বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে’ —অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০২ এএম
রাশেদ আহমেদ

রাশেদ আহমেদ, বার্তা প্রধান, সংবাদ ও অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন, আইন বিভাগের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানকে পরিবর্তন বা নস্যাৎ করার জন্য একটি ‘গোপন এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করা হয়েছে।
  • তার অভিযোগ, রাষ্ট্র সংস্কারের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংবিধান, জাতীয় সংগীত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
  • ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদালতপাড়ায় সংবিধান হাতে নিয়ে তা সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন।

মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানকে পরিবর্তন বা নস্যাৎ করার জন্য একটি ‘গোপন এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রাষ্ট্র সংস্কারের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংবিধান, জাতীয় সংগীত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদালতপাড়ায় সংবিধান হাতে নিয়ে তা সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন। এ সময় তিনি দীর্ঘ তিন মাস কারাভোগ করেছেন বলে জানান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জুলাই আন্দোলন, জুলাই সনদ, গণভোট, রাষ্ট্র সংস্কার, দায়মুক্তি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি।

‘মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার মানে নিজের শেকড় অস্বীকার’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান—এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ভিত্তি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ করেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্লেষণ করলে তার কাছে প্রশ্ন আসে—বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকে কেউ অস্বীকার করলে তার অবস্থান কী হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা মানে নিজের শেকড়, নিজের মা-বাবাকে অস্বীকার করার মতো—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

‘রাষ্ট্র সংস্কারকে ঢাল বানিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা’

৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অধ্যাপক কার্জন বলেন, তখন রাষ্ট্রে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ছিল না এবং সংসদ সদস্যদের অধিকাংশই অনুপস্থিত ছিলেন। তার মতে, ওই পরিস্থিতিতে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা প্রয়োজনীয়তার নীতির ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

তবে তার অভিযোগ, ক্ষমতায় যাওয়ার পর পুলিশ ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি, সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, আমলাতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং অর্থনীতিও স্বাভাবিকভাবে চলছিল না।

দৈনিক আজকের কথা
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। রাষ্ট্র সংস্কারের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে।
— অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন
আইন বিভাগের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

অধ্যাপক কার্জনের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পাঁচ বছর, দশ বছর কিংবা অনির্দিষ্ট সময় ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

‘রিসেট বাটন দিয়ে বাংলাদেশকে পাল্টানোর চেষ্টা’

ড. ইউনূসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এবং ‘রিসেট বাটন’ প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক কার্জন বলেন, এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মনে করেন বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তার অভিযোগ, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর কথা বলা হয়েছে, সংবিধান কবর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফ্যাসিবাদের চেতনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের ভবন ভাঙা, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারক ও ইতিহাসের ওপর আক্রমণ, বেগম রোকেয়ার মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া, বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু ও কবি জীবনানন্দ দাশের নাম মুছে ফেলার মতো ঘটনাগুলোও তিনি এ প্রসঙ্গে তুলে ধরেন।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অধ্যাপক কার্জন বলেন, শুধু হিন্দু পরিচয়ের কারণে অনেকে পেশাগতভাবে পদচ্যুত বা পদাবনতি পেয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছিল।

‘সংবিধানে সমস্যা থাকলে সংশোধনের সুযোগ আছে’

বাংলাদেশের সংবিধানের সমস্যা কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক কার্জন বলেন, পৃথিবীর কোনো সংবিধানই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন ও আধুনিকায়নের সুযোগ থাকে।

তার মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে একটি সংবিধানের প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল এবং সেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা কিংবা সাংবিধানিক কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের মতো বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তার প্রশ্ন—তাহলে সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘এক্সট্রা-কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’-এর প্রয়োজন কেন?

‘জনগণের অর্ধেককে বাদ দিয়ে জনগণের চার্টার হয় না’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, একটি দেশের অর্ধেক মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো চার্টারকে জনগণের চার্টার বলা যায় না।

তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে যে ঘাটতি ছিল, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলকতার অভাব অন্যতম। ফলে যে চার্টারকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে জনসংশ্লিষ্টতা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কিছু নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক জুলাই সনদকে ‘এলিট সেটেলমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ অসাংবিধানিক’

বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি—এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, বিএনপি এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তার বক্তব্য, বর্তমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিধান নেই। তাই সংবিধানের বাইরে গিয়ে ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগও নেই।

‘গণভোটের বিধান সংবিধানে নেই’

গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই। ফলে এ জন্য অধ্যাদেশ করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদিত না হলে গণভোটের আইনগত ভিত্তি কী থাকবে।

এ ছাড়া গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার সুযোগ না দেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে নামানোর অভিযোগও তিনি তোলেন।

নির্বাচন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেছে—এমন দাবি করে অধ্যাপক কার্জন এ নিয়ে ভবিষ্যৎ আইনি প্রশ্নের কথাও উল্লেখ করেন।

তার দেওয়া হিসাবে, গণভোটে ৬৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ৩০ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছে এবং ১১টি জেলায় ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। তার মতে, ৩০ শতাংশ ‘না’ ভোটকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

‘চার প্রশ্নের মধ্যে ৪৮টি প্রশ্ন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে’

জুলাই সনদের চারটি প্রশ্নের মধ্যে ৪৮টি প্রশ্ন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অধ্যাপক কার্জন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব নিজে পড়তে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন। তিনি হুকুমত কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক শাহদীন মালিকসহ বিভিন্ন অধ্যাপক, বিশ্লেষক ও আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

‘প্রত্যেকটি হত্যার বিচার হতে হবে’

জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, পুলিশ হোক কিংবা সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকটি জীবন গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকটি হত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন।

তার বক্তব্য, পুলিশ যেমন ইচ্ছেমতো কাউকে হত্যা করতে পারে না, তেমনি আন্দোলনকারীরাও ইচ্ছেমতো পুলিশকে হত্যা করতে পারে না।

পুলিশ হত্যার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে লাশ জ্বালিয়ে দেওয়া, গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া, কোপানোর পর গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

তার দাবি, সরকারি হিসাবে ৪৬ জন পুলিশ নিহত হয়েছেন এবং বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটি আরও বেশি।

আইনের অধ্যাপক হিসেবে তিনি বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ড আত্মরক্ষার কারণে হয়ে থাকলে সেটিও আইনের নির্ধারিত মানদণ্ডে প্রমাণ করতে হবে।

‘নিঃশর্ত দায়মুক্তি পৃথিবীর কোনো দেশে দেওয়া হয় না’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে দেওয়া দায়মুক্তির সমালোচনা করে অধ্যাপক কার্জন বলেন, এটি ‘নিঃশর্ত দায়মুক্তি’ এবং পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হয় না বলে তিনি মনে করেন।

তার বক্তব্য, আন্দোলনকারীদের হাতে পুলিশ হত্যা যেমন তদন্তের আওতায় আসতে হবে, তেমনি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করতে হবে।

কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই শক্তি প্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না—তা আইনের মানদণ্ডে নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‘মেটিকুলাস ডিজাইন দিয়ে রাষ্ট্র চলতে পারে না’

অধ্যাপক কার্জনের ভাষ্য, ড. ইউনূসের কথিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে দেশকে বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা কথিত ২২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া যদি কোনো চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারে, তাহলে বাংলাদেশও বের হওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিক্ষা, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য। সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

‘জনগণের সামনে পরিষ্কার এজেন্ডা দিতে হবে’

গোপন এজেন্ডা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনা করে অধ্যাপক কার্জন বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে।

তার ভাষায়, ‘এই আমার এজেন্ডা, এটা আমি করতে চাই’—এভাবে জনগণের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত দেবে তারা সেটি সমর্থন করবে কি না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সংগীত ও সংবিধান নিয়ে পরিবর্তনের নানা বক্তব্য সামনে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির ‘বি-টিমে’ পরিণত হয়েছে।

‘দায়মুক্তির প্রশ্ন তিনবার এসেছে’

দায়মুক্তির প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, এই প্রশ্ন তিনবার সামনে এসেছে। একবার নির্বাহী আদেশে ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট—এবং ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে আরও দুটি অধ্যাদেশ দায়মুক্তির জন্য করা হয়েছে।

তার প্রশ্ন, ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে দায়মুক্তির প্রশ্ন ওঠেনি, ১৯৯০ সালের আন্দোলনেও ওঠেনি—তাহলে এবার দায়মুক্তির প্রশ্ন কেন এসেছে?

তার মতে, আগে নির্ধারণ করতে হবে—এটা কতটা আন্দোলন, কতটা নাশকতা, কতটা ষড়যন্ত্র এবং কতটা ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’। এরপরই বোঝা যাবে কোথায় কী ঘটেছে।

শেষ কথা

দীর্ঘ এই আলাপচারিতায় অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ, গণভোট, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দায়মুক্তি নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন ও অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: রাশেদ আহমেদ
বার্তা প্রধান, সংবাদ

অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন
আইন বিভাগের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

এবার জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ এএম
এবার জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী

ডিবিসি নিউজ কার্যালয় থেকে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলায় সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট।

এদিকে একই ঘটনায় ডিবির হেফাজতে নেওয়া ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান।

এর আগে বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের সহকর্মী ও ডিবি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মো. আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, একটি প্রতিবেদন প্রকাশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর তাঁদের দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুকতাদির আনিক জানিয়েছিলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে পুলক ঘটকের ক্ষোভ, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ভয় দেখাচ্ছে সরকার’

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে পুলক ঘটকের ক্ষোভ, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ভয় দেখাচ্ছে সরকার’

সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি। একই ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে আটক করার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং মৌলিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তাঁরা অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলক ঘটক বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং একজন সম্পাদককে আটক করা গণতন্ত্র ও সভ্যতার সঙ্গে চরম বৈরিতার শামিল।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগবিহীন একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভাগাভাগির ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকার নিজেদের বৈধতার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার এখন নার্ভাস। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।

পুলক ঘটক আরও বলেন, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের শীর্ষ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে সাংবাদিক সমাজকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইন প্রয়োগের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে, যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়’—উপদেষ্টা জাহিদের এমন বক্তব্য মানুষকে ভীত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

পুলক ঘটক বলেন, অনৈতিক ও দুর্বল সরকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। হত্যা, নির্যাতন ও নিবর্তনমূলক আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক।

কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে সেবা গ্রহীতাকে পিটিয়ে আহত, ভিডিও ভাইরাল

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে সেবা গ্রহীতাকে পিটিয়ে আহত, ভিডিও ভাইরাল

নতুন ভোটার নিবন্ধনে বারবার হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে মারধরের শিকার; কর্মকর্তা বলছেন, ঘটেছে ধস্তাধস্তি

কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসে এক কর্মকর্তার কক্ষে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে, এর বাইরে কিছু হয়নি।

অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম রবিন সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকার বাসিন্দা। তার বোন মোসা. সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নাকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করানোর জন্য তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। বুধবার সকালে বোনকে নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে গেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

রবিউল ইসলামের অভিযোগ, বোনের নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন তিনি। প্রতিবার নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে নতুন নতুন ভুলের কথা জানানো হতো। সব ভুল একসঙ্গে জানাতে বারবার অনুরোধ করেও কোনো সমাধান পাননি।

তিনি বলেন, “আমি মানলাম, আমার সব কাজে ভুল আছে। কিন্তু কী কী ভুল আছে, তারা সব একসঙ্গে বলেনি। একেক দিন গেলে পরে একেকটি ভুলের কথা বলে। আমার বোন গেলে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আমি বারবার অনুরোধ করেছি, সব ভুল একসঙ্গে বলেন, সব ঠিক করে নিয়ে আসব।”

রবিউলের ভাষ্য, বুধবার সকালে আবারও কাগজপত্রে একটি ভুল ধরিয়ে দেওয়া হলে এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কার্যালয়ের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন।

তার দাবি, ঘটনার সময় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি রবিউলকে কিল-ঘুষি মারছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সেবা নিতে আসা ব্যক্তিকে এভাবে কক্ষে আটকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিও ধারণ করতে গেলে অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন। পরে তিনি একটি ভিডিওতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, রবিউল নিজেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিলেন। তার বোনের আবেদন করা কাগজপত্র যাচাই করে বাবার ওয়ারিশ সনদ, জন্মসনদসহ বিভিন্ন নথিতে অন্তত তিনটি অসংগতি পাওয়া যায়। সেগুলো সংশোধন করে আনতে বলা হলেও তিনি তা না করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন।

ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। একজন সেবা গ্রহীতাকে মারধর করা যেমন ঠিক হয়নি, তেমনি অভিযোগকারীর আচরণও সঠিক ছিল না।

তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা হবে।

×
ENG