প্রভাবশালী হলেও ছাড় নয়
‘মাদক থাকবে, নাকি থানা থাকবে—একটা বেছে নিতে হবে’: ওসি মনিরুজ্জামান

দেবীদ্বারের পদ্মকোটে মাদকবিরোধী সমাবেশ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে থানা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষক—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
সোমবার বিকেলে উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের পদ্মকোট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে পদ্মকোট বাজারের প্রধান সড়কগুলোতে মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইউপি সদস্য আবু মুছা মোল্লার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ও দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনায় অংশ নেন মো. আব্দুর রশিদ সরকার, সরকার সাকিব, দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন, গাজী নাজমুল, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ কর্মহীনতা, অসামাজিক পরিবেশ ও মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের বিপথগামী হওয়ার অন্যতম কারণ।
সমাবেশে ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,

মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা এর পৃষ্ঠপোষক যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পাশাপাশি চলবে।
তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। একটি পরিবারে একজন মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী থাকলে সেই পরিবারের জন্য তা সারা জীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—মাদক থাকবে, নাকি থানা থাকবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই।”
ওসি বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। দেবীদ্বারকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযান, চিরুনি তল্লাশি ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক একটি ব্যক্তির জীবন ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে। একজন তরুণ মাদকে আসক্ত হলে তার শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধসহ নানা সামাজিক অপরাধও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কমবে।
সমাবেশে অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, সন্তানকে শুধু শাসন করলেই হবে না, তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন, আচরণগত সমস্যা কিংবা হঠাৎ নতুন কোনো বন্ধুমহলে জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
আলোচনা শেষে পদ্মকোট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘মাদককে না বলুন, সুস্থ সমাজ গড়ুন’সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। র্যালি থেকে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হবে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
































