

এনসিপির সমাবেশে বাধ্য যেতে করা এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বাদ দিয়ে জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জনসম্মুখে দোষীদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বর্তমান শিক্ষার্থী সাইফুল বারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ ও সজিব আহমেদসহ আরও অনেকে।

সরকারের পৃষ্টপোষকে এনসিপি- ছবি : আজকের কথা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, “মঙ্গলবার সকালে এনসিপির নেতারা বিদ্যালয়ে এসে কোনো অনুমতি ছাড়াই ক্লাস থেকে আমাদের বের করে সমাবেশে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের সঙ্গে নেতাদের কথাকাটাকাটি হয়, পরে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনো ভোট দিতে পারি না, তাহলে আমাদের কেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধ্য করা হবে? আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।”
প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করছি। তারা যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেব।”
এ বিষয়ে জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন, “আমাদের কেন্দ্রীয়ভাবে এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। তবে আমরা এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর হবে না বলে আশ্বস্ত করছি।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের শামছুল হক তোরণ থেকে এনসিপির “জুলাই পদযাত্রা” শুরু হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে নিরালা মোড়ে পথসভায় মিলিত হয়। এতে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব তাসনিম জারা, সারোয়ার নিভা, ডা. তাজনুভা জাবিনসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের প্রায় ৯ শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এনসিপির সমাবেশে বাধ্য যেতে করা ঘিরে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা এখন শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।