নারায়ণগঞ্জে জামানত হারালেন ৩৬ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৬ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটের কম পেলে তার জমা দেওয়া জামানত (অর্থ) বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের ৩৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ৫ জন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ৫ জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১০ জন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ৭ জন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাত প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন।
এ নির্বাচনে আসনটিতে ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৮১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯৭ ভোট বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৪ ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ৩২ হাজার ৪৮টি।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসনটির ৫ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন ২১৯, জাহাজ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল ৪৬৩, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ ৭ হাজার ১৮৬, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দন ২৬১ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের প্রার্থী মো. রেহান আফজাল ২০৭ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনেও ৫ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। আসনটিতে ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩ ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মানে ২৮ হাজার ৭৫৯ ভোট।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ ৫ হাজার ২৬৫, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান খান ১৮ হাজার ৭৪৪, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. হাফিজুল ইসলাম ৩৫০, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয় ২২৭ এবং গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ১৪২ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৬৪ ভোট বাতিল হওয়ায় ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২ ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ৪১ হাজার ৬০৭ ভোট।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসনটির ৯ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০ হাজার ৩৭৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ৪ হাজার ৫৯৬, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস ৬৩৮, জনতার দলের আবদুল করীম মুন্সী ২৮৫, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর আরিফুল ইসলাম ১৩৭, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মসীহ ১৪ হাজার ২২৩, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহজাহান ১ হাজার ১৯৩, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ৭৬৯ এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী ৩১৪ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যার মধ্যে ১০ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
আসনটির মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৫৯ ভোট বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৭২৯ ভোট বৈধ বলে গণ্য হয়। এই বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হলো ৩২ হাজার ৮৪১।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে চলেছে। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইছমাঈল হোসেন কাউছার ১৬ হাজার ৭৪৬, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)-এর মোহাম্মদ আলী ১১ হাজার ৩২৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ৪ হাজার ৭৭৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন ৮০০, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ইকবাল হোসেন ৪৭৯, জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা ৮১৭, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভূঁইয়া ১০৬, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর মো. সুলাইমান দেওয়ান ৩৭০, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. সেলিম আহমেদ ৬৪৩ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সেলিম মাহমুদ ২৮২ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে চলেছে।
এ নির্বাচনে আসনটিতে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮৯৩ ভোট বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫৭ ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হচ্ছে ৩৩ হাজার ২৯৫ ভোট। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।
তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মো. মাছুম বিল্লাহ ৭ হাজার ৭০৮, সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ ১ হাজার ৫৭৫, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম ১ হাজার ২৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. নাহিদ হোসেন ৬৪৩, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী ৪ হাজার ৬৫০, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ৩৭০ এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা ২৪২ ভোট পেয়েছেন।
দেবীদ্বারে ১৫০ জনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ৩০ রোগীকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং চক্ষুরোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনে প্রায় ১৫০ জন চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছানি আক্রান্ত ৩০ জন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিজস্ব পরিবহনে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের হাইলাইটস
- 👁️ দেবীদ্বারের বাকসার উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির।
- 💊 প্রায় ১৫০ জন চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
- 🏥 ছানি আক্রান্ত ৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
- 🤝 বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতাল এবং সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
- 🌿 সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে এ ধরনের চক্ষু চিকিৎসা শিবির পর্যায়ক্রমে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজক।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলার বাকসার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দেবীদ্বার গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি (বিআইসিও) এবং কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চোখ পরীক্ষা, ছানি রোগী শনাক্তকরণ, বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যাদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল, তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেন ডা. মো. রায়হান মাহমুদ আশিক, শাহাদাৎ হোসেন, সমীর রঞ্জন দাস, আব্দুর রায়হান, আব্দুল হান্নান, মো. আবির ও দুলাল মিয়াসহ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহান।
আয়োজক ও সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার অসচ্ছল ও বয়স্ক মানুষের অনেকেই অর্থাভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় সফলভাবে এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
৪০ দিন বন্ধ উৎপাদন
গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

গ্যাস সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। টানা ৪০ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কম সার উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনের হাইলাইটস
- গ্যাস সংকটে টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
- ৮.৫০ লাখ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭,৬৪,৫৩৫ মেট্রিক টন।
- লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯.৪০ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গ্যাসের সংকটের কারণে দীর্ঘ ৪০ দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অর্থবছর শেষে মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম।
তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব এই আধুনিক কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হলেও চলতি অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদন কমে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টনে নেমে আসে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
তবে এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, এমনকি অতিক্রম করাও সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান।
এর আগে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম ঘোড়াশাল সার কারখানা এবং ৩০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম পলাশ সার কারখানা ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একীভূত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করা হয়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত কারখানাটির উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, যা দেশের সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।






















