ক্ষমতা যার, গণমাধ্যমও তার: সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নাকি নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা?

“ক্ষমতা যার, গণমাধ্যমও তার।
এটা যেন দেহ ব্যবসার মতো।
টাকা যার, দেহ ব্যবসায়ী নাড়িও তার হাতে বাঁধা।”
— আলিফ মাহমুদ
এই কথাগুলো শুধু একটি হতাশার প্রতিফলন নয়—এটি একটি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ। একসময় যেসব পত্রিকা ছিল সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর, আজ অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীনদের প্রচারণার যন্ত্রে।
গণমাধ্যম: চতুর্থ স্তম্ভ না বাণিজ্যিক হাতিয়ার?
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর কাজ হচ্ছে সত্য প্রকাশ করা, রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা, দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মালিকানা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতার কারণে অনেক গণমাধ্যমই এখন ক্ষমতাসীন বা ধনী ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সাংবাদিকের কলম এখন কিনে নেওয়া যায়?
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। কিন্তু যখন কোনো সাংবাদিককে তার মালিক, বিজ্ঞাপনদাতা বা রাজনৈতিক দলের ইশারায় খবর লিখতে হয়, তখন সেই সাংবাদিকতা আর স্বাধীন থাকে না। অনেক তরুণ সাংবাদিক আজ স্বপ্ন নিয়ে পেশায় প্রবেশ করলেও কিছুদিন পরই বুঝতে পারেন—সত্য বলা মানে চাকরি হারানোর ঝুঁকি নেওয়া।
অর্থনীতি ও বিজ্ঞাপনের ফাঁদে গণমাধ্যম
বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম এখন টিকে আছে সরকারি-বেসরকারি বিজ্ঞাপন এবং কর্পোরেট অর্থায়নের ওপর। এই নির্ভরতা গণমাধ্যমকে স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দেয়। কারণ, যেই ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিজ্ঞাপন দেয়, সংবাদও চলে তাদের ইচ্ছেমতো।
সামাজিক গণমাধ্যম: বিকল্প না বিভ্রান্তি?
অনেকেই এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে দেখছেন। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকের মত প্ল্যাটফর্মে অনেকেই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছেন। তবে ভুল তথ্য, গুজব, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণাও এখানে বাড়ছে, যা গণসচেতনতা তৈরি না করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে সাংবাদিক নির্যাতনের উর্বর ভূমি।
এ বিষয়ে জানতে ক্লিক করুন
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা এবং হয়রানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন, তাদের টার্গেট করা হয়। ২০২৫ সালের মে মাসেই দেখা গেছে, ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রভাবিত।
উপসংহার:
আলিফ মাহমুদ যখন বলেন, “ক্ষমতা যার, গণমাধ্যমও তার”, তখন তিনি কেবল একটি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন না—তিনি আমাদের চোখ খুলে দিতে চাচ্ছেন। আমরা যদি সত্যিকারের স্বাধীন গণমাধ্যম চাই, তাহলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায়, সাংবাদিকতা হয়ে উঠবে শুধু এক ধরনের দেহ ব্যবসা, যেখানে সত্য বিক্রি হবে টাকার বিনিময়ে, এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে।
দুই পরিবারের করুণ মৃত্যু
লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে দুর্যোগের শঙ্কা

বান্দরবানের লামায় উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
এক নজরে লামায় পাহাড় ধসে যা ঘটেছে
- লামায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসে ৫ জন নিহত।
- নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৩ সদস্য রয়েছেন।
- টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
- জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন— আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার বাসিন্দা মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২), তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান (৪), একই এলাকার মো. জুয়েল (৩৪) এবং তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে আজিজনগর ইউনিয়নের পাগলাছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
একই সময়ে কাছাকাছি আরেকটি স্থানে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর বিধ্বস্ত হলে স্বামী-স্ত্রী নিহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগর এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিলেও, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার অনেক বাসিন্দা এখনও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।
গেজেট প্রকাশ, কার্যক্রম শুরু
মুরাদনগর ভেঙে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা, সদর দপ্তর খামারগ্রামে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করেছে সরকার। খামারগ্রামে সদর দপ্তর, অনুমোদন পেয়েছে ২৪টি সরকারি দপ্তর ও ২৩৮ জন জনবল।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠন করেছে সরকার। নতুন উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায়। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের বিশেষ অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন উপজেলাটি গঠন করা হয়েছে।
১০ ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা উপজেলা
নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠিত হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে। ইউনিয়নগুলো হলো— শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর (পূর্ব), পূর্বধইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং টনকী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে। ফলে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২৪ সরকারি দপ্তরের অনুমোদন
নতুন উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ২৪টি সরকারি দপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, উপজেলা প্রকৌশল অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২৩৮ জন জনবল নিয়োগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪০ জন কর্মকর্তা ও ১৯৮ জন কর্মচারীসহ মোট ২৩৮ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ খালেদ হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দ্রুত অফিস স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং অনুমোদিত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের মাধ্যমে মুরাদনগরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পলাতক জীবন শেষ
দেবীদ্বারে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিন বছর পর গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সুজন মিয়া (৩২)কে তিন বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রাজামেহার গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুজন মিয়া উপজেলার রাজামেহার গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই ১০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করে (জিআর নং-৮৬/২৩)।
মামলার বিচার শেষে আদালত সুজন মিয়াকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ তিন বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পলাতক ছিলেন।
দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সুজন মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
























