বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গুলির উৎস অজানা, নিরাপত্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পার করল পুলিশ

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবক, পথে অ্যাম্বুলেন্সে আবারও গুলি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:১৭ এএম
খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবক, পথে অ্যাম্বুলেন্সে আবারও গুলি

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবারও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
  • সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
  • আহত রাজু হাওলাদার (৩৮) লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা।

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবারও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত রাজু হাওলাদার (৩৮) লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং অন্তত চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার নগরীর লবণচরা থানার কোবা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন রাজু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তিনি কীভাবে বা কখন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সেটিকে লক্ষ্য করে আবারও গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, রাজু কখন ও কোথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাতে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায় এবং তার পেটে গুলির চিহ্ন ছিল। ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। অ্যাম্বুলেন্সে গুলির বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন বলে জানান।

এদিকে কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, ঢাকায় নেওয়ার পথে কুদির বটতলা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে তারা জেনেছেন। পরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহায়তা চাইলে তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে থানা এলাকা পার করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। গুলি অ্যাম্বুলেন্সে লেগেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট থানা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ গুলির শব্দে অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তবে অন্ধকার ও ভীতিকর পরিবেশের কারণে কেউই স্পষ্টভাবে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি। এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে, পূর্বের শত্রুতা, অপরাধ জগতের সম্পৃক্ততা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না—সেসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকা ত্যাগ করতে না পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, গুলিবিদ্ধ রাজু হাওলাদারের অবস্থা শুরুতে আশঙ্কাজনক ছিল। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, পূর্ব শত্রুতা বা অপরাধ জগতের দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি, তবুও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

৮ শিক্ষকের ‘নজরকাড়া’ অবদান: ৫ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি, পাসের হার শূন্য!

এএসএম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) : প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম
৮ শিক্ষকের ‘নজরকাড়া’ অবদান: ৫ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি, পাসের হার শূন্য!

শিক্ষক আছেন ৮ জন, অথচ মোট এসএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন! অঙ্কের হিসাবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে দেড়জনেরও বেশি শিক্ষক। এত অঢেল শিক্ষকমণ্ডলী থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পাওয়া গেল শুধুই বিশাল এক ‘গোল্লা’। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে এমনই এক নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক ঘটনা।

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে যে পাঁচজন ছাত্রী অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টির সার্বিক ফলাফল দাঁড়িয়েছে শতভাগ ফেল—পাসের হার একদম শূন্য।

শিক্ষক ৮, পাস ০: ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য যেখানে আটজন শিক্ষক নিয়োজিত, সেখানে এমন অমানবিক ফল বিপর্যয়ে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা। এটি নিছক কোনো রেজাল্ট নয়, বরং বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চরম গাফিলতি ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার নগ্ন ছবি উন্মোচন করেছে। স্থানীয়দের স্পষ্ট অভিযোগ—শ্রেণিকক্ষে সঠিক তদারকি ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যূনতম মনোযোগ না দেওয়ার কারণেই এই চরম বিপর্যয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির পাঠদানের অনুমতির কথা নিশ্চিত করলেও ফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

প্রশাসনের কড়া চাবুক: শোকজের সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া এই নজিরবিহীন ফলকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন।

দেবীদ্বারে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাদাত জুটের শ্রমিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
দেবীদ্বারে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাদাত জুটের শ্রমিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দুই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্যের তদন্ত দাবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দুই শ্রমিক নেতাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও প্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার জাফরপুর এলাকায় সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন থেকে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ এবং ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ভুয়া বা ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মামুনুর রশিদ ও সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক সেবনসংক্রান্ত কথিত ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শুধু ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে না, এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা ফয়সাল, জরিনা বেগম, আমেনা আক্তার, জুবায়ের আহমেদ, শিউলি আক্তারসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক ও তার সহযোগী মোস্তফা, সোহেল মিয়া, আবু মিয়া, আবদুল হাকিমসহ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক বলেন, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রচারের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও কোনো পোস্ট করা হয়নি। তবে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সত্য না হলে কি আর মানুষ প্রচার করে?”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

দেবীদ্বারে অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, মেধার গুণগত মান বাড়াতে হবে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
দেবীদ্বারে অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, মেধার গুণগত মান বাড়াতে হবে

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা পাসের হার বাড়ানোর চেয়ে তাদের মেধা ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. লেফটেন্যান্ট মো. সফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষার গুণগত মানের পরিবর্তে সংখ্যার হিসাব ও পাসের হারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার চেয়ে শুধু সনদ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ছোটনা মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমরা শিক্ষার গুণগত মানের চেয়ে সংখ্যার বা পাসের হারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। কারিগরি শিক্ষার চেয়ে সনদের গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদলাতে হবে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে মেধার গুণগত মান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে মেধার গুণগত মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাসের হার বা সনদের চেয়ে দক্ষতা ও প্রকৃত শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে হবে। সব ধরনের হানাহানি ও বিদ্বেষ ভুলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সফিউল্লাহর সঞ্চালনায় অভিভাবক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সৈয়দ আহমেদ খান।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের দায়িত্ব, পড়াশোনার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালিদ হোসেন, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, কাজী মো. ফরহাদ হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মোজাম্মেল হক, মো. নবী নেওয়াজ, সাফায়েত হোসেন, আনিসুর রহমান, সফিউল আলম ভূঁইয়া, সার্জেন্ট মেজর নজরুল ইসলাম, সুমি রানী পাল, বিল্লাল হোসেন, এনামুল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে বিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সমাবেশে অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়।

×
CLOSE X
ENG