সামাজিক মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ
দেবীদ্বারে পুলিশের গুলিতে সাব্বির নিহত, সেই মামলায় আটক ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল
সাব্বির হত্যা মামলা কুমিল্লার দেবীদ্বারে আলোচিত এই মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুকবল হোসেন মুকুল (৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ নম্বর গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
মুকবল হোসেন মুকুল উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন সরকারের ছেলে। তিনি ৯ নম্বর গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
🔴 হাইলাইটস
কুমিল্লার দেবীদ্বারে পুলিশের গুলিতে নিহত সাব্বিরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুকুলকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ধরনের মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। ঘটনাটি ঘিরে জেলাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও নিন্দা ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আমিনুল ইসলাম সাব্বির হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেবীদ্বার থানা ঘেরাও, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কিশোর সাব্বিরও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সাব্বিরের মাথায় দুটি গুলি লাগে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৩৫ দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফেরার মাত্র তিন দিনের মাথায় আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩৯ দিন পর নানাবাড়িতেই মারা যান সাব্বির হোসেন (১৯)।
সাব্বির কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে। নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের হাল ধরেছিলেন।
২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরের মামা নাজমুল হক ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
এদিকে মুকুলকে আটকের পর জেলাজুড়ে এ ঘটনাকে ঘিরে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই এটিকে ‘জুলুমের বিচার’ ও ‘মবের বিচার’ আখ্যা দিয়ে বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করছেন।
সাব্বির হত্যা মামলা পুলিশ জানিয়েছে, আটক মুকবল হোসেন মুকুল এই মামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।






















