বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন আমীর খসরু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ৭:০২ পিএম
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন আমীর খসরু

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
  • তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
  • ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই সরকারের অধীন আদৌ কি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব?

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই সরকারের অধীন আদৌ কি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব?

আজ রোববার চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের সামনে এসব মন্তব্য করেন খসরু।

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?

আমীর খসরু বলেন, “নব্বই শতাংশের বেশি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় এবং এই দাবি একেবারে ভিত্তিহীন নয়। কারণ, নির্বাচন-পূর্ব সংস্কার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঐকমত্যও প্রায় প্রতিষ্ঠিত। যদি কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশকে সন্তুষ্ট করতেই নির্বাচন পেছানো হয়, তবে ভবিষ্যতে সেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে—এমন বিশ্বাস জনগণের মধ্যে ক্ষীণ হয়ে আসবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ: আমীর খসরু
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ: আমীর খসরু

তিনি আরও বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই নিশ্চিত করবে কে দোষী আর কে নির্দোষ। সরকার নয়, বিচার বিভাগই বিচার করবে। ছয় মাস সময় বাকি আছে, এই সময়ের মধ্যে যাদের বিচার করা সম্ভব, তাদের করতে হবে। যাদের এ সরকার পারবে না, বিএনপি সরকারে এসে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনবে।”

ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চাই: বিএনপি

বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে আমীর খসরু বলেন, “ডিসেম্বরের পর নির্বাচন হলে তা জনমতের বিরুদ্ধে যাবে। একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর স্বার্থে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ জিম্মি করা চলবে না। কাজেই, আমাদের অবস্থান হলো—ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।”

শেখ হাসিনা-পতনের পর রাজনীতির নতুন অধ্যায়

আমীর খসরু তার বক্তব্যে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যখন আর থাকবেন না, তখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন আসবে, তা আমাদের ভালোভাবে অনুধাবন করতে হবে। আমাদের কৌশল নির্ধারণে এই বিষয়টি বড় ভূমিকা রাখবে।”

🧭 বিশ্লেষণ: নির্বাচন পেছানো নিয়ে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমীর খসরুর বক্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশলের অংশ হতে পারে, আবার এটি জনগণের বাস্তব উদ্বেগের প্রতিফলনও হতে পারে। নির্বাচন-পূর্ব সংস্কার, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূল বিতর্ক গড়ে উঠেছে।

এছাড়া একটি “ক্ষুদ্র গোষ্ঠী” কাকে ইঙ্গিত করছে—তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হতে পারে। অনেকে মনে করছেন, এতে দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ এখন আর কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং তা দেশের গণতন্ত্র, আইন-শাসন এবং জনমতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যদি এই সন্দেহ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও হ্রাস পাবে এবং জাতীয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’

ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা

সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?

জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।

জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
— রাশেদ আহমেদ
প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল দৈনিক সংবাদ

কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।

রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।

যে স্বপ্ন এখনো অধরা

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।

সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।

কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।

তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?

উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।

সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।

তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।

জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি

জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।

টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।

তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।

কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।

৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।

একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।

রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—

কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

দৈনিক আজকের কথা
ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
— অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ
চেয়ারম্যান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।

কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব

আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
— অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।

সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

×
ENG