১৬ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রা
কুমিল্লায় কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান সংগ্রহ শুরু
কুমিল্লায় সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ছবি : আজকের কথা
কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কুমিল্লায় সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। চলতি মৌসুমে জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে মোট ১৬ হাজার ২৪৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ৩৪ হাজার ৫০৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৪ হাজার ৭৬৫ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৬৫ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ।
গত ৩ মে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৬৫ টাকা দরে ক্রয় করবে।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের নিবন্ধন করা হচ্ছে। নিবন্ধিত কৃষকরা নির্ধারিত খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করলে তাদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করা হবে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে মনিটরিং টিম কাজ করছে। কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে উৎসাহিত করছে।
খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে মুরাদনগরে ১ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন, নাঙ্গলকোটে ১ হাজার ৩৮৭, বরুড়ায় ১ হাজার ৩৩৩ এবং দেবিদ্বারে ১ হাজার ২৪২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষক আব্দুর রব জিলানী বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম। সরকারিভাবে বেশি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন। তবে এ বিষয়ে আরও প্রচারণা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আদর্শ সদর উপজেলার কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকদের যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজ প্রক্রিয়ায় ধান বিক্রি করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
কুমিল্লার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ড বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
জেলার কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল সংগ্রহ করলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আরও উৎসাহ পাবেন।

























