লেখক বাড়ছে, কমছে পাঠক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোয়ারে দেশে কি পাঠকের চেয়ে লেখকই বেশি? উদ্বেগ জানালেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে লেখক, কমছে পাঠক—সাহিত্যাঙ্গনে নতুন বাস্তবতা। ছবি : আজকের কথা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোয়ারে নেই পাঠক, আছে শুধু ঘরের ঘরে লেখক। একসময় বলা হতো, ‘ভালো বই মানুষকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে।’ কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে সেই চিত্র যেন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন বই পড়ার চেয়ে বই লেখা, প্রকাশ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচিত করে তোলার প্রবণতা বেড়েছে বহুগুণ। ফলে সাহিত্যাঙ্গনে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—দেশে প্রকৃত পাঠকের তুলনায় লেখকের সংখ্যাই যেন বেশি।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার এবং তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রবণতা লেখালেখিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আগে একটি লেখা প্রকাশের জন্য পত্রিকা, সাময়িকী কিংবা প্রকাশকের দ্বারস্থ হতে হতো। এখন একটি ফেসবুক পোস্ট, ব্লগ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে লেখা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সুযোগ ইতিবাচক হলেও এর একটি নেতিবাচক দিকও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। লেখকের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না পাঠকের সংখ্যা। বরং অনেকেই নিজের লেখা প্রচারে যতটা আগ্রহী, অন্যের লেখা পড়তে ততটাই অনাগ্রহী।
ফেসবুকে লেখকের ভিড়, পাঠকের সংকট
বর্তমানে ফেসবুক, ব্লগ ও বিভিন্ন সাহিত্যভিত্তিক গ্রুপে প্রতিদিন হাজার হাজার কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়ার কারণে অনেকেই নিয়মিত লেখালেখিতে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, এই লেখকদের বড় একটি অংশের মধ্যে নিয়মিত পাঠাভ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্বসাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক কিংবা সমসাময়িক মানসম্মত সাহিত্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই অনেকেই বই প্রকাশের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে লেখার গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বইমেলায় বই বাড়ছে, বাড়ছে না পাঠক
সাম্প্রতিক কয়েক বছরের অমর একুশে বইমেলার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। নতুন লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইয়ের প্রচারণা, মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও প্রকৃত পাঠক ও ক্রেতার সংখ্যা সেই হারে বাড়ছে না।
প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, মেলায় আগত অনেক দর্শনার্থী বই কেনার চেয়ে ছবি তোলা, ভিডিও তৈরি কিংবা নিজের প্রকাশিত বইয়ের প্রচারণাতেই বেশি সময় ব্যয় করেন। ফলে বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশ পেলেও অধিকাংশ বইয়ের বিক্রি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায় না।
উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
বর্তমান পরিস্থিতিকে সাহিত্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন,
“একজন ভালো লেখক হওয়ার আগে অবশ্যই একজন ভালো পাঠক হতে হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেকেই পর্যাপ্ত পড়াশোনা ছাড়াই লেখক হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইক-কমেন্ট সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু তা কখনো স্থায়ী সাহিত্যিক মূল্য তৈরি করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন,
“গবেষণা, অধ্যয়ন ও গভীর চিন্তার বিকল্প নেই। নিয়মিত পাঠাভ্যাস ছাড়া মানসম্মত সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব নয়। বর্তমানে মানহীন লেখার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রকৃত মেধাবী লেখকদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে লেখার আগে বেশি করে পড়তে হবে।”
এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের মতে, সাহিত্য কেবল আবেগ প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের চিন্তা, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির ধারক। তাই লেখকের দায়িত্বও অনেক বড়।
আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা নাকি সাহিত্যচর্চা?
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে আত্মপ্রকাশের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সবাই নিজের ভাবনা অন্যকে জানাতে আগ্রহী হলেও অন্যের ভাবনা গ্রহণ করার মানসিকতা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে।
এর ফলে পাঠাভ্যাসের পরিবর্তে আত্মপ্রকাশই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সম্পাদনা ছাড়াই বই প্রকাশিত হচ্ছে। বানান ভুল, ভাষাগত দুর্বলতা, তথ্যগত অসংগতি এবং বিষয়বস্তুর গভীরতার অভাবও বাড়ছে।
প্রকাশনা শিল্পের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা
সাহিত্য সমালোচকদের মতে, মানহীন বইয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পাঠকের আস্থা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রকাশনা শিল্পের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে লেখকদেরও গবেষণা, অধ্যয়ন এবং নিয়মিত পাঠচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
উত্তরণের পথ
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি—
- নতুন লেখকদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
- প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মানসম্পন্ন পাণ্ডুলিপি নির্বাচনে কঠোর হতে হবে।
- সাহিত্য সংগঠনগুলোকে পাঠচক্র ও বইপাঠ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল লেখার প্রচারণা নয়, ভালো বই পড়ার সংস্কৃতিও ছড়িয়ে দিতে হবে।
সাহিত্যবোদ্ধাদের ভাষ্য, একটি সুস্থ সাহিত্যচর্চার জন্য লেখক যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিবেদিত পাঠক। পাঠক ছাড়া সাহিত্য টিকে থাকতে পারে না। তাই দেশে যদি লেখকের সংখ্যা পাঠকের চেয়ে ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তবে ভবিষ্যতে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা বাড়লেও মননশীল সমাজ গঠনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে
জুড়ী সীমান্তে ১০ বাংলাদেশিকে ‘পুশইন’ অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার দাবি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল জুড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে দুই পুরুষ, সাত নারী ও একটি শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। তবে এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
- মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে ভারত থেকে ‘পুশইন’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
- পুশইনকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই পুরুষ, সাত নারী ও একটি শিশু।
- ঘটনার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
- বিজিবি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
- পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার পর বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিজিবির প্রহরায় ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে রেখে বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। পরে তাদের বড়লেখা উপজেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা জানান, তাদের বাড়ি খুলনা বিভাগের নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। তারা বিভিন্ন সময়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিএসএফ তাদের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবি তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রাতে বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন—রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), সুবা আক্তার (৩২), লাইলি খাতুন (২৮), সালমা খাতুন (২৭), রিয়া বেগম (২৫), লাবিবা আক্তার (৮) ও সাব্বির শেখ (১৯)। তাদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য জানার পর তিনি ৫২ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার পর সেটি মুছে ফেলতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, তাকে না পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তার ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান। এছাড়া মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে তার মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খোর্শেদ আলম আরও দাবি করেন, পরে স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেলটি লাঠিটিলা ক্যাম্প এলাকায় নিয়ে গেলে তাকেও মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবির হেফাজতে রয়েছে বলে তার অভিযোগ।
তবে সাংবাদিকের এসব অভিযোগ এবং পুশইনের ঘটনাটি সম্পর্কে বিজিবির পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান, ৩ ড্রেজার ধ্বংস; ১,৫০০ ফুট পাইপ জব্দ ও বিনষ্ট

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধ ড্রেজারের দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করেছে।
- দেবীদ্বারে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
- অভিযানে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস এবং প্রায় ১,৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে।
- উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের রাঘবপুর ও সুবিল পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
- অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
- কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের রাঘবপুর ও সুবিল পূর্বপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপও বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে দেবীদ্বার থানা পুলিশের একটি দল এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত ও আরও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, “কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আজকের অভিযানে তিনটি ড্রেজার এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
শক্তিশালী মিডিয়ায় গণতন্ত্র
‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’, সাংবাদিকদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

সাংবাদিকদের সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “সাংবাদিকরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানোই সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
- সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
- তিনি বলেন, ‘সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলবেন, রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন।’
- তার ভাষায়, গণমাধ্যম যত শক্তিশালী হবে, দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী হবে।
- ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদনের বিষয়েও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
- ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদরা কখনোই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তিনি বলেন, অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, “যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়।”
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুললেই হবে না; দক্ষ, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের ইতিবাচক দিক যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে আরও সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং দৈনিক আজকালের খবর-এর জেলা প্রতিনিধি গোলাম সারোয়ার সম্রাট।
























https://shorturl.fm/NZ05O