গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয়
পবিপ্রবির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। ছবি : আজকের কথা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টোমোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
শিক্ষাজীবন ও গবেষণায় সমৃদ্ধ পথচলা
১৯৭৭ সালের ২৮ অক্টোবর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. হেমায়েত জাহান। শিক্ষানুরাগী পরিবারে বেড়ে ওঠা এ শিক্ষাবিদের পিতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আ.ফ.ম. শাহজাহান ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম, আইনজীবী ও সমাজচিন্তক। তাঁর মা বেগম লতিফা জাহান ছিলেন একজন শিক্ষিকা।
উচ্চশিক্ষায় তিনি এন্টোমোলজি (কীটতত্ত্ব) বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা Kyungpook National University থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণাক্ষেত্রে তাঁর কাজ কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
শিক্ষকতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে
২০০৩ সালে পবিপ্রবির এন্টোমোলজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ড. হেমায়েত জাহান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি দায়িত্বশীল, গবেষণামুখী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। পাঠদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বেও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয়
নতুন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ড. হেমায়েত জাহান।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। আমরা এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রযুক্তি, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমান গুরুত্ব পাবে।”
তাঁর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়ন, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
উপকূলীয় গবেষণায় গুরুত্ব
ড. হেমায়েত জাহান মনে করেন, পবিপ্রবির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো উপকূলীয় অঞ্চলভিত্তিক গবেষণা। জলবায়ু পরিবর্তন, ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণানির্ভর সমাধান তৈরিতে পবিপ্রবিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষক রাজনীতি ও নেতৃত্ব
শিক্ষক সমিতি, ইউট্যাবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন নীতিবান, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল প্রশাসক।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধই একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষকে আলাদা করে।”
নতুন প্রত্যাশার সূচনা
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তিনি সামনে রেখেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন, দায় এড়াতে ইউএনও-পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে। একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করা এই বীরের শেষ বিদায়ে গার্ড অব অনার না পাওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার দায় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। এক পক্ষের দাবি, প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ গার্ড অব অনার দিতে পারেনি; অন্য পক্ষের বক্তব্য, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।
৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়।
মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী আশা করেছিলেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা এই বীরকে শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সালাম ও গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই তাঁকে দাফন করা হয়।
মরহুমের ভাই শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আমরা আজ লজ্জিত। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।’
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি এসে অন্তত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটিও করা হয়নি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাঁদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ সদস্যদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ লাইন থেকে বিউগল বাজানোর দলও এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে তাঁরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মুন্নী ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা থেকে মরদেহ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এ কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ সময় তিনি বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি যেন ব্রাহ্মণপাড়া তথা কুমিল্লার ‘মান-সম্মানের প্রশ্ন’ হিসেবে সংবাদে তুলে ধরা না হয়।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাঁদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব কেন দেখা দিল? পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই চিরবিদায় নিতে হলো মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সন্তানকে।
দারোরায় বাজিমাত করালেন সৈয়দ কায়েস মীর, ২১ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণে অনুমোদন

বি-স্ট্রং প্রকল্পে মুরাদনগরের ১০ সড়ক ও একাধিক কালভার্ট-ড্রেনের উন্নয়ন, দারোরা ইউনিয়নেই প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের প্রত্যাশা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণে প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ বাস্তবায়িত হবে।
স্থানীয়ভাবে এ উন্নয়ন উদ্যোগের পেছনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের আপন মামা, জননেতা সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর প্রচেষ্টায় দারোরা ইউনিয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এলজিইডি হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা থেকে জারি করা দাপ্তরিক স্মারক অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসনে পৃথক দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই প্যাকেজে মোট ২০ দশমিক ৮২৯ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনের পাশাপাশি বক্স কালভার্ট ও ইউ-ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম প্যাকেজের আওতায় ১১ দশমিক ৪০১ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ৫ দশমিক ৪০ মিটার বক্স কালভার্ট/ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজে রয়েছে খুরুইল বাজার-শিদ্বেশ্বরী বাজার-দারোরা ইউপি-দারোরা বাজার-রায়তলা সড়ক, চন্দানাইল-সালপা-পান্নাই সড়ক (পিপুরিয়াকান্দা সড়ক হয়ে), পুষ্করুনিপার সড়ক (শহীদ রামিউদ্দিন সড়ক), দৌলতপুর-ধনপতিখোলা সড়ক এবং নাঈরপাড়-আলখাল সড়ক।
দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ৯ দশমিক ৪২৮ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ১ দশমিক ৮০ মিটার ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ তালিকায় রয়েছে পালাসুতা (দারোরা ইউপি)-সুবিলাড়চর (বুরারচর বাজার) সড়ক, শুশুন্ডা বাজার-দারোরা বাজার সড়ক (পায়ব রোড হয়ে), সুরানন্দি-নিয়ামতকান্দি আরএইচডি সড়ক, চাপিতলা-বাইড়া সড়ক এবং পিপুরিয়া-রোয়াচলা-দানাপাতিখোলা সড়ক।
বিশেষ করে দারোরা ইউনিয়নের খুরুইল বাজার-শিদ্বেশ্বরী বাজার-দারোরা ইউপি-দারোরা বাজার-রায়তলা সড়ক, পালাসুতা-সুবিলাড়চর সড়ক, শুশুন্ডা বাজার-দারোরা বাজার সড়ক এবং সুরানন্দি-নিয়ামতকান্দি সড়কের উন্নয়ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দারোরা বাজারের উন্নয়নেও প্রায় কোটি টাকার বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্যাকেজের কাজ শেষ করতে ৫৪০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের জন্য কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে অনুমোদিত দাপ্তরিক স্মারকে প্রকল্পগুলোর নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়নি। প্রাক্কলন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হবে।
এদিকে সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের প্রচেষ্টায় দারোরা ইউনিয়নে সড়ক, কালভার্ট ও বাজার উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়নের গ্রামীণ যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসাধারণের দৈনন্দিন চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকালের স্নিগ্ধতায় চা-বিস্কুটের অমৃত ছোঁয়া: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি

সোনালী টোস্টে চায়ের চুমুক: যান্ত্রিকতার ভিড়ে এক টুকরো স্নিগ্ধ সকাল
জীবনের যান্ত্রিকতা আর কর্মব্যস্ততার ভিড়ে আমরা অনেকেই নিজেদের জন্য একটু সময় বের করতে ভুলে যাই। অথচ সকালের স্নিগ্ধ আলোয় কিংবা একান্তে কাটানো কিছু মুহূর্ত পুরো দিনের জন্য আমাদের শক্তি জোগাতে পারে। আজ খুব ভোরে নিজ হাতে তৈরি এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা চা আর মুচমুচে টোস্ট বিস্কুট দিয়ে এমনই এক সুন্দর ও প্রাণবন্ত সকালের শুরু হয়েছে।
বাঙালি সংস্কৃতিতে সকালের নাশতায় কিংবা আড্ডায় চা-বিস্কুট এক চিরচেনা ও আরামদায়ক নাম। ঘুম জড়ানো ভোরে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। বিশেষ করে সোনালী রঙের মুচমুচে টোস্ট বিস্কুট যখন চায়ের ছোঁয়া পেয়ে নরম হয়ে আসে, তখন তা কেবল একটি খাবারই থাকে না, বরং এটি হয়ে ওঠে স্মৃতির পাতায় ডুব দেওয়ার এক জাদুকরি মাধ্যম।
ব্যস্ততম সাংবাদিকতা ও সংবাদ পরিচালনার নানা ঝক্কিঝামেলা আর খবরের অন্তহীন দুনিয়ায় ডুব দেওয়ার আগে এমন একটি গোছানো ও ঘরোয়া সকালের নাশতা মনকে সতেজ ও ফুরফুরে রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে। কাচের বয়াম থেকে পছন্দের টোস্ট বিস্কুট তুলে নিয়ে চায়ের পেয়ালার পাশে সাজিয়ে রাখার এই ছোট আয়োজনটুকু আমাদের শিকড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
আধুনিকতার ছোঁয়া যতই লাগুক না কেন, খাঁটি বাঙালিিয়ানার এই ছোট অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের হাজারো কাজের মাঝেও এমন ছোট্ট কিছু মুহূর্ত নিজের জন্য বাঁচিয়ে রাখাটাই আসল জীবনবোধ।































