দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

দেবীদ্বারে ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি পরেশ কর। পাশে র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দৃশ্য। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কিশোর গ্যাং ধরতে অভিযান
দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক, অভিভাবকদের ভিড়ে থানায় উত্তেজনা
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৯ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বুধবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে আটক কিশোরদের থানায় আনার পর তাদের স্বজন ও অভিভাবকদের ভিড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ২৮ কিশোর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যায়।
বুধবার রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানার ভেতরে ভাঙচুর এবং কিশোরদের বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থানার ভেতরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন কক্ষে মানুষের প্রবেশ ও হট্টগোলের কারণে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।

সর্বমোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আটকের খবর পেয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের ফিরিয়ে নিতে থানায় এসে হট্টগোল করেন। কেউ কেউ বাইরে থেকে উত্তেজনা ছড়ায় ও ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় এবং ভিড়ের মধ্যে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়। থানায় ভাঙচুরের বিষয়টি মিথ্যা।
তবে ওসি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজতে দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে মোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, “সর্বমোট ৫৯ আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে একটি কক্ষে ২৮ জন অবস্থান করছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন। ওসির দাবি, বাইরে থেকেও কেউ কেউ উত্তেজনা ছড়ায় এবং থানার দিকে ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার একটি অংশ খুলে যায় এবং মানুষের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়।
অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ২৮ কিশোরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় থানার ভেতরে ব্যাপক ভিড় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
ঘটনার পর থানার সামনে আটক কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের তৎপর হতে দেখা যায়।
আটক কিশোরদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে কিশোরদের স্বজনদের দাবি, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড নেই।
ওসি জানান, তথ্য যাচাই করে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকাতেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে বলে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, রাতভর অভিযান চলবে। অভিযান শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজন আটক রয়েছে—সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর গণমাধ্যমকে সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় একদিকে পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের হট্টগোলে একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যাওয়াসহ কিছু চেয়ার উল্টে যায়। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থানার ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ফলে কিশোরদের আটকের কারণ, থানায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং ২৮ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
























