বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লেখক বাড়ছে, কমছে পাঠক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোয়ারে দেশে কি পাঠকের চেয়ে লেখকই বেশি? উদ্বেগ জানালেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ফেসবুক, বই ও পাঠকের প্রতীকী চিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে লেখক, কমছে পাঠক—সাহিত্যাঙ্গনে নতুন বাস্তবতা। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোয়ারে নেই পাঠক, আছে শুধু ঘরের ঘরে লেখক।
  • একসময় বলা হতো, ‘ভালো বই মানুষকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে।’ কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে সেই চিত্র যেন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
  • এখন বই পড়ার চেয়ে বই লেখা, প্রকাশ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচিত করে তোলার প্রবণতা বেড়েছে বহুগুণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোয়ারে নেই পাঠক, আছে শুধু ঘরের ঘরে লেখক। একসময় বলা হতো, ‘ভালো বই মানুষকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে।’ কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে সেই চিত্র যেন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন বই পড়ার চেয়ে বই লেখা, প্রকাশ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচিত করে তোলার প্রবণতা বেড়েছে বহুগুণ। ফলে সাহিত্যাঙ্গনে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—দেশে প্রকৃত পাঠকের তুলনায় লেখকের সংখ্যাই যেন বেশি।

প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার এবং তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রবণতা লেখালেখিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আগে একটি লেখা প্রকাশের জন্য পত্রিকা, সাময়িকী কিংবা প্রকাশকের দ্বারস্থ হতে হতো। এখন একটি ফেসবুক পোস্ট, ব্লগ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে লেখা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সুযোগ ইতিবাচক হলেও এর একটি নেতিবাচক দিকও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। লেখকের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না পাঠকের সংখ্যা। বরং অনেকেই নিজের লেখা প্রচারে যতটা আগ্রহী, অন্যের লেখা পড়তে ততটাই অনাগ্রহী।

ফেসবুকে লেখকের ভিড়, পাঠকের সংকট

বর্তমানে ফেসবুক, ব্লগ ও বিভিন্ন সাহিত্যভিত্তিক গ্রুপে প্রতিদিন হাজার হাজার কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়ার কারণে অনেকেই নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, এই লেখকদের বড় একটি অংশের মধ্যে নিয়মিত পাঠাভ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

বিশ্বসাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক কিংবা সমসাময়িক মানসম্মত সাহিত্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই অনেকেই বই প্রকাশের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে লেখার গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বইমেলায় বই বাড়ছে, বাড়ছে না পাঠক

সাম্প্রতিক কয়েক বছরের অমর একুশে বইমেলার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। নতুন লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইয়ের প্রচারণা, মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও প্রকৃত পাঠক ও ক্রেতার সংখ্যা সেই হারে বাড়ছে না।

প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, মেলায় আগত অনেক দর্শনার্থী বই কেনার চেয়ে ছবি তোলা, ভিডিও তৈরি কিংবা নিজের প্রকাশিত বইয়ের প্রচারণাতেই বেশি সময় ব্যয় করেন। ফলে বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশ পেলেও অধিকাংশ বইয়ের বিক্রি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায় না।

উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

বর্তমান পরিস্থিতিকে সাহিত্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন,

“একজন ভালো লেখক হওয়ার আগে অবশ্যই একজন ভালো পাঠক হতে হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেকেই পর্যাপ্ত পড়াশোনা ছাড়াই লেখক হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইক-কমেন্ট সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু তা কখনো স্থায়ী সাহিত্যিক মূল্য তৈরি করতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন,

“গবেষণা, অধ্যয়ন ও গভীর চিন্তার বিকল্প নেই। নিয়মিত পাঠাভ্যাস ছাড়া মানসম্মত সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব নয়। বর্তমানে মানহীন লেখার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রকৃত মেধাবী লেখকদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে লেখার আগে বেশি করে পড়তে হবে।”

এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের মতে, সাহিত্য কেবল আবেগ প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের চিন্তা, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির ধারক। তাই লেখকের দায়িত্বও অনেক বড়।

আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা নাকি সাহিত্যচর্চা?

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে আত্মপ্রকাশের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সবাই নিজের ভাবনা অন্যকে জানাতে আগ্রহী হলেও অন্যের ভাবনা গ্রহণ করার মানসিকতা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে।

এর ফলে পাঠাভ্যাসের পরিবর্তে আত্মপ্রকাশই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সম্পাদনা ছাড়াই বই প্রকাশিত হচ্ছে। বানান ভুল, ভাষাগত দুর্বলতা, তথ্যগত অসংগতি এবং বিষয়বস্তুর গভীরতার অভাবও বাড়ছে।

প্রকাশনা শিল্পের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, মানহীন বইয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পাঠকের আস্থা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রকাশনা শিল্পের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে লেখকদেরও গবেষণা, অধ্যয়ন এবং নিয়মিত পাঠচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

উত্তরণের পথ

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি—

  • নতুন লেখকদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  • প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মানসম্পন্ন পাণ্ডুলিপি নির্বাচনে কঠোর হতে হবে।
  • সাহিত্য সংগঠনগুলোকে পাঠচক্র ও বইপাঠ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল লেখার প্রচারণা নয়, ভালো বই পড়ার সংস্কৃতিও ছড়িয়ে দিতে হবে।

সাহিত্যবোদ্ধাদের ভাষ্য, একটি সুস্থ সাহিত্যচর্চার জন্য লেখক যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিবেদিত পাঠক। পাঠক ছাড়া সাহিত্য টিকে থাকতে পারে না। তাই দেশে যদি লেখকের সংখ্যা পাঠকের চেয়ে ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তবে ভবিষ্যতে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা বাড়লেও মননশীল সমাজ গঠনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
1 মন্তব্য
Oldest
Newest Most Voted
Fallon455
Fallon455
3 months ago
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG