

দেবীদ্বারে সাব্বির হত্যা মামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম ওমানীকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

দেবীদ্বারে সাব্বির হত্যা মামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম ওমানীকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের ছাতিপট্টি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ।
আবুল কাশেম ওমানী দেবীদ্বার পৌর এলাকার মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি অতীতে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদেরও দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম সাব্বির (১৮)। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪০ দিন পর, ১৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাব্বির দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে।
এই ঘটনায় নিহত সাব্বিরের মামা মো. নাজমুল হক দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৯৯ জনকে নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি বর্তমানে “সাব্বির হত্যা মামলা” নামে আলোচিত।
দেবীদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, আবুল কাশেম ওমানী এই মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তার এ গ্রেফতারে কেন্দ্রীয় যু্বলীগ এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দার সাথে জানাচ্ছি যে, দেবীদ্বার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম ওমানীকে গ্রেপ্তার সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির অংশ। একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও সাজানো মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। কাশেম ওমানী এলাকার একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজসেবায় নিবেদিত। তাঁর নামে দায়েরকৃত সাব্বির হত্যা মামলা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে অনতিবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি এবং এ ধরনের হয়রানিমূলক আচরণের বিচার বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের আইনের শাসন এবং মৌলিক মানবাধিকারের স্বার্থে এ ধরণের অন্যায় গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।