মুরাদনগরে মবের ভয়! লাশ পড়ে আছে মর্গে, দাফনে কেউ নেই, মামলা করতেও সাহস নেই কারও!
মুরাদনগরে মা-ছেলে মেয়ে হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র তিনটি জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং প্রমাণ করে দিয়েছে, ভয়ের সংস্কৃতিতে কোথাও মানবতা টিকে নেই। ছবি : সংগৃহিত
মুরাদনগরে মবের ভয় এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে গণপিটুনিতে নিহতদের লাশ মর্গে পড়ে থাকলেও দাফনে কেউ এগিয়ে আসছে না, সাহস করছেনা স্বজনদের কেউ মামলা করতে। কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে মা ও দুই সন্তানকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি, এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও নিরবতা।
শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তিনজনের ময়নাতদন্ত শুরু হয়। কিন্তু পরিবার বা গ্রাম থেকে কেউ মরদেহ গ্রহণ করতে না আসায় তা মর্গেই পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “মব এখনো এলাকায় সক্রিয়, কেউ সাহস পাচ্ছে না।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কড়ইবাড়ি গ্রামে মোবাইল ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে শতাধিক লোক মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয় এবং রোকসানা আক্তার রুবি (৫৮), তার ছেলে রাসেল (৩৫) ও মেয়ে জোনাকিকে পিটিয়ে হত্যা করে। গুরুতর আহত রুবির আরেক মেয়ে রুমা (২৫) এখনো কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বাঙরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, পরিবার এখনও মামলা করেনি। কেউ না এলে পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া ও চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল প্রথমে রুবিদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যান। সেখানে উত্তেজনা তৈরি হলে তারা সরে পড়েন এবং পরে শতাধিক লোক হামলায় অংশ নেয়।
দল করলে ‘গণজমায়েত’, না করলে ‘গণপিটুনি’!
নিহতদের কেউ রাজনীতি করতেন না বলেই হয়তো চারদিকে এমন নিরবতা। ব্যানার নেই, ফেসবুকে কান্নার পোস্টও নেই। তিনটি প্রাণের মূল্য কী তবে শূন্য?
মুরাদনগরে মবের ভয় এখন একটি প্রমাণ—দলীয় ছায়া ছাড়া জীবনও নিরাপদ নয়, মৃত্যুতে সঙ্গীও মেলে না।
মবের সর্বশেষ আপডেট-
লতি বছরের শুরুর ৫ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৪১টি মব হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৪১টি মব হামলায় ২৮৯ জন আহত হয়েছে।
এই ৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মব হামলার ঘটনা ঘটেছে মার্চে। মৃত্যুও এই মাসে বেশি ছিল। মার্চে ৩৯টি ঘটনায় উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে নিহত ১৩ ও আহত ৯৬।



























