বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

স্বামীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ এএম
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি : সংগৃহীত

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্বামীর বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী ৩০ জুন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে লেখা পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, পরিবারের এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকতেই তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হচ্ছে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে আমাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে, যা ৩০ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।”

তিনি আরও জানান, তার স্বামী আব্রাহামের শরীরে সম্প্রতি বিরল ধরনের বোন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের চিকিৎসা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে তার পাশে থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের দাবি, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণেও তাকে পদ ছাড়তে হয়েছে।

বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের বিষয়টি বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনায় ছিল। গত মার্চে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তুলসী গ্যাবার্ড তার চেয়ে বেশি নমনীয় অবস্থানে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে এটি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাবিষয়ক পদ।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প সাবেক ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ডকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

পলাতক জীবন শেষ

দেবীদ্বারে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিন বছর পর গ্রেপ্তার

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
দেবীদ্বারে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিন বছর পর গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সুজন মিয়া (৩২)কে তিন বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রাজামেহার গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার আসামি তিন বছর আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেপ্তার।
২০২৩ সালে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
আদালতের রায়ের পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজ বাড়ি থেকে ধরা পড়ে।
দেবীদ্বার থানার পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: দেবীদ্বার থানা পুলিশ

গ্রেপ্তার সুজন মিয়া উপজেলার রাজামেহার গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই ১০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করে (জিআর নং-৮৬/২৩)।

মামলার বিচার শেষে আদালত সুজন মিয়াকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ তিন বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পলাতক ছিলেন।

দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সুজন মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইজিপিপি প্রকল্পে নানা প্রশ্ন

আদিতমারীতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, শ্রমিক তালিকায় বিএনপি নেতার মোবাইল নম্বর

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
আদিতমারীতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, শ্রমিক তালিকায় বিএনপি নেতার মোবাইল নম্বর

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতাধীন একটি সরকারি খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পে নীতিমালা উপেক্ষা করে শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর (ভ্যাকু) মেশিন ব্যবহার, শ্রমিকের নামে ভুয়া তথ্য সংযোজন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রকল্পের মাস্টার রোলে একাধিক শ্রমিকের নামের পাশে স্থানীয় বিএনপি নেতা, ব্যবসায়ী ও স্কুল শিক্ষকের মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

  • ইজিপিপি প্রকল্পে শ্রমিকের বদলে এক্সকাভেটর (ভ্যাকু) মেশিন ব্যবহারের অভিযোগ।
  • ৩৮ লাখ টাকার খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
  • মাস্টার রোলে শ্রমিকদের নামের পাশে স্থানীয় বিএনপি নেতা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকের মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
  • অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে পুরো মজুরি পরিশোধ করা হয়নি।
  • অভিযোগের বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের ঝড়িরপাড় থেকে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ঢুসেরডেরা পুল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, দুই ইউনিয়নের ৯০ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কাজ কায়িক শ্রমে সম্পন্ন হওয়ার কথা।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, খালের তলদেশ যথাযথভাবে খনন না করে এক পাশের পাড় উঁচু করা হচ্ছে। ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন অংশে মাত্র ১৭ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, তালিকায় ৯০ জন শ্রমিকের নাম থাকলেও প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন কাজে উপস্থিত থাকেন। বাকি শ্রমিকরা অনুপস্থিত থাকলেও তাদের নামে নিয়মিত বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের মাস্টার রোল পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতিদরিদ্র শ্রমিক শ্রী অনন্ত কুমার রায়ের নামের পাশে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপনের মোবাইল নম্বর (০১৭৪০৫৮৮৭০৫) উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে শ্রমিক ইসাহাক আলীর নামের পাশে পুরাতন ভেলাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী সোবহান আলীর মোবাইল নম্বর (০১৭১৮২৯২৭২৮) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও তালিকায় আরও কয়েকজন স্কুল শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর সংযুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

একাধিক শ্রমিকের অভিযোগ, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা প্রথমে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাব খুলে দেন। পরে কাজ দেওয়ার কথা বলে আগাম ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়।

শ্রমিক রঞ্জিত কুমার, বেলাল হোসেন ও মোহর আলী জানান, তারা মাত্র ১৭ দিন কাজ করার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপনের নির্দেশে ব্যাংকে যান। সেখানে তাদের দিয়ে একসঙ্গে তিনটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং প্রত্যেককে মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। অথচ সরকারি হিসাবে প্রতিদিনের হাজিরা ৫০০ টাকা। বাকি টাকা পরে দেওয়া হবে বলে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তা পাননি বলে দাবি করেন তারা। অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও কেউ কেউ এখনও কোনো অর্থই পাননি।

শ্রমিক তালিকায় নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, “তালিকায় কে বা কারা আমার মোবাইল নম্বর দিয়েছে, তা আমার জানা নেই।”

অন্যদিকে প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সাইদা বেগম বলেন, “আমি নামমাত্র প্রকল্প সম্পাদক। প্রকল্পের সব কাজই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপন দেখভাল করেন। চেক বা কাগজপত্রে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে তিনি এসে ধমক দিয়ে আমার কাছ থেকে অনেক স্বাক্ষর নিয়ে যান।”

প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মোফা বলেন, “আমি সভাপতি হলেও প্রকল্পের কাজ দেখার কোনো সুযোগ পাইনি। জোরপূর্বক মাস্টার রোলে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. এনামুল হক বলেন, “সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং কাজের অগ্রগতি দেখেই বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে কোনো শ্রমিক যদি নির্ধারিত পারিশ্রমিক না পেয়ে থাকেন এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগগুলো স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বন্যার শঙ্কায় নদীপাড়বাসী

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি, প্লাবিত হতে শুরু করেছে চরাঞ্চল

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি, প্লাবিত হতে শুরু করেছে চরাঞ্চল
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কুড়িগ্রামে আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। অল্প সময়ের ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার। মাত্র তিন ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে। অর্থাৎ তিন ঘণ্টায় নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে জেলার অন্যান্য নদ-নদীতেও পানি বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিস্তা তীরবর্তী ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া বলেন, নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় ইতোমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে রাতের মধ্যেই আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামে বন্যা ও নদীভাঙন এখন নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর সর্বস্ব হারালেও তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

×
CLOSE X