কুমিল্লায় বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা: ৯ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, বাকি দুই আসনে অপেক্ষা

কুমিল্লায় বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা: ৯ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, বাকি দুই আসনে অপেক্ষা
কুমিল্লায় বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি দুটি আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রার্থীদের নাম অনুমোদন করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে হাজী জসিম, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম, কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে আব্দুল গফুর ভূইয়া এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে কামরুল হুদা।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) ও কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রার্থী নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। ওই দুটি আসনে পরে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
দলীয় নেতারা জানান, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কুমিলায় বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর কুমিল্লার প্রায় সব আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
কুমিল্লায় অপ্রতীমের মৃত্যুতে কান্না, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু কোথায়?

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোক নেমে এসেছে। পরিবারের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ জন শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের মধ্যে কুমিল্লার অপ্রতীমের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা যেমন জরুরি, তেমনি এখনো নিখোঁজ থাকা হাজারো শিশুর সন্ধান এবং তাদের পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।
অপ্রতীমের ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইনে কথা বলতে এবং শিশুটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ধরনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, একই সময়ে দেশের হাজারো নিখোঁজ শিশুর পরিবারের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও তদন্তের অগ্রগতি কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটিও আলোচনায় আসছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
কুমিল্লায় জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় শিশু নিখোঁজ, কিশোর অপরাধ এবং শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব সভার সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি নিয়ে আলোচনা চলার পাশাপাশি জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের দাবিও উঠেছে। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে সরকারি হেরিটেজের আওতায় এনে সংরক্ষণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে।
তবে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও স্থাপনার মালিকানা, জমির রেকর্ড এবং আইনগত অধিকারও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিরোধ বা দখলসংক্রান্ত পরিস্থিতি তৈরি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের অন্য নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
ছবির ক্যাপশন : ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম…. ছবি।
দেবীদ্বারে নাশকতা মামলায় যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন বাজার এলাকার আলফু মিয়ার ছেলে ও পৌর যুবলীগের সহসভাপতি মো. রাসেল (৪০), সুবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া চানবক্স সরকার বাড়ির মো. আমির হোসেনের ছেলে ও সুবিল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন (৩২) এবং সুলতানপুর ইউনিয়নের ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দীনের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান (২৩)।

নাশকতা মামলায় আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের পর নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়। ওই মিছিলের নেতৃত্বে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মামুনুর রশীদ মামুন ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই।
এরপর শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নাশকতা মামলায় আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, সাড়ে ১২ লাখ টাকায় মীমাংসা

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে হাসপাতালে উত্তেজনা, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর পপি আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিস বৈঠকে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত পপি আক্তার উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই রহমতপুর গ্রামের মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী। তাঁর দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। এছাড়া ১৪ দিন বয়সী একটি নবজাতকও রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার আল বারাকা হাসপাতালে পপি আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর রক্তনালি কেটে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ অক্টোবর মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পপি আক্তারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “মেয়েটির অকালমৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। ঘটনার খবর পেয়ে আমি সরাসরি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। মাতৃহীন দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে আল বারাকা হাসপাতালের মালিক কাফির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এলাকাবাসী হাসপাতালে ভাঙচুরের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাসিবুর রেজা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















