ফেসবুক পোস্ট ঘিরে কুমিল্লায় তাণ্ডব: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আগুনে পুড়ল ঘরবাড়ি, আহত অন্তত ১০

“পুরনো বিরোধের জেরে মেঘনায় রণক্ষেত্র, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন”
কুম মেঘনা উপজেলায় ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৈশারচর গ্রামের সালাম গ্রুপ ও মনোয়ার মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার সালাম গ্রুপের মামুন নামে এক যুবক ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওইদিনই উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরই জের ধরে সোমবার বিকেলে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মনোয়ার মেম্বার গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষ সালাম মিয়ার বসতবাড়ি ও একটি বিল্ডিংয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগানোর ঘটনায় সালাম গ্রুপের লোকজন বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে উদ্ধার করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিনের শত্রুতার জের ধরেই এই সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতিতে চরম তোলপাড়: তারিখহীন চিঠিতে বিলুপ্ত সব ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ওই উপজেলা বিএনপির অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির মূল প্যাডে কোনো প্রকার ‘তারিখ’ ও ‘স্মারক/সূত্র নম্বর’ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলকে আরও গতিশীল ও পুনর্গঠন করার লক্ষ্যেই অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি একযোগে বিলুপ্ত করা হলো। বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে কোনো প্রকাশনার তারিখ উল্লেখ না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দাপ্তরিক চিঠিতে তারিখ না থাকা সাংগঠনিক নিয়মরীতির স্পষ্ট ব্যাঘাত ঘটায়। অন্যদিকে, কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানানো হয়েছে, দলকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে শীঘ্রই নতুন প্রক্রিয়ায় এসব কমিটি পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জসিম উদ্দিন ও সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বর্তমানে তারা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরিকাল পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সব অবসর-সুবিধা পাবেন।
বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সদস্য। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস এবং চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেওয়ার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ কারণেই নির্বাচনটি বিভিন্ন মহলে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
কুমিল্লায় ভুয়া কর পরিদর্শক সেজে নির্বাচন অফিসে, আটক ২ প্রতারক

ভুয়া কর পরিদর্শক পরিচয় এবং জাল সনদ ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের চেষ্টা করতে গিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর ছোটরা এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন, চান্দিনা উপজেলার বামতিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং দেবীদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শামছুল হক।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদ নিজেকে কর পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অফিসে আসেন। একই সময়ে শামছুল হক জাল সনদ ব্যবহার করে তার এক স্বজনের এনআইডি সংশোধনের চেষ্টা করেন। তাদের আচরণ ও উপস্থাপনায় সন্দেহ হলে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করলে তাদের আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















