শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

সাত মাসে ২৫৯ শিশু খুন, নির্যাতনও বেড়েছে

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ৯:০৫ এএম
সাত মাসে ২৫৯ শিশু খুন, নির্যাতনও বেড়েছে
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

শিশু খুন ও নির্যাতন, সাত মাসে ২৫৯ শিশু খুন, নির্যাতন বেড়েছে ভয়াবহভাবে

শিশু খুন ও নির্যাতন নিয়ে দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—মাত্র সাত মাসে বাংলাদেশে ২৫৯ শিশু খুন হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, একই সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৪০ শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩০৬ শিশু, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ সহায়তা চেয়ে ফোন এসেছে ২৬ হাজার ১০০টি, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৭ হাজার বেশি। মোট কলের সংখ্যা বেড়েছে ১০৩ শতাংশ, যা শিশু সুরক্ষা নিয়ে গভীর সংকেত দিচ্ছে।

শিশু খুন ও নির্যাতন

খুনের ভয়াবহ চিত্র

এ বছরের ২৫৯ শিশুহত্যার মধ্যে ১৪ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের, নিখোঁজ থাকার পর লাশ উদ্ধার হয়েছে ৩৫ শিশুর।
২০২৪ সালের একই সময়ে খুন হয়েছিল ৩২৫ শিশু, আর ২০২৩ সালে সংখ্যা ছিল ২৯২।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের হাতে। মা, বাবা, সৎমা, আত্মীয়, প্রতিবেশী—এমনকি ভাইবোনের শ্বশুরও হত্যার ঘটনায় জড়িত। তুচ্ছ পারিবারিক কলহ থেকে যৌন নির্যাতন—সবই খুনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কিছু নৃশংস ঘটনা

ভালুকা, ময়মনসিংহ: ১৩ জুলাই চাচার দা-কুপিতে খুন মা ও দুই শিশু।

মাগুরা: বোনের শ্বশুরের ধর্ষণে আট বছরের শিশুর মৃত্যু, আসামির মৃত্যুদণ্ড।

মুন্সীগঞ্জ: সংসারের অভাবে মা নিজের যমজ দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা।

ঢাকা, দক্ষিণ বনশ্রী: মায়ের হাতে তিন বছরের শিশুকন্যা খুন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যৌন নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রী হত্যা।

সিরাজগঞ্জ: সৎমায়ের হাতে সাড়ে সাত বছরের শিশু খুন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা, মানসিক অসুস্থতা, মাদকাসক্তি ও দাম্পত্য টানাপোড়েন শিশু নির্যাতনের বড় কারণ।

ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক: খুনের বড় অংশ পরিবারের ভেতরে ঘটছে।

আবু আহমেদ ফয়জুল কবির: এটি শুধু আইন ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ব্যর্থতা।

ড. খায়রুল চৌধুরী: রাষ্ট্রকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে শিশু সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

কী করতে হবে

পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি।

শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি।

আইন প্রয়োগে কঠোরতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচারণা।

শিশু খুন ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এখন জরুরি। নইলে এই ভয়াবহ প্রবণতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এলাকার খবর

বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান

চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

জালালুর রহমান | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।

চা পাতা তুলতে গিয়ে শ্রমিকদের সামনে অজগর সাপ।
আতঙ্কে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
উদ্ধারের পর অজগরটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান

দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

গোরস্তানে প্রতিবাদে হামলা

দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করার জেরে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত শহিদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম (৭০) কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের এক পাশে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে দেখতে পান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দেবীদ্বারের কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত রামিম (১৭) সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দিয়েছেন।

আহত সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কবর খুঁড়তে গিয়ে কয়েকজনকে কবরস্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক কিশোর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।

দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

×
CLOSE X