

এনসিপি কক্সবাজার সফর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সি-পার্ল হোটেলে মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতাদের মতে, এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের আরেকটি ন্যাক্কারজনক প্রচেষ্টা।
জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত কথিত ‘গণঅভ্যুত্থানের’ বার্ষিকীতে এই সফর প্রশ্নের মুখে পড়ে। ৫ আগস্ট সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (BG-433) ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান এনসিপি নেতারা। তাঁরা সি-পার্ল হোটেলের ৫ম তলায় গোপনে অবস্থান নেন।
🔴 কারা ছিলেন:
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক), সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক), হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক), তাসনিম জারা (জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব), খালেদ সাইফুল্লাহ (যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাসনিমের স্বামী)।

ইউনূস সরকার সংকট: কক্সবাজারে পিটার হাসের সঙ্গে এনসিপির গোপন বৈঠক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলেই মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা কালো গাড়িতে হোটেলে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন। যদিও এনসিপি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে, তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা এ ঘটনায় রীতিমতো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন,
“এনসিপি কোনো রাজনৈতিক দল না, এরা সরকারের ছত্রছায়ায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। কক্সবাজারে মার্কিন দূতাবাসের লোকজন এনে গোপনে বৈঠক করার অর্থ কী?”
তিনি আরও বলেন,
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান আর বিদেশি কূটনীতিকের সহানুভূতি নিয়ে এরা আবারও দেশকে অস্থির করতে চায়। আমরা রাজপথে এর প্রতিবাদ জানাব।”
পুলিস কী বলছে?
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন,
“হোটেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বা গোপন বৈঠকের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”
তবে হোটেল স্টাফদের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিশেষ নিরাপত্তায় একজন বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি ছিল।
এনসিপি কক্সবাজার সফর নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি শুধু গুজব নয়, বরং এটি দেশের ভেতরে একটি সাংবাদিকতা এড়িয়ে পরিচালিত বিদেশি প্রভাবিত চক্রান্তের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি এবং সাধারণ মানুষ এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।