গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয়
পবিপ্রবির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। ছবি : আজকের কথা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টোমোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
শিক্ষাজীবন ও গবেষণায় সমৃদ্ধ পথচলা
১৯৭৭ সালের ২৮ অক্টোবর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. হেমায়েত জাহান। শিক্ষানুরাগী পরিবারে বেড়ে ওঠা এ শিক্ষাবিদের পিতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আ.ফ.ম. শাহজাহান ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম, আইনজীবী ও সমাজচিন্তক। তাঁর মা বেগম লতিফা জাহান ছিলেন একজন শিক্ষিকা।
উচ্চশিক্ষায় তিনি এন্টোমোলজি (কীটতত্ত্ব) বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা Kyungpook National University থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণাক্ষেত্রে তাঁর কাজ কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
শিক্ষকতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে
২০০৩ সালে পবিপ্রবির এন্টোমোলজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ড. হেমায়েত জাহান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি দায়িত্বশীল, গবেষণামুখী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। পাঠদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বেও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যয়
নতুন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ড. হেমায়েত জাহান।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। আমরা এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রযুক্তি, গবেষণা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমান গুরুত্ব পাবে।”
তাঁর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়ন, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
উপকূলীয় গবেষণায় গুরুত্ব
ড. হেমায়েত জাহান মনে করেন, পবিপ্রবির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো উপকূলীয় অঞ্চলভিত্তিক গবেষণা। জলবায়ু পরিবর্তন, ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণানির্ভর সমাধান তৈরিতে পবিপ্রবিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষক রাজনীতি ও নেতৃত্ব
শিক্ষক সমিতি, ইউট্যাবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন নীতিবান, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল প্রশাসক।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধই একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষকে আলাদা করে।”
নতুন প্রত্যাশার সূচনা
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তিনি সামনে রেখেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কৃষি উন্নয়নে অংশীদারত্বের আহ্বান
বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে আয়োজিত এ কংগ্রেসে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে টেকসই উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাজিতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসির উদ্দিন মুন্সী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আলোচনা সভায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, কৃষি উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রকল্পের কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
উন্নয়ন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা
সদরপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বারোপ
ফরিদপুরের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টায় সদরপুর উপজেলা পরিষদের দরবার হলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এর আগে দিনব্যাপী সফরে জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি কুমার নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও নদী পুনর্খনন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য অনুদানের চেক প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক কার্যক্রমের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদার বিষয়গুলো জেলা প্রশাসকের সামনে তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শোনেন এবং জনসেবাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
৩ জেলার যোগাযোগ বন্ধ
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ল আলুভর্তি ট্রাক, ৩ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে আলুভর্তি ট্রাক পড়ে যাওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের একটি আলুভর্তি ট্রাক ভোররাতে দেবীপুর বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ব্রিজটি ধসে পড়ে। এতে ট্রাকটি সরাসরি খালে পড়ে যায়। তবে চালক ও হেলপারের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ব্রিজটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।
এই দুর্ঘটনার পর পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় শুধু পিরোজপুর নয়, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খালে পড়ে থাকা ট্রাক উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পিরোজপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, “বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ট্রাক উদ্ধার ও ব্রিজ সংস্কারের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।
এদিকে বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।















