই হয়ে উঠেছে তার সৃষ্টিশীলতার অন্যতম আশ্রয়।
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সন্তান মোসাঃ আলেয়া খাতুন ওরফে কবি আলেয়া মান্নান। জন্ম ১৯৮৮ সালে। তার পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করছেন।

জীবনের ব্যস্ততা ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও কবিতাই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আমার অপ্রকাশিত লেখাগুলো একদিন পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছাবে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
ছোটবেলা থেকেই নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা আলেয়া মান্নানের জীবনে পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছে সংসার, সন্তান, চাকরি ও নানা দায়িত্ব। এসব দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের ভেতরের সৃষ্টিশীল মানুষটিকেও তিনি ধরে রেখেছেন। তার কাছে লেখালেখি শুধু অবসর কাটানোর বিষয় নয়; বরং ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের একটি নিজস্ব মাধ্যম।
খুব অল্প বয়সেই সংসারজীবন
২০০০ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন আলেয়া মান্নান। এরপর জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দায়িত্ব ও নতুন অধ্যায়। সংসারে আসে এক মেয়ে ও দুই ছেলে।
তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে বর্তমানে মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছেন। সন্তানদের পড়াশোনা, তাদের ভবিষ্যৎ এবং সংসারের নানা দায়িত্বকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
একজন মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যৎ যেমন সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গাগুলোর একটি, তেমনি নিজের স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রাখাও সহজ নয়। কিন্তু আলেয়া মান্নান সেই দুটো জগতকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
চাকরির দায়িত্ব শেষ করে সংসারের কাজে সময় দিতে হয়। সন্তানদের নিয়েও থাকতে হয় ব্যস্ত। তারপর যখন দিনের সব কাজ অনেকটা শেষ হয়ে আসে, তখনই শুরু হয় তার ভাবনার সময়।
আর সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় কবিতা।
১৮ মে ২০২২—জীবনের কঠিন এক অধ্যায়
আলেয়া মান্নানের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হলো স্বামী আবদুল মান্নানের মৃত্যু।
কবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে ২০২২ ইংরেজি তারিখে তার স্বামী আবদুল মান্নান পরলোকগমন করেন।
স্বামীকে হারানোর পর সন্তান, সংসার ও নিজের কর্মজীবনের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাকে। জীবনের এই পরিবর্তন সহজ ছিল না। তবে দায়িত্বের কাছে থেমে যাওয়ার সুযোগও ছিল না।
তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ, সংসারের প্রয়োজন এবং নিজের পেশাগত জীবন—সবকিছুকে সামনে রেখে তাকে পথ চলতে হয়েছে।
তারপরও তার ভেতরের কবিসত্তা হারিয়ে যায়নি। বরং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি ভাবতে শিখিয়েছে, আরও বেশি অনুভব করতে শিখিয়েছে।
“সারাবেলা কাটে চাকরি ডিউটি…”
কবি আলেয়া মান্নান নিজের লেখালেখির অভ্যাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন,
“সারাবেলা কাটে চাকরি ডিউটি, ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। আর রাত কাটে চিন্তাভাবনা, আর তা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস।”
তার এই কথার মধ্যেই যেন তার সাহিত্যচর্চার পুরো গল্পটি লুকিয়ে আছে।
দিনের বড় একটা সময় চলে যায় দায়িত্ব পালনে। চাকরি, সংসার ও সন্তান—সবকিছুর পর রাতের নীরবতা তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেয়। তখন দিনের নানা ঘটনা, মানুষের কথা, পারিপার্শ্বিকতা ও নিজের অনুভূতিগুলো নতুন করে ভাবেন তিনি।
কখনো সেই ভাবনা কয়েকটি শব্দ হয়ে আসে। আবার কখনো শব্দগুলো ধীরে ধীরে পঙ্ক্তিতে রূপ নেয়। একসময় সেই পঙ্ক্তিগুলোই হয়ে ওঠে একটি কবিতা।
শতাধিক কবিতা, প্রকাশিত হয়েছে ১৬টি
কবি আলেয়া মান্নান জানান, এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক কবিতা লিখেছেন। তবে তার লেখা সব কবিতা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অপ্রকাশিত কবিতাগুলো নিয়ে তার রয়েছে স্বপ্ন। তিনি চান, তার দীর্ঘদিনের সৃষ্টিগুলো একে একে পাঠকের সামনে আসুক। নিজের ভাবনা ও অনুভূতিগুলো পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান তিনি।
ইতোমধ্যে তার লেখা ১৬টি কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান কবি।
তার প্রকাশিত কবিতার তালিকায় রয়েছে—সূর্যাক্ষর ম্যাগাজিন, দৈনিক ভোরের খবর, দৈনিক দেশকাল, দৈনিক যায়যায় কাল, দৈনিক সকালের কাগজ, দৈনিক স্বাধীন ভোর, দৈনিক মুক্ত প্রভাত, দৈনিক রাঙা প্রভাত, দৈনিক জনতার কণ্ঠ, দৈনিক বাংলার মুকুল, দৈনিক স্বদেশ চিত্র, দৈনিক সকালের সংবাদ, দৈনিক সকালের আলো, দৈনিক জনতার খবর, ৭১ সংবাদ পত্রিকা এবং দৈনিক পূণ্যভূমি পত্রিকা।
এসব প্রকাশনা তার সাহিত্যচর্চার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে ১৬টি প্রকাশিত কবিতার বাইরেও তার কাছে রয়েছে আরও অনেক লেখা।
শতাধিক কবিতা লেখা হলেও সবগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরতে না পারার বিষয়টি তার কাছে এক ধরনের অপূর্ণতা। তাই এখন তার অন্যতম প্রত্যাশা—অপ্রকাশিত কবিতাগুলোও যেন ধীরে ধীরে পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
‘তুমি চেয়ো’—কবিতায় আকাঙ্ক্ষা ও কাছে থাকার আকুতি
সম্প্রতি কবি আলেয়া মান্নান তার একটি অপ্রকাশিত কবিতা ‘তুমি চেয়ো’ প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছেন।
কবিতাটিতে চাওয়া-পাওয়া, প্রকৃতি, অনুভূতি এবং সম্পর্কের কাছে থাকার আকাঙ্ক্ষাকে ভিন্ন এক আবেগে তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতার শুরুতেই তিনি লিখেছেন—
“তুমি কিছু চাইতে পারো, না বলবো না।
তবে ভুল করেও যেন, দূরত্ব চেয়ো না।”
দুটি পঙ্ক্তির মধ্যেই কবিতার মূল আবেগটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রিয় মানুষ অনেক কিছু চাইতে পারে—ফুল, আকাশ, নদী, পাহাড়, বৃষ্টি কিংবা পূর্ণিমার রাত। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে বড় ভয় হলো দূরত্ব।
কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে ব্যবহার করে কবি এক ধরনের আবেগঘন কথোপকথন তৈরি করেছেন।
ফুলের সৌরভ, আকাশের বিশালতা, নদীর স্রোত, পাহাড় ও ঝরনা, বৃষ্টির শব্দ, শীতের সকাল, শিশির, পূর্ণিমার জোছনা—সবকিছুই এসেছে কবিতায়।
তবে প্রতিটি চাওয়ার সঙ্গে রয়েছে একটি সতর্কতা।
ফুল চাওয়া যাবে, কিন্তু ভুল বোঝা যাবে না। আকাশ চাওয়া যাবে, কিন্তু উড়ে যাওয়া যাবে না। নদী চাওয়া যাবে, কিন্তু স্রোতে ভেসে যাওয়া যাবে না। বৃষ্টি চাওয়া যাবে, কিন্তু নিরুদ্দেশ হওয়া যাবে না।
অর্থাৎ সৌন্দর্যকে গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া যাবে না—এমন একটি অনুভূতি কবিতাটির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত আবারও ফিরে আসে সেই আকুতি—
“তুমি কিছু চাইতে পারো, না বলবো না।
তবে ভুল করেও যেন, দূরত্ব চেয়ো না।”
শুরু ও শেষের একই পঙ্ক্তি কবিতাটিকে একটি পূর্ণ বৃত্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।
জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেই সাহিত্যচর্চা
আলেয়া মান্নানের সাহিত্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি লেখালেখিকে জীবনের দায়িত্বের বাইরে কোনো আলাদা জগত হিসেবে দেখেন না।
বরং চাকরি, সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যেই তিনি লেখার উপাদান খুঁজে নেন।
দিনের ব্যস্ততা তাকে সময়ের সংকটে রাখে। কিন্তু চিন্তার জগৎকে ব্যস্ত রাখা যায় না। দিনের শেষে যখন মানুষের কোলাহল কিছুটা কমে যায়, তখনই মনের ভেতরের কথাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই কথাগুলোই তার কবিতার ভাষা পায়।
এ কারণেই হয়তো তার কাছে রাত গুরুত্বপূর্ণ। রাতের নীরবতা তাকে ভাবার সুযোগ দেয়। আর ভাবনা থেকেই আসে লেখা।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিজের স্বপ্ন
আলেয়া মান্নানের জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে তার সন্তানরা।
বড় মেয়ে মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছেন। সন্তানদের নিয়ে তার স্বপ্ন যেমন রয়েছে, তেমনি নিজের লেখালেখি নিয়েও রয়েছে প্রত্যাশা।
সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চান তার সন্তানরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। একই সঙ্গে তার নিজের লেখাগুলোও যেন পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
এই দুই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
একদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে নিজের সৃষ্টিশীলতার ভবিষ্যৎ—দুটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অপ্রকাশিত কবিতাগুলো নিয়ে বড় স্বপ্ন
একজন লেখকের কাছে অপ্রকাশিত লেখা কখনো কখনো অনেকটা জমিয়ে রাখা স্মৃতির মতো। প্রতিটি কবিতার পেছনে থাকতে পারে একটি ভাবনা, একটি সময় কিংবা একটি অনুভূতি।
আলেয়া মান্নানের ক্ষেত্রেও শতাধিক কবিতা শুধু একটি সংখ্যা নয়। এগুলো তার দীর্ঘদিনের লেখালেখির সাক্ষ্য।
এর মধ্যে কিছু কবিতা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে, আবার অনেক কবিতা এখনো তার নিজের কাছে রয়ে গেছে।
তিনি চান সেই অপ্রকাশিত লেখাগুলোও একদিন পাঠকের হাতে পৌঁছাক।
তার এই প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একজন সৃষ্টিশীল মানুষের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা—নিজের লেখা মানুষ পড়ুক, অনুভব করুক এবং প্রতিক্রিয়া জানাক।
নীরবে এগিয়ে চলা একজন কবি
সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিতি তৈরি করতে সময় লাগে। নিয়মিত লেখা, প্রকাশনা, পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের চর্চার মধ্য দিয়ে একজন কবির নিজস্ব অবস্থান তৈরি হয়।
আলেয়া মান্নানের সাহিত্যযাত্রাও সেই চলমান পথের একটি অংশ।
ইতোমধ্যে ১৬টি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে। তার হাতে রয়েছে আরও শতাধিক কবিতা। সামনে রয়েছে সেগুলো প্রকাশের প্রত্যাশা।
এ পথচলায় তার সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তার নিজের আগ্রহ ও লেখার প্রতি ভালোবাসা।
দিনের ব্যস্ততার পরও তিনি লিখছেন। সংসারের দায়িত্বের মধ্যেও লিখছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছেন।
আর তাই তার সাহিত্যচর্চা এখনো থেমে নেই।
কবির স্বপ্ন—লেখাগুলো পাঠকের কাছে পৌঁছাক
আলেয়া মান্নানের এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি হলো—তার অপ্রকাশিত কবিতাগুলো যেন পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
একজন কবির কাছে পাঠকই শেষ পর্যন্ত তার সৃষ্টির সবচেয়ে বড় ঠিকানা। কাগজে লেখা একটি কবিতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেটি কোনো পাঠকের চোখে পড়ে, মনে দাগ কাটে কিংবা তাকে কিছুক্ষণ ভাবায়।
আলেয়া মান্নানের কবিতার ক্ষেত্রেও সেই প্রত্যাশাই রয়েছে।
তিনি লিখে যেতে চান। নিজের অনুভূতি ও ভাবনাগুলোকে শব্দে ধরে রাখতে চান। আর সুযোগ পেলে সেই লেখাগুলো প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী—জীবনের পথচলায় অনেক অধ্যায় পেরিয়ে আজও তিনি কলম হাতে রয়েছেন।
দিনের শেষে যখন চারপাশ নীরব হয়ে আসে, তখন তার ভেতরের শব্দগুলো যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই শব্দ থেকে জন্ম নেয় কবিতা।
হয়তো এভাবেই আরও অনেক রাত, আরও অনেক ভাবনা এবং আরও অনেক কবিতা অপেক্ষা করছে তার কলমের জন্য।
তার অপ্রকাশিত শতাধিক কবিতার ভাণ্ডার একদিন পাঠকের সামনে আসবে—এটাই এখন তার প্রত্যাশা।
আর সেই প্রত্যাশার মধ্যেই এগিয়ে চলেছেন কবি আলেয়া মান্নান—সংসার, সন্তান ও কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও যিনি রাতের নীরবতায় নিজের কবিতার জগৎ নির্মাণ করে চলেছেন।
কবি পরিচিতি
নাম: আলেয়া মান্নান
জন্ম: ১৯৮৮ সাল
জন্মস্থান: নেত্রকোনা জেলা
উপজেলা: কলমাকান্দা
পিতা: মরহুম ইমাম হোসাইন
মাতা: মোসা. জুবাইদা খাতুন
বর্তমান বসবাস: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
বিবাহ: ২০০০ সাল
স্বামী: মরহুম আবদুল মান্নান
স্বামীর মৃত্যুর তারিখ: ১৮ মে ২০২২ ইং
সন্তান: এক মেয়ে ও দুই ছেলে
সাহিত্যচর্চা: কবিতা
প্রকাশিত কবিতা: ১৬টি
মোট লেখা কবিতা: শতাধিক (কবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী)
বিশেষ পরিচয়: কবি, কর্মজীবী নারী ও মা।
— সাহিত্য ডেস্ক, দৈনিক আজকের কথা
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।































