শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

“বিএনপি দেয় মামলা, জামায়াত দেয় নগদ পিটুনি—নিরাপত্তাহীন সাংবাদিকরা”

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ‘বিএনপি দেয় মামলা, জামাত দেয় সাংবাদিকদের নগদ পিটুনি’ এরকম মন্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
  • এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সংস্কৃতির বিস্তার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা ও হয়রানির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
  • তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও এসব কার্যক্রমের পরিবর্তে একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ‘বিএনপি দেয় মামলা, জামাত দেয় সাংবাদিকদের নগদ পিটুনি’ এরকম মন্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সংস্কৃতির বিস্তার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা ও হয়রানির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও এসব কার্যক্রমের পরিবর্তে একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার মতে, দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

❝
বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করলে মামলা দিয়ে আদালতে নেয়, আর এ সরকারের প্রধান বিরোধী দল জামায়াত কোনো মামলা করতে রাজি নয়; তারা নগদে রাজপথে সাংবাদিক পেটায়।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক আজকের কথা

অন্যদিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। ওই ঘটনায় ‘দৈনিক সকালের’ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ একাধিক সাংবাদিক শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শরিফুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং মাঠপর্যায়ে হামলা—দুই ধরনের ঘটনাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, একদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি, হয়রানি ও বাধা সৃষ্টি করা হলে তা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়ার দুই সংবাদদাতার নামও রয়েছে।

এছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল শেষে কয়েকজন সাংবাদিককে দুই দফায় মারধরের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা শারীরিক হামলার মতো ঘটনা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
1 মন্তব্য
Oldest
Newest Most Voted
Ruth675
Ruth675
3 months ago
এলাকার খবর

হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।

ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ এএম
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

দৈনিক আজকের কথা
ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
— কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার
অপ্রতিমের বাবা

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।

অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এতদিন মামলাটি তদন্ত করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে তাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তের দায়িত্ব এখন পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন বাসায় না ফেরায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত থাকার সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তিনজন।

ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।

×
ENG