১৫০০ কোটিতে ‘নগদ’ কিনছে আবুল খায়ের

গ্রাফিকস : দৈনিক আজকের কথা ও জয় বাংলার জয়
ডাক বিভাগের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হলেও মালিকানা, অনুমোদন ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কে থাকা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ‘নগদ’ নতুনভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, মামলা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন আসছে। নগদ কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নগদের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার দায় রয়েছে, যা পরিশোধ করবে আবুল খায়ের গ্রুপ। হাতবদলের মূল্যসহ মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দায় শোধের পর সরকার পাবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডির করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি প্রয়োজন হবে। এর আগে সৌদি আরবভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠী প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় নগদ অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখালেও তাতে শেষ পর্যন্ত সায় দেয়নি সরকার।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, কোটি কোটি গ্রাহকসম্পন্ন এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের মূলধনী সহায়তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শক্তিশালী করপোরেট ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সে কারণেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামে একটি ছোট বিড়ি কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিকস, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য, তামাক এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
গত বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে নগদের দায়দেনা ও মামলার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়ম এবং অনুমোদিত কোনো অর্থ ছাড়াই ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি তৈরি করে। নগদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই রিয়েল মানি সংরক্ষণ ছাড়া অতিরিক্ত অন্তত ৬০০ কোটি টাকা ই-মানি ইস্যু করে। অর্থাৎ ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি বাজারে ছাড়ে। কোনো প্রকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে সংরক্ষিত না রেখেই এই ডিজিটাল অর্থ তৈরি করে লোপাট করা হয়।
বিষয়টি সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো গ্রাহকের নগদ অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা দেখা গেলে সেটিই ই-মানি। দেশে ই-মানি বা ডিজিটাল অর্থের লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট কিছু তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক সেটেলমেন্ট পরিচালনা করে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ই-মানি ইস্যুর ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু নগদ ৬০০ কোটি টাকার বিপরীতে কোনো অর্থ সংরক্ষণ না করেই সমপরিমাণ ই-মানি বাজারে ছাড়ে, যা এখন প্রতিষ্ঠানটির দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যাংক যুক্ত থাকলেও এমএফএস ও ডিজিটাল সেটেলমেন্টে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাধারণত রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে প্রায় ১৬টি ব্যাংক বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক।
জানা গেছে, এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলা ও তারল্য সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছিল। আবুল খায়ের গ্রুপ সেই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে। সরকারের ধারণা, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা নগদের মতো বড় পরিসরের ফিনটেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও নগদের বিশাল গ্রাহকভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক রয়েছে এবং দৈনিক লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এমএফএস বাজারে বিকাশের পরই নগদের অবস্থান। বড় এই বাজার ও নেটওয়ার্ক যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক সুযোগ বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সরকার ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, আবুল খায়ের গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নগদের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
নগদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিজস্ব আয় দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এখনো লাভজনক অবস্থায় যেতে পারেনি। মূলত ‘ব্রেক ইভেন’ অবস্থায় রয়েছে। চলতি মাস পর্যন্ত নগদে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে প্রায় ৮০০ কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত কর্মী ৬২৫ জন। প্রতিষ্ঠানটির মাসিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। ব্যয় কমাতে বিজ্ঞাপন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লোকবলও কমানো হয়েছে। বড় অফিস ছেড়ে ছোট পরিসরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নগদের মূল আয়ের বড় অংশ আসে ব্যাংকে সংরক্ষিত অর্থের সুদ থেকে। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা সুদ আয় হয়। তবে মোবাইল আর্থিক সেবার সবচেয়ে বড় খাত ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট থেকে কার্যত কোনো মুনাফা পায় না প্রতিষ্ঠানটি। কারণ এ খাতের প্রায় পুরো কমিশন চলে যায় এজেন্টদের কাছে। নগদ পেমেন্ট সেবায় গ্রাহকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য চার্জও নেয় না। বরং প্রতি হাজার টাকায় ১ থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত কমিশন নেয়। অন্যদিকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসে নগদের মাধ্যমে। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বড় গ্রাহকভিত্তি ও উচ্চ দৈনিক লেনদেনের কারণে এখনও নগদের বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। সহজে হিসাব খোলার সুবিধা ও ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেবাটি। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও পেয়েছে নগদ। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রাহক নিবন্ধন নিয়েছেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগদের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে উচ্চ আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করলে দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদফতর। ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও এমএফএস ব্যবসা পরিচালনায় সরকার সমর্থ নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডাক বিভাগও এককভাবে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা পরিচালনার সক্ষমতা রাখে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, নগদকে ডাক অধিদফতরের হাত থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে, কারণ ডাক অধিদফতরের পক্ষে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নগদ কেনার বিষয়ে ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ওই সময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী।
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘নগদ’। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এটিকে ‘ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন’ হিসেবে প্রচার করে। সরকারি লোগো ও রাষ্ট্রীয় আস্থার সুযোগ নিয়ে কীভাবে একটি বেসরকারি গোষ্ঠী কয়েক হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে এবং মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের প্রভাব বিস্তার হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। শুরু থেকেই ‘নগদ’কে সরকারি সেবা হিসেবে প্রচার করা হলেও নথিপত্রে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডাক অধিদফতরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে এ ব্যবসা শুরু করে। চুক্তিতে মুনাফা ভাগাভাগির কথা থাকলেও ডাক অধিদফতরের কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছিল না।
শুরুর দিকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদের পাশাপাশি কাজী মনিরুল কবিরসহ কয়েকজন উদ্যোক্তা থাকলেও পরে এতে যুক্ত হন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক দুই সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ‘ব্লু ওয়াটার হোল্ডিং’-এর মাধ্যমে নগদের মালিকানায় অংশীদার হন।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারের সন্দেহ প্রকাশ করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে কোনো চূড়ান্ত লাইসেন্স ছাড়াই নয়বার সাময়িক অনুমোদনের মেয়াদ বাড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে নগদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বলা হয়, ৪১টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার অন্তত ১ হাজার ৭১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এই অর্থ দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।
২০২১ সালে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের অজুহাতে হাজার হাজার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় নগদ। অভিযোগ রয়েছে, এতে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্যান্ডেলস্টোন ইনভেস্টমেন্টস ও সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরের সময় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পাচারের সন্দেহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডভিত্তিক ‘মিরেস হোল্ডিংস লিমিটেড’-এর অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়টিও অনুসন্ধানে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগকে বিভ্রান্ত করতে ‘ম্যানিপুলেটেড রিপোর্টিং পোর্টাল’ তৈরি করেছিল নগদ। এ পোর্টাল থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যে ই-মানি তথ্য দেওয়া হতো, তার সঙ্গে নগদের মূল ডাটাবেজের কোনো মিল ছিল না। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর এড়াতেই এই সমান্তরাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘নগদ দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। তাই গ্রাহকের স্বার্থ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেই সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নগদকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করপোরেট কাঠামোর আওতায় আনতে কাজ চলছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘নগদে গ্রাহকের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি এবং প্রযুক্তিগত হালনাগাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নগদ বর্তমানে নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বজায় রেখেই আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি। আপাতত কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন নেই।’
নতুন কোনো বড় বিনিয়োগকারী বা শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হলে নগদ আবার শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগদ এখনও দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আমরা মনে করি। অন্য কোনো শিল্পগোষ্ঠীর যুক্ত হওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



































