২০২৪ সালের ৫ আগস্টের লুটপাট
সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার! দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা দায়ী বলছে তদন্ত কমিটি

ফাইল ফটো
রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন। সেই সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকেই উধাও ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার। সরকারি হিসাবে যার মূল্য ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ ভারী ধাতব সরঞ্জাম কীভাবে গায়েব হলো, তা জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও। কেউ বলছেন স্টোরে ছিল, কেউ বলছেন বুঝে পাননি, আবার কেউ দায় চাপাচ্ছেন অধস্তন কর্মকর্তার ওপর। অথচ কাগজে-কলমে সব ঠিকঠাক।
৭১ কোটি টাকার সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও পরে দেখা যায় পুরোনো কিছু কপার বারই আবার ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র স্টোরে জমা করার কথা বলা হলেও বাস্তবে মিলছে না সেসবের অস্তিত্ব। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—একই কাজের জন্য দুইবার সার্ভে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে; কিন্তু দুই রিপোর্টেই অসংগতি লক্ষণীয়। কোথাও স্বাক্ষর নেই, কোথাও তারিখ নেই, আবার কোথাও সরঞ্জামের পরিমাণ ও মূল্য গেছে পাল্টে। প্রতিটি নথিই যেন আরেকটি নথিকে আড়াল করার জন্য তৈরি।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। আর সেই অনিয়ম ঢাকতেই পুরোনো মালপত্র বিক্রি কিংবা গায়েবের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্তের আগেই দায় চাপানো হয়েছে এমন এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর, যিনি মাত্র পাঁচ মাস দায়িত্বে ছিলেন; কিন্তু তার দাবি, তাকে কখনোই স্টোর বা প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো জাতীয় সংসদ ভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থান থেকে এত বিপুল পরিমাণ কপার বার কীভাবে উধাও হলো? এটি কি শুধুই চুরি, নাকি এর আড়ালে আছে আরও বড় কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি, যেখানে কোটি কোটি টাকার হিসাব গায়েব হয়ে গেছে নথির আড়ালে?
সংসদ ভবন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে সংসদ ভবনের নবম তলায় এবিসিডি সাব-স্টেশনে এলটি ও ইএলটি প্যানেল কেবলের ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। চারটি সাব-স্টেশনের মধ্যে শুধু-ডি এর কাজ শেষ হলে ৩৪২টি কপার বাসবার স্টোররুমে জমা করেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী। ৫ আগস্টের পর তাকে বদলি করা হলে দায়িত্বপান মো. আনোয়ার হোসেন; কিন্তু আনোয়র হোসেনের আমলে বাকিগুলো সম্পন্ন হয়েছে বলা হলে পুরোনো কপার পাওয়া যাচ্ছে না।
খোদ গণপূর্তের কর্মকর্তারা সংশয় প্রকাশ করে বলছেন, যেসব কাজ হওয়ার কথা, তা সম্পন্ন হয়েছে নাকি জুলাই আন্দোলনের পর পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সময়ক্ষেপণে বলা হচ্ছে সম্পূর্ণ কাজ হয়েছে এবং বিল উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ হয়েছে; কিন্তু নতুন মালপত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। তাই পুরোনো মালপত্র স্টোরে জমা হয়নি। এত কপারবার চুরি হয় কীভাবে। সম্পূর্ণ কাজ হলে এতদিন এসব সরঞ্জামের খবর ছিল না কেন? জমা দেওয়ার সময় সার্ভে রিপোর্ট হলো না কেন? ৫ আগস্টের পর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আসা মো. আনোয়ার হোসেন কাজের টেন্ডার আগে হওয়ায় এবং কিছু হওয়ার পর আর কাজের প্রয়োজন মনে করেননি। বা কিছু কাজের প্রয়োজন হলে পুরোনো ৬৬টি বার ব্যবহার করে সমাধান করা হয়েছে। এখন এসব বিষয়ে সামনে আসায় ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার নিয়ে কথা হচ্ছে।
জানা গেছে, কপার বার হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী কেউই এর দায় নিতে নারাজ। নির্বাহী প্রকৌশলী ও এসডি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। এমনকি উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে দায়ী করে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও এসডি আসিফ রহমান নাহিদ।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, এ কাজের দায়িত্বে মাত্র পাঁচ মাসের মতো ছিলাম। অন্যদিকে দীর্ঘ তিন বছর সংসদ ভবনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন আসিফ। তিনিই সব কাজ করে থাকেন। কোথায় কী কাজ হয়েছে ও কাজ চলমান আছে—এসব বিষয়ে কিছুই আমাকে জানানো হয়নি। বারবার বলার পর আমাকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি এ কাজের সাইটে কোনোদিন যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। যে পরিমাণ পুরোনো কপার বার স্টোরে সংরক্ষিত ছিল বলা হচ্ছে, তার আমি কিছুই জানি না। এবং আমাকে কখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
এরপর গত ২৫ মার্চ চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। এ তদন্ত কমিটি সংসদ ভবন থেকে কপার বার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য বলছে, আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংসদ ভবনের নবম তলায় বিদ্যমান চারটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের জন্য এলটি সুইচগিয়ার, বাসবার ট্রাঙ্কিং এবং নতুন জিআইএস প্যানেল সরবরাহ ও স্থাপন কাজ। টেন্ডার নং: ০৫৪(১৩) E/M-৭/, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই কাজ দেখানো হয়। দুটি ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরের, যার আইডি নং ৫২৬২৩২ ও ৫৩৫৫৩৩। এ ছাড়া আরেকটি কাজের অর্থবছর উল্লেখ করা হয় ২০২২-২৩, যার আইডি নং ৭৮৩৪৬৬। এসব কাজ করেছে এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাজগুলো চলমান বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কাজ শেষে পুরোনো ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বার স্টোরে সংরক্ষণ করা আছে বলে দাবি করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা।
জানা গেছে, সংসদ ভবনের সাব-স্টেশন চারটির কাজ পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। কিছু কাজ কম হওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের কমিশন চান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন; কিন্তু সেই কমিশন না দেওয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিল কম দেওয়া হয়। নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে এ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
নথির তথ্যমতে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি স্টোররুম পরিদর্শন করেন সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। এরপর একটি চিঠি তৈরি করা হয়। তাতে বলা হয়, এডেক্স করপোরেশন সম্পাদিত লেভেল ১০৮-এ নবম তলার বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র এ, বি, সি, ডি-এর কাজ শেষে পুরোনো এলটি, এইচটি প্যানেল থেকে ১৪০৯টি কপার বার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৬টি কপার বার টাই বাসবারে ব্যবহারের পর ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বার উপসহকারী প্রকৌশলী, শাখা-২-এর তত্ত্বাবধানে থাকা এমএমপি রুমের স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু গত ২১ জানুয়ারি উপসহকারী প্রকৌশলী শাখা-২ এবং ইলেকট্রিশিয়ানসহ সার্ভে রিপোর্ট প্রস্তুতের জন্য স্টোরগুলো পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বারের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক কপার বার জমা রয়েছে। কিন্তু স্টোররুম পরিদর্শন করলে নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে স্বাক্ষর না করে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ দিয়ে স্বাক্ষর করান, এবং চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি চিঠি ইস্যু করান। আবার একই তারিখে দ্বিতীয়বার সার্ভে রিপোর্ট দেখানো হয়।
প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য বলছে, এডেক্স করপোরেশনের কাজ শেষে অকেজো মালপত্র স্টোররুমে জমা দেখিয়ে প্রথমে একটি সার্ভে রিপোর্ট করা হয় দুই বছর পর (গত বছর ১৮ ডিসেম্বর)। এ সার্ভে রিপোর্ট সংসদ ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ রিসিভ করেন। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করেননি। আগের রিপোর্টের সঙ্গে কোনো মিল নেই। দুটি সার্ভে রিপোর্ট দেখানো হলেও প্রথমটিতে কোনো তারিখ ও স্বাক্ষর নেই। এমনকি প্রথমবারের সার্ভে রিপোর্ট কম্পিউটারে টাইপ করা হলেও তাতে কিছু মালপত্রের তথ্য হাতেও লেখা আছে। দ্বিতীয়বার সার্ভে রিপোর্ট করা হয় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি। তাতে দেখা যায়, প্রথমবারের সার্ভে রিপোর্টে যেসব মালপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়, তার সঙ্গে মিল নেই। কারণ, কাজ একই হলেও দ্বিতীয় সার্ভে রিপোর্টে মালপত্রের কথা বেশি উল্লেখ এবং অধিক মূল্য ধরা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথমবারের সার্ভে রিপোর্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর না থাকলেও দ্বিতীয় সার্ভে রিপোর্টে তার স্বাক্ষর রয়েছে। মূলত এ চিঠি তৈরি করা হয় নিজের দায়ভার এড়াতে।
এর আগে গত বছর জুন মাসে স্টোররুমে কপার বারের সংখ্যা উল্লেখ করে একটি চিঠিতে বলা হয়, এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড কাজ করে সংসদ ভবনের ১০৮-এ নবম তলার সাব-স্টেশনের কাজ শেষে অবশিষ্ট মারপত্র ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর সাব-ষ্টেশন-বি-এর কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র, ৩১ অক্টোবর সাব স্টেশন-সি-এর কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র, ১১, ১২ ও ১৩ জুলাই ও ২৬ অক্টোবর এ, বি, সি, ডি-এর কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফেরত প্রদান করা হয়। মালপত্র এমএমপি স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে। দুই বছর আগে কাজ শেষ হলেও দুই বছর পর সার্ভে রিপোর্ট করা হয়, এবং হেলালের আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কেন এ সংরক্ষিত মালপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গার স্টোররুম কেন সিসিটিভি নষ্ট। এমন নানা প্রশ্ন তুলেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতারা। মূলত গত বছরের চিঠি দেখানো হলেও সম্প্রতি এ চিঠি তৈরি করে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতারা।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ কালবেলাকে বলেন, কিছু বিষয় আছে সেগুলো বলা যায় না। কয়েকজন কর্মচারী ঠিকাদারের সঙ্গে মিলে স্টোরে কপার বারগুলো বিক্রির জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কপার বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল এমন কিছু কথা বলেন, যা সন্দেহজনক।
পুরোনো কপার বাসবার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরোনো কিছু মালপত্র ব্যবহারের কথা ছিল। ঠিকাদার কোম্পানিকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আনোয়ার স্যার করেছেন। তার সঙ্গে কী ঝামেলা হয়েছে তিনি জানেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এডেক্স করপোরেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী নুরুন নবী সুজন কালবেলাকে বলেন, প্রায় সব কাজ শেষ, কিন্তু একটি স্টেশনের লাইন দেওয়া হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী আমাদের ১ কোটি ৮০ লাখ কম দিয়েছেন। এখনো কিছু বিল বাকি আছে। আমাদের কোম্পানি সম্পূর্ণ কাজ করার পরও টাকা কম দিয়েছে, এ বিষয়ে মামলা করব। কপার বারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয় জানি না। শুনেছি কপার চুরি হয়েছে।
সংসদ ভবন থেকে কপার বার হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালিকুজ্জামান চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা বলতে পারবেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কি না, যদি দেওয়া হয় তাহলে সংসদ থেকে কপার বার হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ মিলেছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি বলেন, এটা আমি জানি না।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

“মেয়াদোত্তীর্ণ, অনিবন্ধিত ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রি থেকে ফার্মেসি মালিকদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।”
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নিউমার্কেট এলাকার শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ করে মালিকরা সরে পড়েন। পরে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ৮টিতে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খোলা ১৫টির ৮টিতে অনিয়ম, জরিমানা ৪৬ হাজার; বাসকেও ৫ হাজার টাকা দণ্ড
দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিউমার্কেটের মোট ১১৮টি ফার্মেসির মধ্যে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ফার্মেসিতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল পাওয়া যায়।
পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য ধারায় সংশ্লিষ্ট ৮টি ফার্মেসিকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের খবর পেয়ে যেসব ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও অভিযানে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের শোকজ করা হবে।
অভিযানকালে কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
এদিকে, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে সড়কে যানজট সৃষ্টির দায়ে এমএইচ ও নিউ সুগন্ধা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য ধারায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফার্মেসি মালিকদের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সড়কে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।
স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।
এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।
































