বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

মুরাদনগরে ইলিশ মাছের পিকআপ ডাকাতি, ১৯ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার ইদ্রিস গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৯ পিএম
শনির আখড়া থেকে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১০-এর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার

শনির আখড়া থেকে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১০-এর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার ডাকাত সর্দার ইদ্রিস। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • শনির আখড়া থেকে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১০-এর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।
  • তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
  • বুধবার (৪ নভেম্বর) এসআরবি-১১, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২, কুমিল্লার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শনির আখড়া থেকে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১০-এর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার (৪ নভেম্বর) এসআরবি-১১, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২, কুমিল্লার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চালক ও সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে পিকআপভ্যানে ইলিশ মাছ পরিবহন করছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে একটি সাদা রঙের পিকআপ দিয়ে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল।

এ সময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। পরে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় গত ২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে ঢাকা মহানগরীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-১১, সিপিসি-২ এবং এসআরবি-১০, সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ীর একটি যৌথ আভিযানিক দল। অভিযানে ডাকাত সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত হেকিম আব্দুল মান্নান এবং মাতা সামছুন্নাহার। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন সাদিপুর এলাকায় বসবাস করতেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসআরবি জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পুলিশি রেকর্ড পর্যালোচনায় ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির ১৯টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার এবং বিভিন্ন সময়ে বিদেশফেরত প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে ডাকাতি করতেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এসআরবি-১১, সিপিসি-২-এর কোম্পানি অধিনায়ক ও উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর জলাশয়ে মিলল ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর জলাশয়ে মিলল ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ

কলেজ ক্যাম্পাসের কাছেই উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তে পুলিশ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর আদনান আলতাফ (২৮) নামে এক ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জলাশয়টি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত।

নিহত আদনান ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার বুনপাড়া দাঙ্গালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আলতাফ হোসাইন রাথারের ছেলে এবং বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে কাছের একটি ভারতীয় খাবারের হোটেলে যান। রাত ১২টা ৫ মিনিটের পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালায়। বুধবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে জলাশয়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর ও অভিযান চালাচ্ছিল। বুধবার সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জলাশয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর মুরাদনগরে ৫০০ ড্রেজার ধ্বংস, জরিমানা ৯৫ লাখ টাকা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ এএম
হাইকোর্টের নির্দেশের পর মুরাদনগরে ৫০০ ড্রেজার ধ্বংস, জরিমানা ৯৫ লাখ টাকা

কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনার পর ৫২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসব অভিযানে প্রায় ৫০০টি অবৈধ ড্রেজার ধ্বংস ও অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই লাখ ফুট পাইপ ধ্বংস ও অপসারণ করা হয়েছে। অভিযানে জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পর অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ-সংক্রান্ত রিট পিটিশন নম্বর ১৪১০৮/২২।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ও ৫২ ধারায় এসব অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার সড়ক, জলাশয় ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। কোথাও কোথাও ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে সড়ক ও কৃষিজমির ওপর দিয়ে বালু পরিবহন করা হচ্ছিল। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং জনসাধারণের চলাচলের সড়ক ও কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান চালানো হয়।

প্রতিবেদনে কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি মুক্তি ব্রিকসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চালিয়া কাচি-২ এলাকার রুবিয়া ব্রিকসকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় মোবাইল কোর্ট মামলা নম্বর ০১/২০২৫। ৬ ফেব্রুয়ারি ধামঘর-৩ এলাকার শাপলা ব্রিকসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যার মামলা নম্বর ৩০/২০২৫। বাঘারনগর এলাকার একটি ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্গম এলাকায় গিয়ে ড্রেজার জব্দ করা সম্ভব না হওয়ায় ২১টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে পুকুর বা গর্ত খননের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় পরবর্তী সময়ে গর্ত বা পুকুর ভরাটের নির্দেশ এবং এ-সংক্রান্ত ব্যয় আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকারীদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিংয়ের ঘটনায় কয়েকটি মামলা ও মোবাইল কোর্টের নথির তথ্য প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও আসামিদের গ্রেপ্তারে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের সঙ্গে ড্রেজার-সংক্রান্ত ১৬ ফর্দ তথ্য, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ২৪ ফর্দ প্রতিবেদন, ৫২টি মোবাইল কোর্টের আদেশ এবং একটি স্থিরচিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মুরাদনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে সাকিব হাসান খান প্রতিবেদনটি স্বাক্ষর করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান।

সোলার এক্সপোতে ঢাবির রোবোটিক্স দলের প্রথম পুরস্কার, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিলেন দেবীদ্বারের জারা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৮ এএম
সোলার এক্সপোতে ঢাবির রোবোটিক্স দলের প্রথম পুরস্কার, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা নিলেন দেবীদ্বারের জারা

জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রকল্পে সেরা, উচ্ছ্বসিত পরিবার ও এলাকাবাসী

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি দল। বিজয়ী দলের সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের কৃতী শিক্ষার্থী জারা তাসনুভা আলম।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক্সপোর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারা তাসনুভা আলম (২১) এবং তার সহপাঠী হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজার দলের তৈরি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রকল্পটি বিচারকদের বিবেচনায় প্রথম স্থান অর্জন করে। দলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করেন জারা ও হুমায়রা।

তাদের এই সাফল্যকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তরুণ শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রকল্পটি এক্সপোতে উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জারা তাসনুভা আলম দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মেয়ে। মেয়ের এমন সাফল্যে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি দেবীদ্বারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে জারা তাসনুভা আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। এই অর্জন আমাদের পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমাদের প্রকল্পটি ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। আমার পথচলায় সব সময় পাশে থাকার জন্য বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

গর্বিত বাবা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, “আমার মেয়ে জারা তাসনুভা আলমসহ তার দলের তৈরি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রকল্পটি এক্সপোতে প্রথম স্থান অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।”

তিনি জানান, তার দ্বিতীয় মেয়ে সারাহ তাসফিয়া আলম (১৯) গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে (আইইউটি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন। একমাত্র ছেলে আইয়ান মুকতাদির আলম (১৩) বুয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সন্তানদের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সবার দোয়া কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাধ্যমে তারা যেন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকেরা জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নানা প্রকল্প প্রদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দলটির উদ্ভাবন প্রথম স্থান অর্জন করে।

×
ENG