1. nagorikit@gmail.com : Mohammad Shariful Alam Chowdhury :
  2. sharifulchowdhury81@gmail.com : administrator :
  3. : Temp User : Temp User
দুই হাত হারিয়েও হাকিম দেখাচ্ছেন আলোর পথ | দৈনিক আজকের কথা  
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
  •                      
ব্রেকিং নিউজ:
নিষিদ্ধের দিনেই উল্টো স্রোত,ফেসবুকে বিক্ষোভের ঝড়, আ’লীগে যোগ দিয়ে শক্ত বার্তা হারুন আল রশিদের! কুমিল্লা মেডিকেলে শিশুদের ‘গাদাগাদি’—দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল! নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনা: মুরাদনগরের বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু ভুয়া ওয়ারেন্টে সাংবাদিক আটক—১৮ ঘণ্টা পর আদালতে মুক্তি, দেবীদ্বারে তোলপাড়! ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, ৫৯ কোটির সাম্রাজ্য—পাসপোর্ট কর্মকর্তার সম্পদে চাঞ্চল্য! ৩ মাসে ২৫০ আগুন: কুমিল্লায় ফায়ার স্টেশন সংকটে বাড়ছে কোটি টাকার ক্ষতি ইউনূস ও আসিফ নজরুল ইস্যুতে তোলপাড়—নাঈম নিজামের পোস্টে উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া ১০ বছরেও বিচারহীন তনু হত্যা—অবশেষে ৩ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের সুদখোর ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলো ইতালির উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি, ১০৫ আরোহীর মধ্যে নিখোঁজ অন্তত ৭১

দুই হাত হারিয়েও হাকিম দেখাচ্ছেন আলোর পথ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫

দুই হাত হারিয়েও হাকিম দেখাচ্ছেন আলোর পথ

সংক্ষিপ্ত হাইলাইটস

  • আট বছর বয়সে মাইন বিস্ফোরণে দুই হাত হারান আব্দুল হাকিম
  • এখন নীলফামারীর এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক
  • মুখ ও কাঁধ দিয়ে লেখেন, নেন ক্লাস
  • সমাজের অবহেলা পেরিয়ে হয়েছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক

খেলনা ভেবে হাতে নিয়েছিলেন মাইন। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারদিক। ছিটকে পড়ে ছোট্ট শরীরটি। সেই বিস্ফোরণে উড়ে যায় দুই হাত, ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি চোখ। বয়স তখন মাত্র আট।
সেই শিশু আজ নীলফামারীর এক স্কুলের শিক্ষক, শত মানুষকে দেখাচ্ছেন আলোর পথ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বড়রাউতা ইউনিয়নের বড়রাউতা গ্রামের আব্দুল হাকিম এখন দক্ষিণ বড়রাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শারীরিক অক্ষমতা নয়, মানসিক দৃঢ়তা—এই বিশ্বাসেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের জীবন ও সাফল্য।


অদম্য হাকিমের গল্প

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। খেলনা ভেবে মাইন হাতে নিয়েছিলেন ছোট হাকিম। বিস্ফোরণে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। চিকিৎসা হলেও হারানো হাত আর ফিরে আসেনি। ক্ষতবিক্ষত চোখও আগের মতো দেখতে পারে না।

তবু হাকিম থেমে থাকেননি। সমাজের অবহেলা আর কটুবাক্য পেরিয়ে শুরু করেন নতুন জীবন। মুখ ও কাঁধের জোরে লেখেন ব্ল্যাকবোর্ডে, নেন ক্লাস, পরিচালনা করেন পরীক্ষা।
দুই হাত না থাকলেও তিনি আজ তাঁর বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা


💬 হাকিমের কথা

আব্দুল হাকিম বলেন,

“মানুষ বলত আমি কিছুই করতে পারব না, ভিক্ষা করে খেতে হবে। কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম, আমি দেখিয়ে দেব, আমি পারি।”

নিজের ইচ্ছাশক্তি ও অদম্য মনোবল দিয়েই তিনি আজকের এই জায়গায় পৌঁছেছেন।


👨‍👩‍👧‍👦 সুখী পরিবার ও সামাজিক স্বীকৃতি

দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক হাকিম এখন পরিবারসহ সুখে আছেন। চাকরির পাশাপাশি ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও সময় দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,

“আমি ছোটোবেলা থেকেই দেখি, হাকিম স্যার হাত ছাড়া সব কাজ করেন। তিনি অদম্য মানুষ।”

আরেকজন বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন,

“তিনি শুধু শিক্ষক নন, আমাদের সবার অনুপ্রেরণা।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান জানায়,

“স্যার সব সময় সময়মতো স্কুলে আসেন, নিজে লেখেন, আমাদের শেখান।”

সহকর্মী শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন,

“হাকিম স্যার দায়িত্ববান ও পরিশ্রমী। সব কাজ নিখুঁতভাবে করেন।”


🏛️ প্রশাসনের নজরে

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন,

“আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রয়োজন হলে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে”।

শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন
 

কপিরাইট © [২০২৫] দৈনিক আজকের কথা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতাভুক্ত। প্রকাশকের ছাড়া কোনো অংশ পুনঃপ্রকাশ, বিতরণ বা সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয়।

যোগাযোগ   আমাদের সম্পর্কে   শর্তাবলি ও নীতিমালা