থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

বাঙ্গরায় থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো জীবনের ঝুঁকি, এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বর্তমানে বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের। আর্সি নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষের পথে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন থেমে থাকার পর আবারও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুটির কাজ। ইতোমধ্যে ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর শত বছরের লালিত স্বপ্ন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা কারণে একপর্যায়ে সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কায়কোবাদ-এর উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবারও নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অবশিষ্ট কাজ।
প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির দুই পাশে রয়েছে মোট ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া ও রোয়াচালা হয়ে সড়কটি দৌলতপুরের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আর্সি নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষকে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বাসিন্দা

আমার জীবনের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল এই সেতুটি দেখে যাওয়া। এতদিনে আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রবীণ বাসিন্দা হাসু রানী বলেন, “জীবনে কত মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখলাম, কিন্তু কেউ এই সেতুটি করতে পারেনি। আমার এই বয়সে সেতুটি দেখে যেতে পারব, তা কখনো ভাবিনি।”
কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “কোনো দিন ভাবিনি এখানে পাকা সেতু হবে। সেতুটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে।”
গৃহবধূ সুভা রানী ঘোষ বলেন, “শত বছরের সাধনার মতো ছিল আমাদের এই সেতু। এখন এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। সেতুটি চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।”
এলাকাবাসী জানান, আর্সি নদীর ওপর সেতু না থাকায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনও ছিল কঠিন। বিশেষ করে রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে নদী পারাপার নিয়ে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো।
এদিকে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিয়ে ‘ভোরের কাগজ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর মতে, গণমাধ্যম মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং সমাধানের পথ তৈরি হয়।

আর্সি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, রোয়াচালাসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে সাঁকো পারাপার হয়ে উঠত আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি বহু পরিবারের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। সেতু চালু হলে একদিকে যেমন সহজ হবে মানুষের যাতায়াত, অন্যদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও সহজ হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় এখন তাদের প্রত্যাশা দ্রুততম সময়ে বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সেতুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণাধীন সেতুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। প্রবীণরা বলছেন, তাদের জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি হতে যাচ্ছে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি সংযোগ সড়কের কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। কারণ সেতু নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এলাকাবাসীর মতে, আর্সি নদীর ওপর সেতুটি চালু হলে শুধু দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগই সহজ হবে না, আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও প্রধান সড়কের যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে। কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন তাই ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের চোখে নতুন স্বপ্ন। বাঁশের সাঁকোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে এবার তারা অপেক্ষা করছেন একটি নিরাপদ ও স্থায়ী সড়ক যোগাযোগের জন্য। থেমে থাকা নির্মাণকাজ আবার সচল হওয়া এবং সেতুর ছাদ ঢালাই শেষ হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।
এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। তাহলেই শত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, বদলে যাবে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।































